আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো.শাহজাহান

আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো.শাহজাহান

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম,ফটিকছড়ি ;; পুরো নাম মোহাম্মদ শাহজাহান। ১৯৬৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ফটিকছড়ির সমিতির হাট ইউনিয়নের ছাদেক নগর ওখারা গ্রামে জম্ম গ্রহন করেন তিনি। পিতা মোহাম্মদ সুলতান আহমদ (মুক্তিযোদ্ধা) । মাতা নূর নাহার আহমদ। তাঁর পিতা মরহুম মোহাম্মদ সুলতান আহমদ (মুক্তিযোদ্ধা) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সমিতির হাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি সভাপতি পদে ছিলেন এবং ১৯৭৩-৭৪ সালে সমিতিরহাট ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী গুলি করে হত্যা করে। এছাড়া তাঁর শ্বশুর ছালেহ আহমদ চৌধুরী ফটিকছড়ি থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সভাপতি এবং মুক্তিযোদ্ধা। তিনি রোসাংগিরি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর দুই চাচা ফরিদ আহমেদ ও আবদুস সারাম তালুকদার ও মামা ওবায়দুল আকবরও মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৮৮ সালে তাঁর ভাই মোহাম্মদ শাহনেওয়াজকে জামায়াত শিবিরের কর্মীরা ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে।
৮ ভাই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ছোট ভাই মোহাম্মদ শানওয়াজ বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া অপর ছোট ভাই মোহাম্মদ শাহজালাল জনি বর্তমানে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে তিনি সমিতির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আজীবন সদস্য। বঙ্গবন্ধু ইনস্টিটিউট এন্ড লাইব্রেরী ফটিকছড়ি চট্টগ্রাম এর সভাপতি। চট্টগ্রাম সিনিয়র ক্লাবের আজীবন সদস্য। এছাড়া দি চিটাগাং কো-অপারেটিভ হাউজিং লিমিটেড, নাসিরবাদ এর সদস্য। আশির দশকে (১৯৮৪-৮৬ সালে) চট্টগ্রামের হাটহাজারী উজেলার কাটিরহাট ক্রীড়া পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাংলাদেশে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা রয়েছে।
রাজনৈতিক জীবনে ১৯৭৮-৮১ সালে কাটিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি। ১৯৮৩-৮৪ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নাজিরাট কলেজ শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। ১৯৮৪-৮৬ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নাজিরাট কলেজ শাখার সভাপতি। ১৯৮৭-৮৮ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির ১ নম্বর সদস্য (ঐ কমিটির সভাপতি ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির বর্তমান প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাসান মাহমুদ)। ১৯৯০-৯১ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যকরী সংসদ (মাঈনুদ্দিন-ইকবাল কমিটি)’র সদস্য। বর্তমানে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ।
১৯৯১ সালে বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে ৪৭টি মামলা নিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমেরিকায় পাড়ি জমান তিনি। প্রবাসে থাকাকালীন টেক্সিক্যাব চালিয়ে যে আয় হতো তা থেকে একটি অংশ ফটিকছড়ি আওয়ামী রাজনীতিকে প্রতিষ্ঠিত এবং সুসংগঠিত করতে অর্থ যোগান দিতেন নির্যাতিত এ নেতা। ১৯৮৪ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত-এনডিপি জাতীয় পাটির্র ৪৭টি মামলার শিকার হন । এ সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা আওয়ামী লীগের সভাপতি তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তাঁর সাথে একই ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগকে সুসংগঠিত করতে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৩ সালে নিউইর্য়কের ব্রুকলিন সিটি আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামীলীগকে প্রতিষ্ঠা করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেনের সময় রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সময় যখন নেত্রী কারাগারে ছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রে নেত্রীর পক্ষে জাতিসংঘ এবং হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ মিছিলসহ দলীয় প্রত্যেকটি রাজনৈতিক কর্মসূচীতে নেতৃত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
