চকরিয়ার মাতামহুরী নদীতে  ফুটবল খেলা শেষে গোসল করতে গিয়ে ৫ স্কুল ছাত্রের সলিল সমাধি

চকরিয়ার মাতামহুরী নদীতে  ফুটবল খেলা শেষে গোসল করতে গিয়ে ৫ স্কুল ছাত্রের সলিল সমাধি
মোঃ নাজমুল সাঈদ সোহেল , (চকরিয়া)কক্সবাজার প্রতিনিধি : শোকাহত চকরিয়া-পেকুয়াবাসী এই দৃশ্য যন্ত্রণার আর শোকের এ দৃশ্য ।প্রতিটা মা-বাবার বুক ফাটা কান্নার  আহাজারা। জীবনের স্বাদ টা উপলব্ধি করার আগেই নিভে গেল নিষ্পাপ তাজা ৫টি প্রাণ,নিমিষেই ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেলো তাদের মা-বাবার লালিত স্বপ্ন গুলো নিয়তি বড়ই নিষ্ঠুর।শোক প্রকাশ করা তাদের বাবা-মাকে সমবেদনা জানানোর  মত শক্তি করো নেই।গতকাল ১৪ জুলাই’১৮ শনিবার দুপুর প্রায় আড়াই টায় মাতামুহুরী নদীর ব্রীজ সংলগ্ন চরে ফুটবল খেলার পর নদীতে গোসল করতে নামলে দুই সহোদরসহ ৬জন ডুবে যায়। পরে একজন কোনপ্রকার নদীর কুলে উঠে এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ৩ ছাত্রের মৃতদেহ  ও অপর দু’জনেকে চট্টগ্রাম থেকে আগত ডুবুরীদের মাধ্যমে রাত  ১২টার দিকে  মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথমে  উদ্ধার কাজে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আশাব্যঞ্জক কোন সফলতা না পেলে স্থানীয় জেলে ইউনুচ,আব্দুসালাম,আনচার,মফিজসহ মোট ৪২জন জেলের প্রচেষ্টায় তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন।একটানা আরো দুই ঘন্টা চেষ্টা অব্যাহত রাখার পরে ও বাকী দুজনকে উদ্ধার করতে ব্যার্থ হন।এসময় চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম এম এ ও উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ইফেখার উদ্দিনসহ প্রশাসনের সংস্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম থেকে স্পেশাল ডুবুরীরা ঘটনাস্থলে এসে এক ঘন্টার ব্যাবধাসে বাকি দুজনের মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন। এতে করে আমাদের মাঝ থেকে চলেগেল চকরিয়ার ৫ উজ্জ্বল নক্ষত্র। ফিরবেনা আর কোনদিন আমাদের মাঝে। মা-বাবা, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসীসহ পুরো চকরিয়া বাসীকে কাদিয়ে চলে গেল না ফেরার দেশে।যশারো ফলে  চকরিয়ার আকাশ-বাতাশ ভারী হয়ে গেল।কেউ করছে নিরবে কান্না!আবার কেউ করছে আহাজারী!বার বার বেহুশ হয়ে পড়ছে পিতা-মাতা-ভাই-বোন।কয়েক হাজার শোকার্ত নর-নারী নদীর দুপাড়ে অবস্থান করেছেন উদ্ধার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত।
নিহতদের সহপাঠী সূত্রে জানা গেছে, চকরিয়ার পৌর এলাকার প্রি-ক্যাডেট গ্রামার স্কুলের ২২জন ছাত্র  পরীক্ষা শেষ করে  মেধাবী ও দুরন্তপনা কোমলমতি শিক্ষার্থীরা আর্জেন্টিনা  ও ব্রাজিল দলে বিভক্ত হয়ে খেলতে নামে মাতামুহুরীর ব্রীজের নীচে পূর্বচরে।কে জানে, সখের ফুটবল খেলা শেষ না হতেই মৃত্যুদূত তাদের পেয়ে বসবে? চির বিদায় নিতে হবে পৃথিবী থেকে? রাক্ষুসে মাতামুহুরীর ইতিহাসে যুক্ত হবে আরেকটি মর্মন্তুদ ট্রাজেডি?
মাতামুহুরী নদীতে নিখোঁজ হওয়া ছাত্ররা হলেন, চকরিয়া গ্রামার স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র ও আনোয়ার শপিং কমপ্লেক্সের মালিক আনোয়ার হোছাইনের দু’পুত্র আমিনুল হোছাইন এমশাদ (১৭) ও তার ছোট ভাই একই স্কুলের ৮ম শ্রেণীর ছাত্র আফতাব হোছাইন মেহেরাব (১৫), একই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র ও মানিকপুর তর্দরূপ ভট্ট্রাচার্য্যের পুত্র তুর্ণ ভট্রাচার্য (১৭), গ্রামার স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলামের পুত্র ও ১০ম শ্রেণির ছাত্র সাঈদ জাওয়াদ আরভি (১৭) ও চিরিংগা সরকারী হাসপাতাল পাড়ার মোহাম্মদ শওকতের পুত্র ১০ম শ্রেণির ছাত্র ফারহান বিন শওকত (১৭)। নদীতে ৫ ছাত্র নিখোঁেজর ঘটনায় চকরিয়ার সর্বত্রে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতদের পরিবারের কান্নায় ও আহাজারীতে আকাশ-বাতাশ ভারি হয়ে উঠেছে। তাদের বাড়িতে নিহত ছাত্রদের একনজর দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভীড় জমাচ্ছে।
চকরিয়া উপজেলা সরকারি কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার মো. ইখতিয়ার উদ্দীন আরাফাত। তার নেতৃত্বে চলছিল উদ্ধার অভিযান। তিনি বলেন, কক্সবাজারের কোথাও ডুবুরি দল পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রামে খবর দেওয়া হয়েছে। এর আগেই স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের দমকল বাহিনী ও এলাকার লোকজন নানাভাবে খোঁজ করে একজনকে জীবিত ও চার জনের লাশ উদ্ধার করেছে। ঘটনার খবর পেয়ে মাতামুহুরী নদীর চরে ছুটে যান চকরিয়া-পেকুয়া আসনের জাতীয় সংসদ আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইলিয়াছ, চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আলম, চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) কাজী মো: মতিউল ইসলাম,জেলাা আওয়মিলীগের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম,জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলামসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারা শোকাহত পরিবার পরিজনের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*