গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে সরকারি জায়গায় অবৈধ পাকা ইমারত নির্মাণ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে সরকারি জায়গায় অবৈধ পাকা ইমারত নির্মাণ
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় সরকারি খাস খতিয়ানের জমি (খ তফসিল) দখল করে তৈরি করা হচ্ছে পাকা ইমারত । আগে থেকেই সেখানে অবৈধ দখলকারীদের দোকানঘর রয়েছে। সবশেষ বিগত এক মাস যাবত নতুন করে ওই জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
তহসীল অফিস ও এলাকাবাসিদের সুত্রে জানা যায়, গোপালগঞ্জ -টেকেরহাট সড়কের বানিয়ারচর স্ট্যান্ডে সংলগ্ন খেয়াঘাট এলাকায় সরকারি খাস খতিয়ানের (খ-তফসিলের) কয়েক একর জায়গা রয়েছে। যা পূর্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবোর) এর অধিনে ছিলো । বর্তমান (বি.আর.এস রেকর্ড) গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে তা (খ- তফসিলে) খাস খতিয়ানে যায়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিনে থাকা কালিন ওই সকল জমির আধিকাংশ অব্যবহৃত থাকে। আর কিছু অংশে গরিব ও ভূমিহীন লোকজন বসবাস করেন যা এখনো রয়েছে । বাকি জমি প্রভাবশালি ব্যক্তিদের দখলে । কেউ যাচ্ছে ভুমিহীনদের উচ্ছেদ করতে, আবার কেউবা টাকা দিয়ে তাদের দখলকৃত জমি স্ট্যাম্পে লিখে বেদখল করছে।
শনিবার সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বানিয়ারচর খেয়াঘাটের পাশে জলিরপাড় ইউপির সাবেক চেয়ারম্যানে ভাই খগেন বিশ্বাস প্রায় এক একর সরকারি জমি তার দখলে রেখে তিনি সেখানে বসত ঘর ও দোকান নির্মাণ করে বসবাস এবং ব্যবসা করে আসছেন। সাম্প্রতি ওই জমি থেকে ৫ কাঠা বা ১২.৫শতাংশ জমি ১০লক্ষ টাকার বিনিময় বিক্রি করেছেন একই ইউপির ফুলকুমারি গ্রামের সুমন বিশ্বাসের কাছে। সুমন বিশ্বাস ওই জমিতে ইট, বালু, সিমেন্ট দিয়ে বিশাল বড় করে ইমারত তৈরি করে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন। যার দৈর্ঘ্য৪৮ফুট প্রস্থ ৪০ফুট। ওই দোকানের পাশে আরো দোকান রয়েছে সেগুলো টিনে তৈরি অস্থায়ী ঘর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি বলেন, আমরা গরিব মানুষ আমাদের কথার কোন মুল্য নেই । আমাদের যদি বলে এখান থেক জায়গা ছেড়ে চলে যেতে হবে তাই করতে হবে । এখানে যাদের টাকা,ক্ষমতা আছে তারাই দখল করে খাবে । কারন সরকারি জায়গা ক্ষমতা যার বেশি সে দখল করবে। আমরা যারা গরিব তারা শুধু ঘর তুলে থাকি যাদের ক্ষমতা আছে তারা বহু জায়গা দখল করে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন।
জলিরপাড় ইউপির সাবেক চেয়ারম্যানে ভাই খগেন বিশ্বাসের কাছে জানতে চেয়েছিলো তিনি কিভাবে এই জমি তার কাছে বিক্রি করলেন তিনি বিক্রির কথা অস্বিকার করে বলেন, আমি সুমনকে ওই জায়গা এমনিতেই দিয়েছি।
এব্যাপারে সুমন বিশ্বাসের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সরকারি জমিতো দলিল হয় না তাই আমি স্ট্যাম্পে লিখে নিয়েছি। এখানে অন্য লোকেদের দোকান ও বসত ঘর রয়েছে । অন্যরা যেভাবে থাকবে আমিও সেই ভাবে থাকবো। আমি এখানে একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান করতে চাই। এই উদ্দেশ্যে এখানে বিল্ডিং দিচ্ছি। এছাড়া একাধিক নেতার দোহাই দিয়ে বলেন ওই সব নেতাদের সাথে আমার ভালো সম্পর্ক।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) শান্তিমনি চাকমা বলেন , বানিয়ারচর যে সকল লোক সরকারি জমি দখল করে আছে বা স্থাপনা করছে তা সম্পূর্ন অবৈধ । বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি এবং ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে অতি দ্রুত অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*