ফটিকছড়ির আওয়ামীলীগকে কালোবাজারি ও হুন্ডি ব্যবসায়ীমুক্ত করতে নেতৃত্বে আসছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো.শাহ জাহান। ফটিকছড়ির আওয়ামী ছাত্র রাজনীতিতে আশির দশকের পর রাজপথ দাবিয়ে বেড়ানো এ ছাত্র নেতা বর্তমান ছত্রভঙ্গ ফটিকছড়ির আওয়ামীলীগকে সংগঠিত করতে কাজ করবেন বলে জানান।
আগামী সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে কাজ করছেন তিনি। সম্প্রতি এ প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তুলে ধরেন ফটিকছড়ির আওয়ামী রাজনীতি নিয়ে তাঁর ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা। শাহজাহান বলেন,১৯৮৫ সালের পর থেকে ৯১ সাল পর্যন্ত প্রত্যেক দিন যে সংগঠনের জন্য ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছি সে সংগঠন এখন আর নেই। যারা কালোবাজারি,হুন্ডি ব্যবসা করে আবার কেউ ধর্মান্ধ রাজনীতি থেকে আওয়ামীলীগে এসে এমপি নির্বাচিত হয়ে দলের ভিতরে প্রবেশ করে আওয়ামীলীগের বুকে ছুরিকাঘাত করেছে।
তিনি বলেন,তাদের কাছে আওয়ামীলীগের আদর্শ উদ্দেশ্য নীতি কিছুই নেই। তাঁরা শুধুমাত্র ক্ষমতার লোভে আওয়ামীলীগে এসেছে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার এবং শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কোন লক্ষ্য উদ্দেশ্য তাদের মধ্যে নেই। তারা তৎকালীন সময়ে দলে এসেই ছাত্রলীগের ৪/৫ জন কর্মীকে হত্যা করিয়েছে। যারা বর্তমানে ফটিকছড়ি আওয়ামীলীগের নেতৃত্বে আছে তাদের কারোরই আওয়ামীলীগের প্রতি আন্তরিকতা নেই।
এসব নেতারা দলের মধ্যে জামায়াত বিএনপি’র প্রেতাত্মাদের এনে দলের ক্ষতি করছে। তাদের কারনেই আজকে দলের এ অবস্থা। এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে হলে প্রকৃত আওয়ামীলীগদেরকে নিয়ে আবার নতুন করে সংগঠনকে সাজাতে হবে।
ফটিকছড়ি আওয়ামীলীগে নেতৃত্ব সংকটের বিষয়ে শাহজাহান বলেন, শিক্ষিত এবং আত্মবিশ^াসী নেতৃত্বের অভাবে এমনটা হচ্ছে। যারা এমপি হয়েছেন তারা নিজের আখের গুছিয়েছে। আওয়ামীলীগের রাজনীতি এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাদের কোন পরিকল্পনা ছিলনা। তিনি বলেন,যাদের কাছে নিজের অস্তিত্বের কোন দাম নেই তাদের কাছ থেকে ফটিকছড়িবাসি কোন প্রাপ্তি আশা করতে পারেনা। জনগনের প্রতি তাদের কোন জবাব দিহীতা ছিলনা।
ফটিকছড়ি আওয়ামীলীগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে দেশে ফিরে আসি। তখন থেকে চেষ্টা করেছি পুরনো আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের নিয়ে সংগঠন গোছানোর । প্রকৃত আওয়ামী নেতাকর্মীরা এখন আবার আশার আলো দেখছে। দলের সংকট থেকে উত্তরনের চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন,ফটিকছড়ির নেতৃত্ব দেয়ার সুযোগ পেলে ফটিকছড়িকে একটি মডেল ফটিকছড়ি হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবো। শিক্ষিতদেরকে রাজনীতিতে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে নির্যতিত এ আওয়ামীলীগ নেতা বলেন,আমি বঙ্গবন্ধুর একজন পরিক্ষিত সৈনিক। আমার পরিবারসহ সকলেই মুক্তিযোদ্ধার পরিবার। নেতৃত্বের সুযোগ পেলে সন্ত্রাস, ইয়াবা,চাঁদাবাজমুক্ত ফটিকছড়ি গড়ে তুলবো। সরকারী বরাদ্ধের সম বন্টন,সম উন্নয়ন করবো।
স্কুর কলেজ,মাদ্রাসা ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামে গঞ্জে প্রত্যেক জায়গায় শিক্ষার আলো পৌঁছে দেব। জামায়াত, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ বিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবো। আপামার জনতাকে সাথে নিয়ে একটি মডেল ফটিকছড়ি গড়ে তুলবো।
তিনি বলেন,বেকার কর্মসংস্থানের জন্য টেকনোলজিক্যাল শিল্প নগরী গড়ে তোলা হবে। আমি পাওয়ার জন্য নয়,দেওয়ার জন্য রাজনীতিতে ফিরে এসেছি। বিগত সময়ে আওয়ামীলীগকে একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছি। এ ছাড়া ১৯৮৬ সালে সংসদ নির্বাচনে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলার মাধ্যমে আওয়ামীলীগ প্রার্থী বর্তমান সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরীকে সাংসদ নির্বাচিত করি।
১৯৮৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে তৎকালীন লোভী, নিষ্ক্রিয়, স্বার্থবাদী ও সমঝোতাকারী কতিপয় নেতাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এটিএম পেয়ারুল ইসলামকে উপজেলা চেয়ারম্যানকে নির্বাচিত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করি।
