চকরিয়ায় নলবিলা বন বিটের পাহাড় কেটে সমতলকালে পাহাড় ধসে পড়ে দুই শ্রমিক আহত

চকরিয়ায় নলবিলা বন বিটের পাহাড় কেটে সমতলকালে পাহাড় ধসে পড়ে দুই শ্রমিক আহত
মোঃ নাজমুল সাঈদ সোহেল , কক্সবাজারের(চকরিয়া)প্রতিনিধি ;; কক্সবাজার উঃ বন বিভাগের  চকরিয়া ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের আওতাধীন নলবিলা বিটকাম চেক ষ্টেশনের ইসলামনগরস্থ পূর্ব নলবিলায় পাহাড় ধসে দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছে। গতকাল ২২ মে (মঙ্গলবার)উপজেলার ইসলামনগর বোখারী মাদ্রাসার পূর্বপাশে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের রির্জাভ বনভূমির মাদার ট্রি গর্জন ও বেত বাগান এলাকায় পাহাড় কেটে সমতল করতে গিয়ে এ দূর্ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই দুই শ্রমিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক অবস্থায় চকরিয়া ইউনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
উক্ত ঘটনার সূত্রপাত উদঘাটন করতে গিয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে নলবিলা বিটকাম চেক ষ্টেশনের এক বন প্রহরীর সাথে আলাপকালে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, চকরিয়া উপজেলা লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত মাশুক আহমদের পুত্র  মনজুর আলম দীর্ঘদিন ধরে নলবিলা বিট অফিসের ভিলেজার হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন করে আসছেন।ভিলেজারের দ্বায়িত্ব সুবাদে অতীতের বিভিন্ন সময়ে বিট ষ্টেশনের দ্বায়িত্বরত বিট অফিসারদের সাথে লাভজনক অফার জুড়ে দেওয়ার মাধ্যমে সু-সম্পর্কের ভিত্তিতে সখ্যতা গড়ে তুলে।সেই সুবাদে নলবিলা বিটের অধীনস্থ সরকারি রিজার্ভ বনভূমির লক্ষ টাকা মূল্যের মূল্যবান মাদার ট্রি গর্জন গাছ কাঠ চোরদের সাথে যোগসাজশের ভিত্তিতে টাকার বিনিময়ে গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করে দেয়।যারফলে নলবিলার সবুজ বেষ্টনীর চরণ ভূমি আজ মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।জন্মসূত্রে ভিলেজার মনজুরের বাড়ি বিটের পাশাপাশি হলেও বাসস্থল গড়ে তুলে সরকারী রিজার্ভ বন ভূমিতে। নলবিলা বনবিটের বেশকিছু জায়গা চটগ্রাম -কক্সবাজার মহাসড়কের দুপাশে অবস্থান হওয়াতে জমির চাহিদার অভাব নেই। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের একজায়গায় বাড়ীঘর তৈরি করে কিছুকাল অতিবাহিত করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিটের সংস্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ টাকা ভাগভাটোয়ারা করে ক্রেতাকে বসত ভিটা বুঝিয়ে দেয়।এরপর একই জায়গার পাশাপাশি দ্রুতগতিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসতী গড়ে। একই কায়দায় তাদের মনপ্রোত ভাল মূল্যের ক্রেতা পেলে তাৎক্ষণিক বিক্রি করতে বিন্দুমাত্র দিধাবোধ থাকে না।এধরনের বনাঞ্চলে নতুন বসতি কোন সংবাদকর্মী  রিপোর্টকালে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে বক্তব্য প্রদানের সময় বিষয়টি অবগত হলে নামেমাত্র লোকদেখানো উচ্ছেধ অভিযান চলে।সরকারী বনাঞ্চলে বসতি স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকাকালেও এসব স্থাপনা পূর্বের স্থাপনার চেয়েও আরো বড় পরিসরে প্রসার ঘটে। এর একমাত্র মূল কারণ হল কোনভাবে যদি স্থাপনা বিষয়ে মামলা গড়ানো যাই তখন বন কর্মকর্তারা  দায়মুক্তি হলাম মনসে ভিলেজারদের মাধ্যমে “উক্ত ভিকটিমের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে জামাই আদরের মত কান্ডলীলায় মেতে উঠে।একপর্যায়ে কন্ডিশন পাকাপোক্ত করে উল্টো বিয়ায় বিয়ানীর মত সম্পর্কের সম্প্রসা ঘটে।ঠিক সেইম বিষয়ে বর্তমান ঘটনার স্থান থেকে আরকান মহাসড়কের  সোজা পশ্চিম পাশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে বসতি নির্মাণে বাধা প্রদানকালে সংস্লিষ্ট বন আইনে মামলা রুজু করে বিট কর্মকর্তা।আদালতে  উক্ত মামলা নিস্পত্তি হওয়া তো দূরের কথা  তার আগেই তীক্ষ্ণমেধা সম্পন্ন ভিলেজার মনজুর মারফত বাণিজ্যিক কন্ট্রাক করে ঐ জায়গায় দুইটি পাকা বিল্ডিং নির্মাণ করে।এককথায় বলতে গেলে তাদের দূর্নীতির কাছে আইন অনেকটা অসহায়।যার প্রেক্ষিতে ভিলেজার মনজুর একপর্যায়ে ভূমিদস্যু হয়ে উঠে। এভাবে  জবরদখল করে আসছেন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জায়গা। পাহাড় কেটে সমতল করে জমি বিক্রি করছেন।
গতকাল মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ভূমিদস্যু মনজুর আলমের নেতৃত্বে ৪-৫জন শ্রমিক পাহাড় কেটে সমতল করছেন। হঠাৎ করে একটি পাহাড় ধসে সেখানে কর্মরত দুই শ্রমিক মাটি চাপা পড়ে যায়। এসময় স্থানীয় লোকজন উদ্ধার তৎপরতা চালালেও ব্যর্থ হয়ে চকরিয়া দমকল বাহিনী ও পুলিশকে খবর দেয়। পরে দমকল বাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে মূর্মষ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন, কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ইসলামনগর ৭নং ওয়ার্ডের মৃত আবু বক্করের পুত্র খাইরুল আমিন (২৫) ও কাকারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের নুর মোহাম্মাদের পুত্র হেলাল (৪০)। তাদেরকে চকরিয়া ইউনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে আহত শ্রমিক শঙ্কা মুক্ত নয় বলে জানান চিকিৎসকরা।
এবিষয়ে নলবিলা বিট কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে অনুপস্থিতিতে মুঠোফোনে  সংযোগ স্থাপন করতে অপারগতায় বিট কর্মকর্তা আকরাম আলীর বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*