গোদাগাড়ীতে বৃদ্ধ্যার শেষ আশ্রয়স্থল বসত বাড়ী দখলের চেষ্টা প্রভাবশালী ব্যাক্তির 

গোদাগাড়ীতে বৃদ্ধ্যার শেষ আশ্রয়স্থল বসত বাড়ী দখলের চেষ্টা প্রভাবশালী ব্যাক্তির 
শামসুজ্জোহা বাবু,গোদাগাড়ী প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে অসহায় এক বৃদ্ধ্যা নারীর বসত বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রভাবশালী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেন উপজেলার প্রেমতলি এলাকার ফরাদপুর গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর ছেলে আব্দুল লতিফ মুকুল। তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন স্থানে ছুটে গিয়েও বিচার পাচ্ছে না বলে দাবী করেন বৃদ্ধ্যার পরিবার।
জানাগেছে, গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলি  ফরাদপুর গ্রামে মদীনা বেগম স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে তার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই তিনি তার ৪ ছেলে ও ২ মেয়েকে নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন। গত কয়েক দিন আগে বাড়ী বৃদ্ধির জন্য  মিস্ত্রী দিয়ে ঘর তৈরি কাজ করতে গেলে তার বাড়ীর পাশে প্রভাবশালী আব্দুল লতিফ মুকুল মদীনা বেগমের বসত বাড়িতে গিয়ে মিস্ত্রীদের তাড়িয়ে দিয়ে ঘর তৈরী করতে নিষেধ করে নিজ দখলে রাখার চেষ্টা করতে থাকে।

জমির মালিক মদীনা বেগম জানান, তার স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি তার ছেলে/ মেয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। এমত অবস্থায় কিছু দিন পর  তাদের জমি ঘেষে পাশের জমির কিছু অংশ  প্রভাবশালী মুকুল নামের এক ব্যক্তির তারা জানতে পারে। এসময় মদীনা বেগম সন্দেহ হলে জমি মাপযোগ করার জন্য স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আপোষের মাধ্যমে আমিন দিয়ে মাপযোগ করার পর মদীনা বেগমের ছেলেরা বাড়ী তৈরী করে। এসময় মুকুল থানায় অভিযোগ করে একই সাথে মদীনা বেগমের ছেলে মজিবুরও অভিযোগ করেন। এতে গত রবিবারে পুলিশ ঘটনা স্থলে এসে উভয় পক্ষকে আগামী শনিবার থানায় বসে আপোষ করার সম্মতি জানান। কিন্তু শনিবার আসার আগেই সোমবার স্থানীয় কয়েকজন সন্ত্রাসী জনবলসহ লাঠি সোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে মারধর করে ঘর বাড়ী ভেঙ্গে  ফেলে।

এ বিষয়ে বিবাদী আব্দুল লতিফ মুকুর বলেন, আর. এস মূলে এই সম্পত্তি আমার বাবার নামে রেকর্ড রয়েছে সেহেতু এই জমির মালিক আমরাই এবং জমির মালিক হিসেবে আমরাই দখল করবো এটা স্বাভাবিক। তাই গত সোমবার পুলিশের নিষেধ না মানায় আমরা নতুন স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়েছি।

১৯৭১ সালে ২২৭ নাম্বর খতিয়ানে ৭১ নম্বর দাগে মাঠ খসড়ায় মদীনা বেগমের নামে অন্তর্ভূক্ত হয়। পরে মুকুল বাদী হয়ে মামলা করলে মহামান্য  আদালত দুটি রেকর্ড মদীনা বেগমের নামে পান। পরে সর্বশেষ আর এস রেকর্ড মূলে বাদলের বাবা রুস্তম আলীর নামে ৭১(২) নং  দাগে হয়।  কিন্তু আর এস রেকর্ড  দলিলের সাথে মিল নাই । তারপর থেকে দুটি পরিবারের মাঝে ঝামেলা লেগেই থাকে। এর পূর্বে ৩ বার স্থানীয় ভাবে মিমাংসা হয়েও ঝমেলা  মেটেনি।

পরে ওই জমির উপর একটি মামলা দায়ের করেন উভয় পক্ষ আদালত তা আমলে নিয়ে গত ২৭ শে সেপ্টেম্বর  ২০১২ ও ১০ ই ফেব্রুয়ারী ২০১৬ সালে দুটি দলিলে অভিযোগ বাতিল করে বাদিপক্ষ মদীনা বেগম পক্ষে রায় দেয় আদালত। কিন্তু আর এস রেকর্ডে রুস্তমের নামে হওয়ায়  ওই জমি দখলের জন্য মুকুল বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকিসহ  বাড়ি দখলের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সর্বশেষ গত সোমবার তার দলবল নিয়ে ওই ঘর বাড়ী ভেঙ্গে দখল করতে আসে। ওই ঘটনায় প্রেমতলি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে মদীনা বেগমের ছেলে । মদীনা বেগমের পরিবার প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে প্রেমতলি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস. আই আবু বাক্কার বলেন গত ১৫ দিন আগে উভয় পক্ষ দুটি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পরিপেক্ষিতে আমরা উভয়ের দলিল পত্র দেখে  সমাধান করার জন্য আগামী শনিবার বসার কথা বলেছিলাম কিন্তু তার আগেই বাড়ী ভাংচুরের ঘটনা ঘটবে  আমরা বুঝতে পারিনি। বাড়ী ভাংচুর করাটা মুকুলের ঠিক হয়নি তবে আগামী শনিবার থনায় বসে সকলের কাগজ পত্র দেখলে মিমাংশা হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*