আওয়ামীলীগের তৎকালীন বিত্তবান নেতাদের থেকে কোনো সহযোগীতা না পেয়ে বাধ্য হয়ে তৎকালীন ব্যবসায়ী সাবেক সাংসদ মরহুম রফিকুল আনোয়ারকে ১৯৮৭-৮৮ সালে রাজনীতিতে নিয়ে আসি।
১৯৯১ সালে ফটিকছড়িতে আওয়ামীলীগের অর্ন্তকোন্দল চরমে পৌঁছলে নেত্রী তরিকত ফেডারেশনের বর্তমান চেয়ারম্যান (তৎকালীন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ যোগদানকারী) নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীকে মনোনয়ন দেন। এ সময় দলীয় সকল নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে আমার নেতৃত্বে নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীকে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত করি।
১৯৮৮ সালের জানুয়ারী মাসে চট্টগ্রামে তৎকালীন ৮ দলীয় জোটের মিছিলে নেত্রীকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে স্বৈরশাসক এরশাদ সরকারের পুলিশ ও বিডিআর। সে সময় আমিসহ সাবেক মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি মরহুম এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবি সমিতির সহযোগীতায় নেত্রীকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসি।
ছাত্র জীবনের কাজের স্মৃতিচারন করতে গিয়ে এ আওয়ামীলীগ নেতা বলেন, শাহজাহান বলেন, ১৯৮৫ সালে ৩১ ডিসেম্বর নাজিরহাট কলেজে এইচএসসি টেস্ট পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কলেজের ছাত্রলীগ কর্মীদের দেখতে গেলে আমাকে চারদিক থেকে জামায়াত শিবিরের কর্মীরা আক্রমণ করে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে । এসময় আমার সাথে থাকা তৎকালীন নাজিরহাট ছাত্র সংসদের ক্রীড়া সম্পাদক রশিদুল আলম রুবেলকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ঘাতকরা “মরে গেছি” মনে করে আমাকে কলেজের অধ্যক্ষের রুমে ফেলে চলে যায়। এলাকায় আমার জানাজার নামাজের জন্য মাইকিং করা হয়। পরবর্তীতে আমরা শিক্ষকরা জীবিত দেখে আমাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে আমি প্রাণে বেঁচে যাই।
তিনি বলেন, ১৯৮২ সালে নাজিরহাট কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে ভর্তি হয়। তখন বলতে গেলে সবাই ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়ন ও জাসদ ছাত্রলীগ করতো। কলেজে আমরা অল্প সংখ্যক ছাত্র ছাত্রলীগ করতাম, সে সময় প্রতিকূল অবস্থায়ও শুধুমাত্র নিজের যোগ্যতা ও সাহসিকতার কারণে এক বছরের মধ্যে ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করি এবং পরে আমরা একটা শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলি।
১৯৮৪ সালে এইচএসসি পাশ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ছাত্র শিবির ছাত্র সমাজ (এরশাদ) এবং সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছাত্র সংগঠন এনডিপি বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে আমাকে বাধা দেয়।
প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে আমার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরী হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় ছাত্রশিবির, ছাত্র সমাজ মিলে ক্যাম্পাস ও হল থেকে আমাকে বের করে দেয়।
তখন বাধ্য হয়ে আবার নাজিরহাট কলেজে ডিগ্রীতে ভর্তি হয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করি। সে সময় নাজিরহাট কলেজে ছাত্র শিবির এ জাসদ ছাত্রলীগের আখড়া ছিলো।
আমার নেতৃত্বে ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বরে নাজিরহাট কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগের পূর্ণ (আমিন-কুদ্দুস প্যানেল) ৮ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৮৭-৮৮ সালে আমরা নেত্রীকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাই।
এর পর ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগে মাস্টার্সে ভর্তি হওয়ার পর তৎকালীন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব ও অসীম কুমার উকিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি সুজনের নেতৃত্বে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ি।
যুক্তরাষ্ট্রে গেলেও প্রাণের ফটিকছড়ির আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতাম। তাদেরকে টাকা পয়সা দিয়ে সাহায্য সহযোগীতা করা ছাড়াও ফটিকছড়ির রাজনীতির নিয়মিত খোঁজখবর নিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করতাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*