অব্যবস্থাপনায় ভরপুর নাজিরহাট-চট্টগ্রাম রেল পথঃদেখার কেউ নেই

অব্যবস্থাপনায় ভরপুর নাজিরহাট-চট্টগ্রাম রেল পথঃদেখার কেউ নেই
এম.বেলাল উদ্দীন আকাশ,সাইফুল ইসলাম এবং সুজন ত্রিপুরা,নাজিরহাট রেল স্টেশন ঘুরে৷৷ দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নাজিরহাট লাইনে রেল স্টেশন চলমান থাকলেও ১৯৮২সনে এরশাদ সরকার তা বন্ধ করে দিলে সাধারণ জনগণ ও যাত্রীদের আন্দোলনে চট্টগ্রামের বার বার নির্বাচিত সফল সিটি মেয়র প্রয়াত মহিউদ্দীন চৌধুরীর একান্ত প্রচেষ্টায় একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর পুনরায় চালু হতে থাকে সকলের প্রাণের দাবী রেল৷ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার আমলেই যোগ হয় শাটল ট্রেনের পাশা-পাশি অতিরিক্ত সু উন্নত ডেমু ট্রেন৷শাটল এবং ডেমু মিলে বর্তমানে ৪টি ট্রেন ৮ বার আসা-যাওয়া করে৷ সম্প্রতি সিটিজি পোস্ট ডটকমের প্রতিনিধিরা নাজিরহাট-চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে সরজমিনে পরিদর্শন করলে দেখা যায় স্টেশনে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা।জানা যায় নাজিরহাট, কাটিরহাট, সরকারহাট রেল স্টেশন আরো কয়েকটি স্টেশনে গণশৌচাগার নেই। সুপিয় পানির ব্যবস্থা নেই, যার কারণে ট্রেন যাত্রী সব সময় ভোগান্তির শিকার হন। এদিকে নাজিরহাট রেল স্টেশনে ওয়েটিং রুম থাকা সত্ত্বেও সব সময় তালাবদ্ধ থাকে।যাত্রী সাধারণ এটি ব্যবহার করতে পারছেনা।তাছাড়া গণশৌচাগার না থাকায় ট্রেন যাত্রী রীতিমত সমস্যায় পড়ে।সূদুর মসজিদের টয়লেটেই প্রাকৃতিক কাজ সারতে হয়৷ নাজিরহাট রেল স্টেশন থেকে নাজিরহাট ঘাট স্টেশেনর দূরত্ব এক কিলোমিটার। নাজিরহাট বাজার থেকে নাজিরহাট স্টেশন আসার জন্য রিক্সা ভাড়া ২০টাকা লাগে এবং নাজিরহাট হতে চট্টগ্রাম স্টেশন অাসতে ২০ টাকা ট্রেন ভাড়া লাগে। সব মিলে প্রতিটি যাত্রীর মাথাপিছু ব্যয় হয় ৪০ টাকা। যাত্রীরা রেল কর্তৃপক্ষের কাছে এ মর্মে দাবি জানিয়েছেন যে যত দ্রুত সম্ভব নাজিরহাট ঘাট স্টেশন চালু করার জন্য । এর ফলে যাত্রীসাধারণের ৪০ টাকার পরির্বতে লোকাল ট্রেনে ১০ টাকা ডেমু ট্রেনে ২০ টাকা করে চট্টগ্রাম বতলী স্টেশন পর্যন্ত যেতে পারবেন বলে যাত্রী সাধারণের দাবী৷ অপরদিকে নাজিরহাট রেল স্টেশন অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রামে শাখা লাইনে এটি একটি খুব সুন্দর ও সু-পরিসর রেলস্টেশন। কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারনে এটি গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। যেখানে সেখানে গবাদি পশু মল মুত্র ত্যাগ করার কারনে সুন্দর পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তাই উক্ত রেল স্টেশনের সৌন্দর্য্য রক্ষার্থে কাঁটা তারের বেড়া দেয়ার দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অন্যদিকে নাজিরহাট শাখা লাইনে ট্রেন যাত্রী সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। তাই আরো ট্রেন সংখ্যা ও বগি সংখ্যা বৃদ্ধির দাবী জানান যাত্রী সাধারণরা৷ এদিকে মোঃ মোজাহার নামে এক যাত্রীর অভিযোগ অনেকই টিকিট না করেই ট্রেনে উঠে যায় মাঝপথে টিকিট চেক কর্মকর্তার নিকট ধরা পড়লে তিনি নিজ পকেটে টাকা গুনে রাখলেও সেই টাকার বিনিময়ে যাত্রী সাধারণকে টিকিট দেয়না অনেক সময়৷এতে করে সরকার হারাচ্ছে প্রচুর রাজস্ব৷ফরিদ আহমদ নামক অন্য যাত্রী বলেন আপনারা যতই লিখেননা কেন রেলওয়ের দূর্নীতি কখনো যায়নি আর যাবেওনা৷এ ব্যাপারে নাজিরহাট রেলওয় স্টেশন মাস্টার কাজী মোহাম্মদ শাহদাত হোসেন ও রেলওয়ে একাউন্টেন্ট গিয়াস উদ্দীন বলেন নাজিরহাট কলেজের শিক্ষার্থীরা টিকিট না নিয়েই সমস্যা করে বেশী আর টিকিট চেক কর্মকর্তা ট্রেনের টিকিট বিহীন যাত্রীদের নিকট হইতে বিনা রশীদে টাকা নিচ্ছেন বিষয়টি কেউ অভিযোগ করেনি কখনো৷আর কলেজ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিনা টিকিটে ভ্রমনের জন্য প্রতিনিয়ত বাকবিতন্ডা হয়৷এখানে কোন প্রশাসন নেই যে আমাদের রক্ষা করবে৷ অভিযোগ অস্বীকার করে নাজিরহাট কলেজের স্নাতক শ্রেণীর ওয়াহিদ চিসতি নামক এক ছাত্র বলে অনেক সময় টিকিট চেক না করার দরুন টিকিট নেয়না আর বেশীর ভাগ ছাত্রই কাটিরহাট স্টেশন পর্যন্ত যাবে তাই অতিরিক্ত ভাড়া দাবী করার জন্যে মাঝে মাঝে বাকবিতন্ডা হয়৷এ জন্যে আমাদের ছাত্রদের জন্য নির্দিষ্ট একটি ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া উচিত৷ এদিকে শুধু মাত্র সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে দিন দিন রেল খাতে ঘাটতি দেখা যাওয়ার কারনে অনেক রেল স্টেশন বন্ধ হয়ে গেল এমন নজির অহরহ৷ তাই নাজিরহাট রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষের দাবী চট্টগ্রামের মতো জনবল বৃদ্ধি, পুলিশ-আনচার ছাড়া কখনোই এ অব্যবস্থাপনা ও লঘু দূর্নীতি সমূহ রোধ করা সম্ভব নয়৷ তারপরও যাত্রীদের লিখিত অভিযোগ পেলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*