আজ ২৭ রমজান

আজ ২৭ রমজান

স্টাফ রিপোর্টার ঃ   আজ ২৭ রমজান গত বছর তোকে নিয়ে কত ব্যস্ত ছিলাম। বাসায় ফেরার আনন্দ নিয়ে সি এন জি দূর্ঘটনা।আল্লাহ্‌ সহায় ছিল তাই আমাদের কিছুই হয়নি।তারপর বাকি রাস্তা আমি সি এন জি দিয়ে আসিনি।আসলাম ট্রে নে। স্টেষনে তোমার কত বায়না ছিল বই কিনব। খেলনা কিনব, তারপর এক সময় বললে আনারস খাবে। আমি বললাম বাবা তুমি কখন ও আনারস খাওনি দেখনি। তাহলে খাবে কি করে।তবুও জেদ আমি সারা স্টেষন খুজে হয়রান।একদিক টেনশন ট্রেনে তো অনেক ভিড় হবে কি ভাবে কি হবে সেটার ভাবনা। তুমি তো গরম সহ্য করতে পারনা। কেমন করে বাসায় যাব। সি এন জি তে ভয় লেগেগেছে। তার মধ্যে আনারসের জন্য কান্না সব মিলিয়ে কেমন লাগছিল।স্টেশনের কত মানুষ তোমায় কোলে নিতে চায়ছিল। তোমাকে শান্ত করতে চাই ছিল। কোন কিছুতেই তোমাকে শান্ত করতে পারছিলাম।এরপর এক পুলিশ ভাইয়া এলো তোমাকে কিছুটা হলে ও শান্ত করতে পারল। এর সে ১ ঘন্টা পর আনারস নিয়ে ফিরলো যখন নাজাফ কে দিল ওর কানের কাছে ফিসফিস করে বললাম আমার মান স্মমান শেষ করে দিলে নাজাফ। বাসায় চল কত আনারস খাবে দেখবো।তখন আমার দিক তাকিয়ে একটু মিষ্টি হেসে বলল খাব। তখন সে পুলিশ বলল এই নাও খাও।আর বকা দুতে বারন করল। মুখে দেওয়ার সাথে সাথে মেয়ে আমার বলে উঠল এটা পচা খাব না আনারস খাব।আমরা কত বুঝলাম যে এটা আনারস । সে কোন ভাবেই মানবে না। তারপর ট্রেনে ভিড়ের মাঝে তোমার খুব কষট হচছিল তাই না বাবু।এর পর দুজন লোক উঠে বলল বাবু কে ভালো করে বসিয়ে দিন।আর বাসা থেকে তোমার বাপ বাপ বার বার ফোন দিয়ে বলছিল নাজাফের যেন কষট না হয়।তোমার নানু ভাইয়া, নানু মনি ও মনি একি কথা তোমার যেন কষট না হয়।কষট হচ্ছিল আমার। তখন তুমি কত মৃষটি করে কথা বলছিলে সবাই শুনছিল।আমি তোমাকে বাধা দিচ্ছিলাম।আর আজ বলছি বাবু কথা বল অনেক কথা বল । তারপর যখন বাসায় নানু ভাইয়া নিয়ে এলেো এসেই তো মনি নানুমনি আমি এসেছি। যখন সবাই তোমায় কোলে নিয়ে আদর দিতে ব্যস্ত আমার কথা হয়ত ভুলে গেছে সবাই তখন কি বলে উঠলে তুমি সলন পচা বকা দিয়েছে।এর সবাই আমায় মিলে না শুনে বকা দেয়া। কত সুন্দর ও আনন্দ ময় ছিল সোনা পাখি সেই ঈদেরছুটির দিনগুলি।তোমাকে কত ব্যস্ততা। কোথায় যাব কি করব। তুমি কখন ঘুমাবে আমরা মেহেদি লাগাব।আর তুমি ঘুম থেকে উঠে বলবে তোমরা বিতিটিয়া দিয়েছো আমিও দিব। দিয়ে দিতে চায়তাম না তুমি ছোট বলে।বাট সবার ঝারি শুনে দিয়ে দেওয়া হত একটু না লাগাতেই দৌড়ে চলতে হাত ধুয়ে রং দেখার জন্য।আজ বাবা সেই বিতিটিয়া এমনি রাখা আছে কোন রং নেই। মলিন হয়ে আছে সব।কোন বাহনা নেই। নেই তোমার মটু মামা পাতলু মামার দেখার আয়োজন। আর কেউ মটুপাতলুকে মামা বলে ডাকে না। আজ আমি নিস্ব হয়ে সেসব স্মৃতি গুলো মনে করে নিরব চোখের জল ফেলি।আমি কেন আমরা সবাই। কত জায়গা থেকে তোমার জন্য ঈদের কেনা কাটা করা হত।গতবার ঈদে তো তুমি বললে বাপ বাপ জামা লাগবে না জামা আছে তো।সত্যি বাবা তোর জামা লাগবে না।সেদিন বুঝিনি আজ বুঝি তোকে হারিয়ে। সারাবাড়ি আজ হাহাকার করছে নেই সেই ঘরে ফেরার আয়োজন। আছে শুধু সবার আড়ালে সবায় চোখের পানি ফেলা কত বাচ্চা রা চারপাশে কত আনন্দ করছে।খেলা করছে। আর তুমি সোনা পাখি আমার নিরব কবরে। তোমার নাম সারাদিন নেওয়া হয় বাট নাজাফ সোনা বলে আর ডাকা হয় না।খেলনা গুলো মন খারাপ করে আছে আমি বলেছি ওদের মন খারাপ না করতে। তুমি আসবে ওদের নিয়ে খেলবে। আমি তো কিছুই চায়নি যা পেয়েছি তা নিয়ে তো ভালো ছিলাম।সব থেকে বড় পাওয়া তুমি ছিলে আমার পূর্ণতা। আমি তো খুব লাকি ছিলাম।তুমায় ছাড়া থাকতে পারি না সোনা।খুব খারাপ লাগে।মনটা খুব বেইমান কথা শুনে না। তোমায় সারা থাকতে খুব কষট হয়।আল্লাহ্‌ তোমাকে জান্নাতুল ফেরদাউস বাসি করুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*