গোলাপ হাতে অভিযান চালাবে ম্যাজিস্ট্রেট !

গোলাপ হাতে অভিযান চালাবে ম্যাজিস্ট্রেট !
নিজস্ব প্রতিবেদক :: এক হাতে গোলাপ আর অন্য হাতে হাতকড়া থাকবে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে-এমনটাই জানালেন চট্টগ্রাম জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। তিনি বলেন, আমার ম্যাজিস্ট্রেটের এক হাতে গোলাপ থাকবে অন্য হাতে থাকবে হাতকড়া। আপনারা গোলাপ নিতে চান না কি হাতে হাতকড়া পরতে চান সিদ্ধান্ত আপনাদের।
চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত লাইফস্টাল ও বিজনেস ম্যাগাজিন ক্লিকের উদ্যোকে ‘ শুধু বাণিজ্য নয়, সেবার মানসিকতায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হোক সবার শীর্ষক গোল টেবিল বৈঠকে অংশগ্রহনকারী রেস্টুরেন্ট মালিক ও কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে একথা বলেন তিনি।
ক্লিক ম্যাগাজিন সম্পাদক জালালউদ্দিন সাগর’র সঞ্চালনায় গোল টেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম জেলার সহকারি কমিশনার রমিজ আলম,চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অফিয়া আক্তার, ভোক্তা অধিকার চট্টগ্রাম অঞ্চলের সহকারি পরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাশ, বিএসটিআই চট্টগ্রাম বিভাগের সহকারি পরিচালক হাবিবুর রহমান,পুষ্টিবিদ হাসিনা আক্তার কলি, ফ্যাশন ডিজাইনার রওশন আরা চৌধুরি, রেস্টুরেন্ট উদ্যোক্তা মনজুরুল হক, তারেক হোসাইন, রোম্মান আহমেদ, সিলভার স্পুনের কর্ণধার তাসাদ্দিক মুর্তুজা, মেরিডিয়ান’র সিইও নোয়েল সিকদার, রিগালো’র কর্ণধার আবরার হোসাইন,সাইদুল করিম, হান্ডি ইন্ডিয়ান বিস্টু’র ম্যানেজার, কামরুল আহসান, ওয়েল পার্ক’র কর্মকর্তা রিজুয়ান, হাংগার জোনের জহির আলি কাজল, বেলপেপার’র এসএম জামাল উদ্দিন, ধাবা’র দিলসান, ইমাপালা’র আনোয়ার, বাসমতি’র দিলিপ, তাবা রেস্টুরেন্টের আব্দুর রহীম, উদ্যোক্তা আব্দুল রাজ্জাক, ক্লিক ম্যাগাজিনের চীফ এডিটর নিয়াজ মোর্শেদ এলিট, এডিটর জালালউদ্দিন সাগর, এ্যাসিসটেন্ট এডিটর আরাফাত রূপক, এ্যাসিসটেন্ট ম্যানেজিং এডিটর সজীব মির্জাসহ প্রায় শতাধীক রেস্টুরেন্টর সত্ত্বাধিকারী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে চায় সরকার-এমন মন্তব্য করে জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন আরও বলেন, রেস্টুরেন্টে চাকচিক্য থাকলেই হবে না ভিতরের পরিবেশ-পরিস্কার থাকতে হবে-পরিচ্ছন্ন হতে হবে রান্নাঘর। পরিবেশনের আগে খাদ্যের মান নিশ্চিত করাসহ খাদ্য সংরক্ষণে আরও যতœবান হতে হবে সবাইকে। ডিসি বলেন, জরিমানা আদায় করা আমাদের লক্ষ না আমাদের লক্ষ আপনাদের সচেতন করা। আপনারা ভোক্তাদের জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করুন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট আপনাদের হাতে গোলাপ তুলে দিবে।
ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের যে কোনো প্রয়োজনে জেলা প্রশাসন পাশে থাকবে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আপনারা আপনাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিন জেলা প্রশাসন থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে রেস্টুরেন্ট মালিকদের সতর্ক হওয়া জরুরী উল্যেখ করে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাশ বলেন, মালিকদেরর অজ্ঞতার কারনে কর্মচারীরা ফাঁকি দেয়ার সুযোগ পায়-যেকারণে রেস্টুরেন্টের পরিবেশ নষ্ট হয়।
