কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অধিকাংশ মাদকাসক্ত চালকদের দখলে!

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অধিকাংশ মাদকাসক্ত চালকদের দখলে!
শ.ম.গফুর,উখিয়া(কক্সবাজার)প্রতিনিধি ;; কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের পরিবহন শ্রমিকদের প্রায় ৫০ শতাংশই মাদক সেবন করেন। এর বেশির ভাগই আবার ইয়াবা খাচ্ছেন। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, সম্প্রতি উখিয়ায় বেশ কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয়রা পুলিশকে আহবান জানিয়েছেন। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতা জালাল আহমদ জানান, কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে চলাচলরত চালকদের মধ্যে ৫০ শতাংশই মাদকাসক্ত। তিনি বলেন, ইয়াবা এখন সহজলভ্য, যেখানে সেখানে পাওয়া যাচ্ছে। ইয়াবা আসক্ত হয়ে যাচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা। শহিদুল্লাহ ইয়াবা গ্রহণকারী চালকদের ধরে আইনের আওতায় আনার আহবান জানিয়েছেন উখিয়া উপজেলা প্রশাসনের প্রতি। সিএনজি চালক সরওয়ার আলম বলেছেন, শ্রমিকদের মাদক সেবনের অভিযোগ সত্য, তবে এটা এখনো মহামারীর আকার নেয়নি। ৮০ শতাংশ ড্রাইভার, কন্ট্রাকটর, হেল্পার এখনো ভাল আছে। কোনো চালক মাদকসেবী হলে তাকে গাড়ি চালানো থেকে বিরত রাখতে বা বিশ্রাম নিতে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। উখিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছেন, চালকরা অ্যালকোহল গ্রহণ করলে, তা সঙ্গে সঙ্গে সনাক্ত করা সম্ভব। কিন্তু ইয়াবা গ্রহণ করলে রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে, যেটা সময়সাপেক্ষ। সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতা মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, চালকরা মূলত কাজ করেন অনেকরকম চাপের মধ্যে।সেখানে যদি একজন চালক ইয়াবা সেবন করে গাড়ি চালান, তাহলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তিনি বলেন, একজন চালক যদি ইয়াবা সেবন করে গাড়ি চালান, তাহলে তিনি নিজেকে খুব অ্যাক্টিভ ও অতি আত্নবিশ্বাসী বোধ করবেন। এতে তিনি বিপজ্জনকভাবে অন্য গাড়িকে ওভারটেক করতে পারেন।রাস্তার ঝুঁকিগুলোকে তার ঝুঁকি মনে না-ও হতে পারে। এদিকে অনেকের অভিযোগ, চালকদের কোনো নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা বা নিয়োগ পদ্ধতি নেই। যে যত বেশি ট্রিপ মারবে তার ততটাই লাভ। এটাই তাদের ইয়াবা সেবনের সহায়ক কারণ। চালকদের কর্মঘন্টাকে এখনো কোনো একটা নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা হয়নি কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাক মালিক ভুট্রো বলেন, ইউরোপ, আমেরিকার কর্মঘন্টার সঙ্গে যদি আপনি বাংলাদেশের পরিবহন সেক্টরকে মেলাতে যান, তাহলে সেটাতো আপনি পারবেন না। টেকনাফ স্থল বন্দর থেকে একটি মালবাহি ট্রাক উত্তরবঙ্গে যেতে গেলে কত ঘন্টা লাগে? সেখানে কি কর্মঘন্টা ঠিক রাখা সম্ভব? সাবেক ছাত্র নেতা মুজিবুল হক আজাদ বলেন, সম্প্রতি অতিরিক্ত বাঁশ বোঝাই ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে রোহিঙ্গা নরী-শিশুসহ এনজিও মহিলা কর্মী রোজিনা আক্তার নিহত হওয়ার পরও পুলিশ অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।উখিয়ায় প্রতিদিন প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলেও সংশ্লিষ্টদের মাথাব্যথা নেই। এভাবে চলতে থাকলে উখিয়ার নাগরিক সমাজের ব্যানারে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পরিকল্পিত উখিয়া চাই এর আহবায়ক সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সিরাজুল হক বিএ এবং আরেক নেতা সিরাজুল হক ডালিম সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পরও একটি প্রতিবাদ সভা পর্যন্ত হয়নি। আমাদের ছোট ছোট ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতেও অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন থাকেন। এখন গাড়ি চলাচলে নিয়ন্ত্রণ করা না হলে আমাদের অপূরনীয় ক্ষতি হতে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*