কুষ্টিয়া মিরপুরের গোপিনাথপুর গ্রামের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ আব্দুল হামিদ দিন দিন বেপরোয়া: প্রশাসন নির্বিকার

কুষ্টিয়া মিরপুরের গোপিনাথপুর গ্রামের সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ আব্দুল হামিদ দিন দিন বেপরোয়া: প্রশাসন নির্বিকার

রফিকুল ইসলাম(স্টাফ রিপোর্টার): কুষ্টিয়া মিরপুরের মালিহাদ ইউপি’র গোপিনাথপুর গ্রামের সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, হুমকি দাতা আব্দুল হামিদ দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই সে তার এই অপকর্ম গুলো করে যাচ্ছে বিরামহিনভাবে।

তার কিছু কিছু অপকর্ম তুলে ধরা হলো বিদেশ যাওয়াকে কেন্দ্রে করে গোপিনাথ পুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে হযরত(৩০) এর চার বিঘা জমি দখল করে ১.২০ লক্ষ (এক লক্ষ বিশ হাজার) চাঁদা আদায় করে। জানা গেছে, গোপিনাথপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে হযরত মুছা নামক এক দালালের মাধ্যম দিয়ে বিদেশ যায়। সে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা বিদেশ যেয়ে দালালকে দেবে বলে কথা বার্তা হয় এই মর্মে যে, তাকে বিদেশে ভাল কাজ দেবে। কিন্তুু সে বিদেশ যেয়ে তেমন কোন ভাল কাজ পায় না। এদিকে দালাল মুছা সন্ত্রাসী আব্দুল হামিদদের মাধ্যমে তার পরিবারের উপর টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে। হযরত বিদেশ যেয়ে কোন কাজ না পাওয়ায় টাকা পরিশোধে ব্যার্থ হয়। কিন্তুু আব্দুল হামিদ টাকা না পেয়ে হযরতের পরিবারের ৪(চার) বিঘা জমি দখল করে নেয়। পরবর্তীতে কোম্পানি হযরতকে দেশে ১(এক) বছরের মধ্যে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। হযরত বাড়ী ্এসে জমি বে দখল অবস্থায় দেখে খুব সংকটা পূর্ণ ও দুরদর্শাগত অবস্থায় পতিত হয়। সে নিরুপায় হয়ে ধার কার্য ও লোন নিয়ে আব্দুল হামিদকে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা দিয়ে জমি ফেরত নেয়।
আব্দুল হামিদের আর একটি অপকর্মে জানা গেছে, সে গোপিনাথপুর গ্রামে মৃত আরমান আলীর ছেলে আমজাদ হোসেন(৪০) এর কাছ থেকে জরিমানার নামে চল্লিশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমজাদ হোসেন পেশায় একজন আলম সাধু চালক। সে তার আলম সাধু নিয়ে ২০১৭ সালের মে মাসে মিরপুরের চক হারদি ভাঙ্গা ব্রিজের নিকট দূর্ঘটনায় পতিত হয় সেই আলম সাধুতে যাত্রী হিসেবে ছিল আব্দুল হামিদের এক আত্মীয়। দূর্ঘটনায় পতিত হলে আব্দুল হামিদের সেই আত্মীয় সামান্য আহত হয়। সেই কারণে আব্দুল হামিদ আমজাদ হোসেনের কাছ থেকে জরিমানার নামে চল্লিশ হাজার টাকা আদায় করে।

আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের মৃত মতি খন্দকারের ছেলে হাফি খন্দকার(৫০) এর কাছ থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। জানা গেছে, হাফি খন্দকার বিদেশে লোক নিয়ে যায়। আব্দুল হামিদ তার কাছ গোপনে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। সে দিতে অপরগতা স্বীকার করলে তাকে আব্দুল হামিদ তাকে মারধর করে। এই ঘটনায় সে বেশ কিছু দিন এলাকার বাইরে ছিল। পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে আব্দুল হামিদকে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে তার কার্যক্রম শুরু করতে হয়। এবং প্রতি মাসে ও গোপনে তাকে কিছু মাসোহারা দিতে হয়।

আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের মোঃ নবীছদ্দিন মন্ডলের ছেলে মোঃ কাবের আলী (২৮) এর কাছ থেকে জরিমান নামে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। জানা গেছে আব্দুুল হামিদের ক্যাডার মৃত আসান মন্ডলের ছেলে রশিদুল এর বউ তালাক দিয়ে দেয়। এই তালাক প্রাপ্ত বউ মোঃ কাবের আলী বিয়ে করে। সেই কারণে আব্দুল হামিদ কাবের আলীর পরিবারের কাছ থেকে জারিমানার নামে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে এবং কাবের আলীকে এখনো এলাকায় ফিরতে দেয় না। সে বাড়ী ফিরলে তাকে মেরে ফেলা হবে এমন হুমকি ধামকি আব্দুল হামিদ দেয়।

আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের মওলা শেখের ছেলে বাবুল আক্তার(২৮) এর কাছ থেকে জরিমানার নামে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। গোপিনাথপুর গ্রামের ছলিম আলীর স্ত্রী সাথে বাবুল আক্তারের অবৈধ সম্পর্ক এর জেরে আব্দুল হামিদ পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেছে।

আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের জামাত আলীর ছেলে উজ্জল হোসেন এর কাছ থেকে পঁচিশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। এক মেয়ে সাথে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগে আব্দুুল হামিদ জরিমানার নামে পঁচিশ হাজার টাকা আদায় করে।

আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের বিল্লাল আলীর ছেলে সাফায়েত আলী কাছে থেকে জরিমানার নামে ত্রিশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। গোপিনাথপুর গ্রামের ইনতাজ আলীর স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগে আব্দুল হামিদ জরিমানার নামে সাফায়েত আলীর কাছ থেকে ত্রিশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে।

আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের রহমান শেখের ছেলে মইন উদ্দিন এর কাছ থেকে জরিমানার নামে পঁচিশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। জানা গেছে মইন উদ্দিনের সাথে গোপিনাথপুর গ্রামের এক মেয়ের সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের জেরে আব্দুুল হামিদ পঁচিশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে।

আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের জওহর আলী ছেলে ফজলু হকের কাছ থেকে দশ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে। জানা গেছে ফজলু হকের সাথে তার চাচার জমি নিয়ে বিরোধ সংক্রান্ত বিষয়ের জেরে আব্দুল হামিদ দশ হাজার টাকা ফজলু হকের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে।

আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের নবীছদ্দিন মন্ডল এর ছেলে মোঃ কাবের আলীকে গ্রাম ছাড়া করেছে। আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের বিল্লাল আলীর ছেলে সাফায়েত আলীকে এলাকাছাড়া করেছে। তাছাড়াও গোপিনাথপুর গ্রামের উজির উদ্দিনকে গ্রাম ছাড়া করেছে।

আব্দুল হামিদ ও তার ক্যাডার বাহিনী গোপিনাথপুর গ্রামের আব্দুল হান্নানের ছেলে আরিফুর ইসলাম(২৭) এর বাড়ীর মালামাল ভাংচুর ও লুটপাট করে। আব্দুল হামিদ ও তার ক্যাডার বাহিনী মিরপুরের চকহারদি গ্রামের মৃত বারিক বাবুর ছেলে মোঃ বাবলু আলী(৫৫) এর বাড়ী ঘরে হামলা, ভাংচুর ও মারধর করে।

আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের মৃত আলম মন্ডলের ছেলে জাহের আলী(২৮) কে রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ও তার ডান হাত ভেঙ্গে ফেলে। জানা গেছে, আব্দুল হামিদ কুমার নদী দখল করে মাছ চাষ করে ও পাট চাষিদেরকে পাট জাগ দিতে দেয় না। কুমার নদী পাশে জাহের আলীর জমি আছে। সে তার জমিতে আব্দুল হামিদের ড্রেজার কর্তৃক তার জমিতে পতিত মাটি কেটে পাশে কুমার নদীর পাশে উঠিয়ে রাখে। এমতাবস্থায় আব্দুল হামিদ এসে রড দিয়ে গুরুতর পিটিয়ে জাহের আলীর ডান হাত ভেঙ্গে ফেলে ও তার গুরুতর আহত করে। জাহের আলী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেয়। পরবর্তীতে তাকে ঢাকার একটি উন্নত ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়ে হয়।

আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের মৃত আফিল মালিথার ছেলে মুরুব্বি আহম্মেদ আলী(৭৫) কে মারপিট করে। জানা গেছে, আহম্মেদ আলীর ছেলে আসাদুল(৩২) গোপিনাথপুর গ্রামের কুমার নদীতে দশ-পনের আঁটি পাট জাগ দিয়েছিল। আব্দুল হামিদ এই বিষয়টি জানার পর আসাদুলের বাড়ীতে আসে এবং তাকে বাড়ীতে পায় না। তাকে বাড়ীতে না পেয়ে তার স্ত্রীকে চুল ধরে টানা হেঁচড়া করে তার উপর নির্যাতন করে এবং পরবর্তীতে এক দোকানের মাঁচায় অবস্থান করা আসাদুলের বৃদ্ধ ও অসুস্থ পিতা আহম্মেদ আলী(৭৫) কে গামছা গলায় পেছিয়ে মাঁচা থেকে নামিয়ে আব্দুল হামিদ প্রহার করতে থাকে। এক পর্যায়ে বৃদ্ধ ও অসুস্থ লোকটি ঐ জায়গায়ই পাঁয়খানা করে ফেললে আব্দুল হামিদ চলে যায়।

আব্দুল হামিদের উপরোক্ত হামলার এই নিউজ সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম একটি অনলাইন পত্রিকায় করে ও তা ফেসবুকে শেয়ার করে। পরবর্তীতে আব্দুল হামিদ সাংবাদিক রফিকুল ইসলামের উপরও হামলা করে। এই বিষয়ে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।

আব্দুল হামিদের ক্যাডার রনি(ডন) ও কয়েক জন জেলা পরিষদ এর সদস্য আবু সালেক বেলটু এ চাচার বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর ও ছিনতাই করে। এই বিষয়ে রনি(ডন) কে মালিহাদ ক্যাম্প আটক করে এবং পরবর্তীতে বাদী পক্ষের হাত পা ধরে রনি(ডন) কে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়।

আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম মোল্লার ছেলে আব্দুল সামাদ মোল্লাকে রড দিয়ে গুরুতর আহত করে। আব্দুর হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের আব্দুর সামাদ মোল্লার স্ত্রী জবেদা খাতুনকে একই ভাবে নির্যাতন করে।

আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের মৃত রহিম কুন্ডুর ছেলে আজিজুল হক কে মেরে হাসপাতালে ভর্তি করে। আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের মৃত নবীছদ্দিনের ছেলে হালিম উদ্দিন কে গুরুতর আহত করে।

আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের মেজর উদ্দিনের ছেলে ইমরান হোসেন(২৮) কে বাঁশ দিয়ে মারধর করে। জান গেছে, আব্দুল হামিদ এক সময় যাত্রার আয়োজন করে। ডেকোরেশনের জিনিস পত্র আনার জন্য আব্দুল হামিদ আলম সাধু চালক ইমরান হোসেন কে আনতে বলে। কিন্তুু ইমরান অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে আব্দুল হামিদ বাঁশ দিয়ে মারধর করে। এর পরে জোর করে তাকে ডেকোরশনের জিনিস পত্র আনতে পাঠায়।

আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের সামসের আলী স্ত্রী শখের বানুকে গুরুতর মারধর ও নির্যাতন করে। আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের তুরাপ জোয়ার্দ্দার এর ছেলে জসীম উদ্দিন (২৬) কে রড দিয়ে মেরে হাত ভেঙ্গে দেয়। আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের মৃত ফ্যালাশা মোল্লা ছেলে সোনা মোল্লাকে রড দিয়ে মারধর করে। আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের জামিরুলের স্ত্রীকে মারধর ও নির্যাতন করে।

আব্দুল হামিদ গোপিনাথপুর গ্রামের মৃত লালু মন্ডলের ছেলে সায়েদ আলীকে গুরুতর আঘাত করে। আব্দুল হামিদের ক্যাডার কর্তৃক শরিয়ত আলীকে মারধর করা হয়। আব্দুল হামিদের ক্যাডার বাহিনী কর্তৃক গোপিনাথপুর গ্রামের মৃত খোকাই বিশ্বাস এর ছেলে কাবের আলী(৬০) কে মারধর করা হয়।

আব্দুল হামিদ মিরপুরের বাজিতপুর গ্রামের রবিউল ্ইসলামের স্ত্রী কবিরাজ মোছাঃ নার্গিস বেগম কে রড ও লাঠি দিয়ে মারাত্মকভাবে পিটিয়ে গুরুতর আহত ও নির্যাতন করে। আব্দুল হামিদ এর ক্যাডার বাহিনী মিরপুরের চকহারদি গ্রামের মৃত বারিক বাবুর ছেলে মোঃ বাবলু আলীকে মাঠ থেকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্য মারধর করে গুরুতর আহত করে।

One comment

  1. এই কাহিনী গুলো কত দিন আগের?। আর এভাবে লোকের পিছনে বাশ না দিয়ে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করেন,কেমন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*