এবার সাংবাদিকের কন্ঠ চেপে ধরতে মরিয়া হয়ে উঠলেন উজিরপুর থানার ওসি শিশির কুমার

এবার সাংবাদিকের কন্ঠ চেপে ধরতে মরিয়া হয়ে উঠলেন উজিরপুর থানার ওসি শিশির কুমার

উত্তম কুমার,বরিশাল: “উজিরপুরে পুলিশের সাথে মাদক ব্যবসায়ীর সখ্যতা” শিরোনামে অনুসন্ধানী রির্পোট প্রকাশের পর স্থানীয় সংবাদকর্মী জহির খানের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন বরিশালের উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল । এ ঘটনার ১৩ দিন যেতে না যেতেই ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার মিথ্যা মামলা দিতে শারমিন বেগম নামের এক গৃহবধূকে বাধ্য করেছেন ওসি । সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বাদি হয়ে মামলা দায়ের না করলে ওই গৃহবধূকে (শারমিন) পতিতা বৃত্তির অভিযোগের মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। ওসি শিশির কুমার পালের হুমকির মুখে অসহায় গৃহবধূ ৮ জুন শুক্রবার দুপুরে থানায় সাংবাদিকের বিরদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন। পুলিশ ওই মামলায় সাংবাদিক জহির খানকে গ্রেফতার দেখিয়ে ওইদিন বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। প্রকাশিত সংবাদের জেরধরে প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে সাংবাদিক জহির খানকে ফাঁসিয়ে দিতে ওসি শিশির কুমার পালের এ ঘটনার গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ওসির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দাবি করেছেন সচেতন মহল। পাশাপাশি জেলহাজতে প্রেরণ করা সাংবাদিক জহির খানের মুক্তির দাবি করেছেন। উজিরপুর গ্রামের বাবুল খানের পুত্র সংবাদকর্মী জহির খান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন- বিভিন্ন সময় উজিরপুর মডেল থানার (ওসি) শিশির কুমার পালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় ওসি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। সর্বশেষ গত ২৫ মে তার কর্মরত দৈনিকে “উজিরপুরে পুলিশের সাথে মাদক ব্যবসায়ীর সখ্যতা” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলে ওসি শিশির কুমার পাল আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে শায়েস্তা করার হুমকি দেন। জহির খান বলেন- ৭ জুন বৃহস্পতিবার রাতে আমার নিকটাত্মীয় উজিরপুর উপজেলার পূূর্ব ধামসার গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিজিব কর্মকর্তা সেকান্দার হোসেন মোল্লার বাড়িতে বেড়াতে যাই। রাত একটার দিকে ওসির ভাড়াটিয়া রুমি শরীফ, আমিনুল ইসলাম, কাইয়ুম রাঢ়ী ও তৌহিদ হাওলাদারসহ ১৫/২০ সন্ত্রাসীরা ওই বাড়িতে গিয়ে ডাকচিৎকার দিয়ে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা ঘরে অসামাজিক কাজ হচ্ছে বলে দরজা খুলতে বলেন। সাংবাদিক জহির খান বলেন, একপর্যায়ে আমি তাৎক্ষনিক মোবাইল ফোনে উজিরপুর মডেল থানার এসআই আমীর হোসেনকে বিষয়টি অবহিত করে সাহায্য চাই। এসআই আমীর হোসেন একদল পুলিশ নিয়ে রাত সোয়া একটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমাকে এবং আমার আত্মীয় নাজমুন নাহার (৪৫) ও তার বিবাহিতা কন্যা দুই সন্তানের জননী শারমিন আক্তারকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। থানায় নিয়ে আসার পরে আমার বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দেয়ার জন্য ওই পরিবারের সদস্য নাজমুন নাহার ও শারমিন আক্তারকে ওসি শিশির কুমার পাল চাঁপ সৃষ্টি করেন। মামলা দিতে ওই পরিবারটি রাজি না হলে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত নাজমুন নাহার ও তার মেয়ে শারমিন আক্তারকে থানায় আটক করে রাখা হয়। এতেও রাজি না হলে দুপুরে শারমিন আক্তারকে পতিতাবৃৃত্তির অভিযোগে মামলা দিয়ে হাজতে পাঠানোর হুমকি দিয়ে ভয়ে দেখান ওসি শিশির কুমার পাল। একপর্যায়ে শারমিন আক্তারের কাছ থেকে এজাহারে স্বাক্ষর নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। নাজমুন নাহার সাংবাদিকদের বলেন, সাংবাদিক জহির খান গত ৭/৮ বছর ধরে আমাদের বাড়িতে যাতায়াত করেন এবং বিভিন্ন সময় বেড়াতে আসেন, সে আমার ছেলের মতো। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে এসে গাড়ি থেকে নেমে রাত একটার দিকে আমার বাড়িতে আসে। বাড়িতে ঢোকার সাথে সাথে এলাকার সন্ত্রাসীরা বাড়িতে হামলা করে। এসময় সাংবাদিক জহির খান পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকেসহ আমাদের থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে থানার ওসি আমাদের বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার মেয়েকে দিয়ে জহির খানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দিতে বাধ্য করেছে। শারমিন আক্তার অভিযোগ করেন, পুলিশ সাংবাদিক জহির খানের বিরুদ্ধে মামলা করতে আমাকে চাঁপ সৃষ্টি করেছে। একপর্যায়ে মামলা না দিলে আমাকে পতিতাবৃৃত্তির অভিযোগে মামলা দিয়ে হাজতে পাঠানোর হুমকি দেয়। পরবর্তীতে থানার ওসির হুমকির মুখে ধর্ষণ চেষ্টা এজাহারে আমি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছি। অভিযোগ অস্বীকার করে উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল বলেন, আমি মামলা দিতে কাউকে বাধ্য করিনি, ভিকটিম নিজেই ধর্ষণ চেষ্টার মামলা দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*