এখনও অনিবন্ধিত অনেক রোহিঙ্গা

এখনও অনিবন্ধিত অনেক রোহিঙ্গা

আবদুর রাজ্জাক,ব্যুরো চীফ,চট্রগ্রাম বিভাগ। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে থেকে ইতোপূর্বে পালিয়ে তিনটি জেলায় আশ্রয় ও স্থায়ীভাবে বসবাসকরা পুরনো রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের আওতায় আনার দাবী উঠেছে। এছাড়াও উখিয়া টেকনাফে বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া হাজারো রোহিঙ্গা অনিবন্ধিত রয়েছে এখনও। এদের মধ্যে রয়েছে মিয়ানমারের কালো তালিকাভুক্ত বহু সন্ত্রাসী। নিবন্ধন হলেই তাদেরকে ফের মিয়ানমারে পাঠানো হতে পারে সন্দেহে নিবন্ধন কার্যালয়ের কাছেও যায়নি ওই রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি আমলে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালীন মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা বহু আরাকান বিদ্রোহী গ্রুপের নেতা প্রত্যাবাসনে ফাঁকি দিয়ে থেকে গেছে এদেশে। ওইসময় জামায়াত-বিএনপির কতিপয় নেতা ওসব রোহিঙ্গা জঙ্গীকে আশ্রয়প্রশ্রয় এবং স্থান ঠিক করে দিয়েছে এদেশে। তারা বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঁড়ি দিয়ে সেখানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। রোহিঙ্গাদের হাতে যখন বাংলাদেশী পাসপোর্ট, তাই ওইসব রোহিঙ্গার কারণে সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে দেশের। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘাপটি মেরে থাকা রোহিঙ্গা জঙ্গীরা দেশের জন্য আপদ। তারা পাকিস্তান ও আফগাস্তিানের শীর্ষ জঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইতোপূর্বে জামায়াত-বিএনপির পক্ষে সরকার বিরোধী আন্দোলনে ওই রোহিঙ্গারা ভাড়ায় গিয়ে সন্ত্রাস করেছে। তাই ওসব পুরোনো রোহিঙ্গাদেরও নিবন্ধনের আওতায় আনা জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় যুবসমাজ। এদিকে টেকনাফের তিনটি ও উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা শিবিরে হাজারো নতুন-পুরনো রোহিঙ্গা এখনও অনিবন্ধিত রয়েছে। উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, তাজনিমারখোলা টেকনাফে শামলাপুর, লেদা ও নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে কয়েক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা অনিবন্ধিত রয়েছে। টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শিবিরে সহস্রাধিক রোহিঙ্গা এখনও নিবন্ধন করেনি বলে জানিয়েছেন ক্যাম্প কমিটির চেয়ারম্যান আলী জোহার। বিষয়টি সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে দাবী করে তিনি বলেন, নয়াপাড়া ক্যাম্পে ১৯ হাজার পরিবারের ৮৫ হাজার রোহিঙ্গা আছে। এরা সবাই গত বছর আগস্টের পরে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে এখানে আশ্রয় নিয়েছে। ক্যাম্প ইনচার্জের নির্দেশ মতে আমার দায়িত্বে তাদের দেখভাল করে থাকি। এর মধ্যে এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা এখনও নিবন্ধিত হয়নি। সূত্র জানায়, ১৯৭৮ থেকে চলতি ২০১৮সাল পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা অন্তত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নিবন্ধনের আওতায় আসেনি। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গা অনেকে ত্রাণের আশায় আশ্রয় শিবিরে উঠেছে সত্য। কিন্তু তারা ভাড়া বাসাও ঠিক রেখেছে, ত্রাণের আশায় আবার ক্যাম্পে তালিকাভূক্তও হয়েছে। এদের মধ্যে ধনাঢ্য রোহিঙ্গারা কক্সবাজার, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে দালান নির্মাণ করে দিব্যি বসবাস করে চলেছে। তারা কৌশলে হাতিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশী জাতীয় সনদ। জমিজমাও কিনেছে তাদের নামে। নাম উঠিয়েছে বিএস খতিয়ানে। তারা বর্তমানে এদেশের নাগরিক বলে দাবী করছে। তবে তাদের নাড়ির টান মিয়ানমারের প্রতি। লাখ লাখ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে টেকনাফ ও উখিয়ার যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, বিনষ্ট হয়েছে প্রতিবেশ-পরিবেশের। সেদিকে খেয়াল তাদের নেই। রোহিঙ্গাদের যথাসময়ে ত্রাণ বিতরনে একটু বিলম্ব হলে ওই পুরোনো রোহিঙ্গারা (জঙ্গী) ক্যাম্পে আশ্রিতদের উচ্ছৃঙ্খল করে তোলার তৎপরতায় লিপ্ত থাকে। রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্বের দোহাই দিয়ে ১৯৭৮সাল থেকে ওসব রোহিঙ্গা জঙ্গী বিপুল পরিমাণ বিদেশী অর্থ এনে বর্তমানে বিত্তভৈববের মালিক বনে গেছে। এখনও তাদের মধ্যে আরাকান রোহিঙ্গা ইউনিয়নভুক্ত (এআরইউ) বহু নেতা বিদেশ ভ্রমণ করে বাংলাদেশী পাসপোর্টে। আর বিদেশ থেকে অর্থ এনে ব্যয় করে থাকে রোহিঙ্গা জঙ্গীপনায়। তাই তাদেরকেও নিবন্ধনের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন সচেতন মহল। সূত্র আরও জানায়, পুরনো রোহিঙ্গা জঙ্গীরা রোহিঙ্গাদের নামে বিদেশী অর্থ পাওয়া সহজ করতে জেলার বিভিন্ন স্থানে বনভূমি দখল করে অসংখ্য মাদ্রাসা প্রতিষ্টা করেছে। ওসব মাদ্রাসায় শিক্ষা দেয়া হচ্ছে রোহিঙ্গা কিশোরদের। বিদেশী অর্থ পাবার জন্য ওই শিক্ষার্থীরাই হচ্ছে রোহিঙ্গা জঙ্গীদের হাতেকড়ি। অথচ সরকার ও বিভিন্ন এনজিও সংস্থা আশ্রয় শিবিরে রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরদের শিক্ষা দিতে প্রতিষ্টা করেছে বহু পাঠশালা। তারপরও নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গ্রুপের চিহ্নিত জঙ্গীরা ক্যাম্প থেকে বের করে তাদের মাদ্রাসায় নিয়ে এসেছে রোহিঙ্গা কিশোরদের। আরাকান বিদ্রোহী গ্রুপের ওসব নেতার মাদ্রাসার আদলে গড়ে তোলা রোহিঙ্গা শিক্ষাকেন্দ্রগুলো তলাশি করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মত প্রকাশ করেছেন অভিজ্ঞ মহল। সব রোহিঙ্গাকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার মধ্যে ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫৭৬ জনকে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেয়া কিছু রোহিঙ্গা অনিবন্ধিত রয়েছে বলে খবর পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিবন্ধিত কিছু রোহিঙ্গার তালিকা পাওয়া গেছে জানিয়ে টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সহকারি ইনচার্জ শাহজাহান মিয়া বলেন, তালিকাটি সন্দেহপ্রবণ মনে হচ্ছে, তারপরও বিয়টি যাচাই-বাছাই করে যদি কোনও রোহিঙ্গা অনিবন্ধিত থাকে-তাদের নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। টেকনাফের লেদা শিবিরে করিম, রুবেল,ইয়াছিন, পুরনো রোহিঙ্গা মো: আইয়ুব, দুদু মিয়া জানায়, আমাদের এখনও কেউ নিবন্ধন করেনি। টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মতলব বলেন, এ ক্যাম্পে নতুন ও পুরনো অন্তত তিন শতাধিক রোহিঙ্গা অনিবন্ধিত রয়েছে। ক্যাম্প ইনচার্জকে তাদের তালিকাও দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*