বিএসটিআই’র সহকারী পরিচারক হাবিবুর রহমান বলেন, যে কোনো প্রতিষ্ঠান চালানোর আগে আইন জানা উচিত। সঠিক নীতিমালা অনুসরণ করলে অনেক অপ্রীতিকর অবস্থা এড়ানো সম্ভব বলেও জানান তিনি।
পুষ্টিবিদ হাসিনা আক্তার কলি বলেন, কোন খাবারের সাথে কী পরিমান সহযোগী খাদ্য দ্রব্যের মিশ্রণ ঘটানো উচিত সে বিষয়টি রেস্টুরেন্টের মালিক বা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানেন না। যে কারণে সহযোগী পণ্যের অস্বাভাবিক মিশ্রণে খাদ্য সামগ্রীর খাদ্যগুণ নষ্ট হয়ে মানুষের জন্য ক্ষতিকর খাদ্যে পরিণত হয়। তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের নিজেদের রান্নাঘরটি যেমন পরিচ্ছন্ন রাখি ঠিক ততটা পরিচ্ছন্ন দেখিনা রেস্টুরেন্ট গুলোর রসইঘর ! কিন্তু কেনো ? তিনি বলেন, আমরা ঘরের রান্নাঘরকে পরিস্কার রাখতে পারলে রেস্টুরেন্টের রান্নাঘরও পরিস্কার রাখা সমম্ভব।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার রমিজ আলম বলেন, আপনারা সচেতন হোন, ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করুন আমরা আপনাদের পাশে থাকবো।
সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না-এমন দাবি করে ক্যাফে৮৮ এর সত্ত্বাধিকারী তারেক হোসাইন বলেন, চট্টগ্রামে প্রায় পাঁচ শতাধীক রেস্টুরেন্ট রয়েছে অথচ কোনো রেস্টুরেন্ট মালিক কিভাবে রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করতে হবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পায় না। রেস্টুরেন্ট পরিচালনার নিয়ম-নীতি সম্পকৃত তথ্য সরবরাহে জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ জানান তিনি।
বারকোড রেস্টুরেন্ট’র কর্ণধার মনজুরুল হক বলেন, রেস্টুরেন্ট ব্যবসার উপর ভিত্তি করে চট্টগ্রামে লাখো পরিবার জীবন ধারণ করছে। আমরা চাই সরকারি সব নিয়ম-নীতি মেনেই রেস্টুরেন্ট গুলো পরিচালিত হক। তিনি আরও বলেন, কোনো মালিক ইচ্ছে করে তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করতে চায় না।
রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা একটু সতর্ক হলেই ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব জানিয়ে ক্লিক’র চীফ এডিটর নিয়াজ মোর্শেদ এলিট বলেন, সেবার মানসিকতা রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করলে ব্যবসায় এবং সেবা দুটোই সম্ভব।
নিয়মিত প্রকাশনার পাশাপাশি ক্লিক ম্যাগাজিনের উদ্যোগে নানান সচেতনমূলক উদ্যোগ নেয়া হয় জানিয়ে ক্লিক সম্পাদক জালালউদ্দিন সাগর বলেন, রেস্টুরেন্ট মালিকদের যে কোনো প্রয়োজনে ক্লিক সবসময় তাদের পাশে থাকবে। যেসব রেস্টুরেন্ট সেবার মানসিকতা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে সে সব রেস্টুরেন্টের ভালো দিক গুলো পাঠকের সামনে তুলে ধরার অঙ্গীকার করেন তিনি। তিনি বলেন, ক্লিক পরিবার সব সময় ভালো উদ্যোগকে স্বাগত জানায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*