কুমিল্লার বরুড়ায় বিচারপ্রার্থীকে চড়-থাপ্পর দিয়ে অস্ত্র ও মাদক মামলার অাসামী করে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি ওসির

কুমিল্লার বরুড়ায় বিচারপ্রার্থীকে চড়-থাপ্পর দিয়ে অস্ত্র ও মাদক মামলার অাসামী করে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি ওসির

নিজস্ব প্রতিবেদক(কুমিল্লা) ;; জমি-সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে কুমিল্লার বরুড়া থানায় বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো ওসির চড়-থাপ্পড়ের শিকার হয়েছেন আবু বকর সিদ্দিক নামের এক বিচারপ্রার্থী। ওসি তাকে শুধু মারধর করেই ক্ষ্যান্ত হননি, মাদক ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ারও হুমকি দিয়েছেন। ওসির মারধরে ভুক্তভোগী টানা চার দিন অসুস্থ ছিলেন। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে তার হয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে মারধরের বিচার চেয়ে আইজিপি কমপ্লেন্টস সেলে অভিযোগ (অভিযোগ নং-স৫৮৭) করেছেন এক ব্যক্তি। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে কুমিল্লার বরুড়া থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি জানিয়েছেন আবেদনকারী। ভুক্তভোগী ওই ব্যক্তির নাম আবু বকর সিদ্দিক। তার পক্ষে একটি কাগজে পুলিশ মহাপরিদর্শক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দেলোয়ার হোসেন বেপারী। আইজিপি কমপ্লেন সেলে দেয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২৮ আগস্ট বরুড়া থানায় সামাজিক একটা সমস্যা মীমাংসার জন্য দু’পক্ষ পুলিশের এসআই অলিউল ইসলামকে নিয়ে বসেন। উভয়পক্ষ আলোচনা করে একটা সমাধানের পথেও পৌঁছান। বৈঠক শেষে বের হয়ে চলে যাওয়ার সময় থানার ওসি বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে আবু বকরকে ডেকে পাঠান। তখন ওসির পক্ষে থানার এক পুলিশ এসে আবু বকর সিদ্দিককে ওসির রুমে নিয়ে যান। সেখানে ওসি দরজা বন্ধ করে তার করা আগের একটা অভিযোগ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে গালিগালাজ করেন, মাথার চুল ধরে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ ভুক্তভোগী আবু বকর সিদ্দিককে মাদক ও অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ারও হুমকি দেন। তাকে মারধরের এমন দৃশ্য ওই সময় ওসির রুমের বাইরে থাকা ১৬ জন প্রত্যক্ষ করেন এবং সাক্ষী হিসেবে তাদের সবার নাম, পিতার নাম, মোবাইল নম্বর স্বাক্ষরসহ অভিযোগের সঙ্গে জমা দেয়া হয়েছে। অভিযোগকারী মো. দেলোয়ার হোসেন বেপারী বলেন, ‘আমার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সমাজের একটা সমস্যা নিয়ে আমরা এসআই অলিউল ইসলামসহ বসেছিলাম। সেখানে আমরা সমাজের পক্ষে ১৬ জন উপস্থিত ছিলাম। থানায় ওসির সঙ্গে বৈঠক শেষে আসার আগ মুহূর্তে ওসি সাহেব একজন পুলিশকে দিয়ে আবু বকর সিদ্দিককে ডেকে নেন। নিজের রুমে নিয়ে তাকে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন এবং গালিগালাজ ও মারধর করেন। এটি আমরা জানালা দিয়ে বাইরে থেকে দেখেছি। আমরা মনে করি, ওসি এ অপমান শুধু আবু বকরকে করেননি, তিনি পুরো সমাজবাসীর গায়ে হাত তুলেছেন। এজন্য সঠিক বিচার চেয়ে আমরা আইজিপি কমপ্লেন সেলে অভিযোগ করেছি।’ মারধরের শিকার আবু বকর বলেন, ‘আমরা থানায় অভিযোগ দিছিলাম জমি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়া। ২৮ আগস্ট সন্ধ্যায় আমরা সবাই সেখানে গেলাম। ওসির সাথে দেখাও হইল, কথাও হইল। পরে ওসির রুম থাইক্যা আমরা বের হইয়া দাঁড়ায় আছি। কিছুক্ষণ পর একজন পুলিশ আইসা কয়, আবু বকর কে? আমি কইলাম আমি আবু বকর। হেয় আমারে হাত ধইরা ওসির রুমে নিয়া গিয়া দরজা লাগাই দিল।’ ‘ওসি আমারে কয়, তুমি কি আবু বকর? কইলাম হ্যাঁ। কয়, তুই আমার লোকেরে (রফিক নামের এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি) অপমান করছস? আমি তখন মাথা নিচু কইরা আছিলাম। হেয় (ওসি) আমার চুল, কান ধরি ধরি এত টানা-হেচড়া করছে আর থাপ্পর মারছে, আমি ভাই চার দিন জ্বরে পড়ে আছিলাম। পরে কলিং বেল চাপি এক পুলিশরে ডাইকা আমারে ধরি বের করি দিছে। পরে আমি চলি আইছি। কিন্তু, হেই ঘটনা আমার সাথে থাকা বাকিরা গ্লাস দিয়া দেইখা ফেলছিল।’ অভিযোগের বিষয়ে থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘না এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আর আমি আবু বকর নামে কাউকেই চিনি না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*