একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে খুন ও গুমের চেষ্টা ,থানায় জিডি ও ডিসি বরাবর অভিযোগ

একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করায় স্ত্রীকে খুন ও গুমের চেষ্টা ,থানায় জিডি ও ডিসি বরাবর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি ;; বগুড়া জেলার  পাসপোর্ট অফিসের সাবেক সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম প্রতারণা করে একাধিক বিয়ে করেছেন।এ ঘটনার প্রতিবাদ করায়  স্ত্রী রিনা পারভীন ও তার পরিবারের সবাইকে খুন ও গুমের চেষ্টা  চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । রিনা পারভীন বাদী হয়ে থানায় জিডি ও ডিসির বরাবর অভিযোগ দায়ের করার পরেও বিভিন্ন মাধ্যমে খুন ও গুমের হুমকি -ধমকি অব্যাহত রাখেন খোরশেদ আলম ও তার লোকজন ।

অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে , বগুড়া জেলার পাসপোর্ট অফিসের সাবেক সহকারী পরিচালক বগুড়া জেলায় কর্মরত থাকা অবস্থায় রিনা পারভীন এর সঙ্গে পরিচয় হয়। রিনা পারভীনকে  বুঝিয়ে-সুজিয়ে ও মিথ্যা ঠিকানা ব্যবহার করে গত ২০১৬ সালের ২ জুন বিয়ে করেন খোরশেদ আলম। তিনি কাবিনের কপিতে লিখেছেন, আমার পূর্বের কোন স্ত্রী ও সন্তান নেই। এমনকি তার বাবার নামও মিথ্যা লিখেছেন। বিয়ের কিছুদিন পরেই রিনা পারভীন জানতে পারেন খোরশেদ আলমের আরও দুইজন স্ত্রী ও বিবাহিত দুই মেয়ে আছেন। এমনকি বড় মেয়ের ৫/৬ বছরের একটা ছেলে সন্তানও আছে। এছাড়াও অবৈধ পাসপোর্ট তৈরি , ঘুষ বাণিজ্য, বিভিন্ন নারীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়াসহ সব ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে রিনা পারভীন প্রতিবাদ করলে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে একাধিকবার শারীরিক নির্যাতন করে পেটের বাচ্চা নষ্ট করে দেন ।

 এক রাতের আঁধারে পদ্মার পার থেকে কয়েক মাইল দূরে নির্জন স্থানে নিয়ে যান খুন করার উদ্দেশ্যে । অনেক অনুনয় বিনয় করে প্রাণে রক্ষা পান রিনা পারভীন । নিয়মিত খোরশেদ আলম নিজে ও তার লোকজন দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে খুন ও গুমের হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন । বিয়ের পর রিনা পারভীন এর বগুড়া সদর থানার বাসায় থাকতেন খোরশেদ আলম। কিছুদিন পরেই বগুড়া জেলা থেকে মাগুরা জেলায় বদলী হয়ে যান খোরশেদ আলম । মাগুরা যাওয়ার পর থেকে রিনা পারভীন এর কোন খোঁজ খবর নিচ্ছে না খোরশেদ আলম। নিরুপায় হয়ে চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি  মাগুরা ডিসি বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন রিনা পারভীন। খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে মাগুরার ডিসি মোহাম্মদ আতিকুর রহমান চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি রিনা পারভীন এর দরখাস্তটি ঢাকা পাসপোর্ট হেড অফিসের ডিজি  বরাবর পাঠিয়ে দেন। কিন্তু অজ্ঞাক কারণে ডিজি এখন পর্যন্ত কোন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। রিনা পারভীনের অভিযোগের বিষয়টি খোরশেদ আলম অবগত হওয়ার পরে পূর্বের তুলনায়  হুমকি- ধমকির পরিমান  আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ।

একপর্যায়ে নিরাপত্তার জন্য রিনা পারভীন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যাহার নং – ৫০৬, তারিখ – ৭/৩/২০১৮ । এই বিষয়ে তদন্তকারী অফিসার এস আই মকবুল ও ওসি এর সঙ্গে আমাদের অপরাধ অনুসন্ধান টিমের একাধিকবার কথা হয়েছে।  আইনগত ব্যবস্থা  নেয়ার বার বার আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেননি।

আমাদের অপরাধ অনুসন্ধান টিম খোরশেদ আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টার পর যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছি। খোরশেদ আলম তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সব অস্বীকার করেন এবং উল্টো রিনা পারভীনের বিরুদ্ধে অসংখ্য   অভিযোগ করেন । খোরশেদ আলমের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ চাইলে সে এখন পর্যন্ত কোন ধরনের প্রমাণ দেখাতে পারেনি।

আমাদের অপরাধ অনুসন্ধান টিমের দীর্ঘ অনুসন্ধানে খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগের যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ পেয়েছি। সে একজন মিথ্যাবাদী, প্রতারক, চরিত্রহীন ও লম্পট প্রকৃতির লোক। চাকরির সুবাদে ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে তিনি দেশ বিদেশে নামে বেনামে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। তিনি এ পর্যন্ত যত জায়গায় চাকরি করেছেন সব এলাকা থেকেই নারী কেলেঙ্কারি ও ঘুষ বাণিজ্যের অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া গেছে । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, একজন সিনিয়র সাংবাদিক আমাদের অনুসন্ধান টিম কে বলেছেন, খোরশেদ আলম খুবই একজন খারাপ প্রকৃতির লোক। ঘুষ বাণিজ্য ও নারী কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে সব ধরনের অপকর্ম করে যাচ্ছেন খোরশেদ আলম। তিনি আরও জানিয়েছেন, খোরশেদ আলম ফরিদপুর জেলা থেকে বিদায় নেওয়ার সময় ঘুষের ৭৫ লক্ষ টাকা  নিয়েছেন। ফরিদপুর জেলায় পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক থাকা অবস্থায় খোরশেদ আলমের অপকর্মের বিরুদ্ধে ৯ টি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় নিউজ প্রকাশিত হয়েছিল। তার বর্তমান কর্মস্থল সৈয়দপুর জেলায়।

চাঁদপুর জেলার  শাহারাস্তী থানার  চিতোষী  গ্রামের মৃত্যু মফিজুল হক এর পুত্র মোঃ খোরশেদ আলম। কিন্তু তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভুয়া নাম ঠিকানা ব্যবহার করেন। এমনকি আমাদের অপরাধ অনুসন্ধান টিম কে তিনি বলেছেন, তার গ্রামের বাড়ি বরিশাল জেলায়। এছাড়াও তিনি ঘুষের টাকার বিনিময়ে সবাইকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। তিনি প্রকাশ্যেই সবাইকে হুমকি দিয়ে বলেন, আমার অনেক টাকা আছে তাই আমাকে কেউ কিছুই করতে পারবে না। এমনকি আমাদের অপরাধ অনুসন্ধান টিমকেও মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছেন।

অতি শীঘ্রই খোরশেদ আলমকে আইনের আওতায় এনে কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকার শান্তিপ্রিয় লোকজন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*