উখিয়ায় গাড়ী বিড়ম্বনা:মহিলা এনজিওকর্মীদের ভোগান্তি চরমে

উখিয়ায় গাড়ী বিড়ম্বনা:মহিলা এনজিওকর্মীদের ভোগান্তি চরমে
উখিয়া(কক্সবাজার)প্রতিনিধি: প্রচন্ড রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রতিদিন উখিয়া সী-লাইন গাড়ির জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন নীলা।গন্তব্য কক্সবাজার। একটি এনজিও সংস্থায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভালো বেতনে চাকরি করেন তিনি। বিকেল বেলা আধঘন্টার মধ্যে ছয়টি সী লাইন বাসে ওঠার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। শেষ বাসটাতে উঠতে গেলে হেলপার সিটে নেই বলে নামিয়ে দিল তাকে। সেখানেই কথা হলো তার সঙ্গে। তিনি বলেন, প্রতিদিন এই পথে যাতায়াতে গাড়িতে ওঠা নিয়ে পড়তে হয় বিশাল ঝামেলায়। তার ওপর অসহনীয় যানজট ঠেলে ক্যাম্পে পৌছানোর তিক্ত অভিঞ্জতা তো আছেই। কক্সবাজার থেকে থাইংখালী ক্যাম্প পর্যন্ত রাস্তায় চলাচলের জন্য প্রতিনিয়ত যানবাহনে ভোগান্তি পোহাতে হয়। যানবাহনে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হয় নারী। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মজীবি এনজিও নারী কর্মী বা সাধারণ নারীদের সীমাহীন বিড়ম্বনা নিয়েই যাতায়াত করতে হয়। কক্সবাজারের উখিয়ায় গণপরিবহনের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় কম। অফিস শুরু ও ছুটির সময় এ চিত্রটা আরো করুণ আকার ধারণ করে। চাকরিজীবি এনজিও নারী বা ছাত্রীদের জন্য বাসে ওঠা সেই সময় প্রায় দুরুহ হয়ে যায়। সী লাইনে পুরুষ যাত্রীরা আগে ঠেলে ওঠে বসে পড়ে।নারীদের সিট ছেড়ে দিতে অনাগ্রহ দেখায়। ফলে অনেক কষ্টে গাড়িতে উটতে পারলেও আসন নিয়ে শুরু হয় আরেক যুদ্ধ। পর্যাপ্ত আসন না থাকায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই গন্তব্যে পৌছে অনেক নারী। সী-লাইন ও কক্স-লাইন গাড়িগুলোতে নারী ও শিশুর জন্যে আসন সংরক্ষিত করে দেওয়া নেই। পুরুষ এনজিও কর্মীরা আগে থেকেই বসে থাকে। ফলে তাদের পাশে গিয়ে বসতে হয় এনজিও নারী কর্মীদের। প্রতিদিন এভাবে যাওয়া আসায় নারী-পুরুষের অবাধ মেলা-মেশা দেখে স্থানীয়রা নানা কথা বললেও উপায় নেই বলে জানালেন নারী কর্মীরা। কক্সবাজার সরকারি কলেজের ছাত্রী নিশি। কক্সবাজার মামার বাড়িতে থেকেই পড়া-শুনা করেন। উখিয়ায় নিজ বাড়িতে বেড়াতে এসে দুদিন পর কক্সবাজারে ফিরে যাবেন। বিকেল বেলা সী-লাইন গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন। কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন, আগে নারীদের জন্য ড্রাইভারের পাশে তিনটি সিট ছিল। এখন রোহিঙ্গাদের কারণে যাত্রী বেশি হওয়ায় সেই সিট আর বরাদ্ধ নেই। নারীদের জন্য নির্দিষ্ট সিটে পুরুষরা বসে থাকে আর সিট ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে সুযোগমতো দু-চারটা কথা শুনিয়ে দেয়। এই তো সেদিন একলোক বলছিল, নারী-পুরুষের সমান অধিকার চান, তাহলে আমাদের মতো দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাস করেন। নানামুখী সমস্যার পরও সী-লাইন ও কক্সলাইন বাসে পুরুষ যাত্রীদের সঙ্গে একরকম প্রতিযোগিতা করেই চলাচল করতে হচ্ছে, যা নারীদের জন্য বিব্রতকর এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপমানজনকও। পুরুষের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গাড়িতে উঠতে গিয়ে প্রায়ই নানা ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন নারীরা।বিভিন্ন বাসের হেলপার মহিলা যাত্রিদের তোলার সময় অযথাই গায়ে হাত দিয়ে গাড়িতে ওঠাচ্ছে যেমনটাই করেন না পুরুষ যাত্রীদের ক্ষেত্রে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষিকা জানান, প্রতিদিন গাড়িতে চলাচলের সময় তাকে অপ্রীতিকর নানা ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। একবার এক মহিলা তার সঙ্গে একই বাসে যাচ্ছিলেন এবং তার সঙ্গে ঘটা এক অপ্রীতিকর ঘটনার প্রতিবাদও তিনি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি অবাক হলেন, যখন দেখলেন বাসের লোকেরা উল্টো মহিলাটিকে বলছে, বাসে উঠলে ধাক্কা লাগবেই। অত সমস্যা হলে প্রাইভেটকারে চলাচল করলেই পারেন। গাড়িতে কোনো নারী প্রতিবাদ করলেই তাকে নানা ধরণের কটুক্তি শুনতে হয়। কটুক্তি শুনতে হয় বলেই অনেক নারী প্রতিবাদ করতে চায় না। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও নারী কর্মীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে উখিয়ায় মহিলা বাসের প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*