চন্দনাইশে সামান্য জ্বরে শিশুর মৃত্য,চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ : মা-বাবার বুক ফাটা আর্তনাদ

চন্দনাইশে সামান্য জ্বরে শিশুর মৃত্য,চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ : মা-বাবার বুক ফাটা আর্তনাদ

মোঃ নুরুল আলম,চন্দনাইশ প্রতিনিধি :একমাত্র সন্তান মাইশার জ্বর এসেছিল। ভেবেছিলেন প্রতিদিনের মত রাত্রি নাগাদ সেরে যাবে। কিন্তু সময় যতই যেতে থাকে জ্বর বাড়তে থাকে। এক সময় কাঁপুনি শুরু হয় ৩ বছর ৯ মাস বয়সী শিশু মাইশার। কিন্তু ততক্ষণে গভীর রাত। এত রাতে কোথায় নিয়ে যাবেন সন্তানকে। তাই স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ছেলের পাশে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে ভোরের আলোর অপেক্ষায় ছিলেন। এক সময় ভোরের আলো ফুটল ঠিকই, কিন্তু নিভে গেল ছোট্ট মাইশার জীবন প্রদীপ। গত ৩ই সেপ্টেম্বর সোমবার রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রামস্থ আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালের শিশু বিভাগের সামনে শিশু মাইশার মৃত্যুর খবর শুনে সবাই শোকার্ত হয়ে পড়েন। শিশুটির বাবা-মা,চাচা-চাচী,দাদা-দাদী নানা নানী, খালা, ফুফু সবাই অশ্রুজলে সিক্ত হয়ে যাকেই পাচ্ছিলেন তাকেই জড়িয়ে ধরে আর্তনাদ করছিলেন আর বারবার বলছিলেন ভুল চিকিৎসায় মাইশার মৃত্যু হয়েছে। মাইশার বাবা মোঃ রুবেল সওদাগর জানান, গত ২৩আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মাইশার জ্বর হয়। তার বাবা-মা ভেবেছিলেন জ্বর হয়তো রাতে সেরে যাবে। তাই প্রাথমিকভাবে তাকে চিকিৎসা দিয়েছেন তারা। কিন্তু রাত ৩টার দিকে মাইশার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। এত রাতে চিকিৎসক পাওয়া যাবে না ভেবে তারা সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। এরপর ২৪ আগস্ট সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে শিশুটিকে নিয়ে এসে চন্দনাইশস্থ বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করেন এবং ২৪ আগস্ট থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৫ দিনে কোনরকমে জ্বর কমাতে পারিনি ডাক্তারা এরপর তারা মাইশাকে রিলিজ নিয়ে চট্টগ্রামস্থ হাসপাতালে রেফার করে। এরপর মাইশাকে নিয়ে যাওয়া হয় আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে সেখানে ২৯ আগস্ট থেকে ৩ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডাক্তারা চিকিৎসা করে মাইশার কিন্তু তারা ৩০টি মত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ইনজেকশন দিয়েও মাইশার জ্বর কমাতে পারে নি এরপর অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে রাখার মাইশা ৩ই সেপ্টেম্বর রাত ৩টায় শিশুটি মারা যায়। শিশুটির বাবা রুবলের অভিযোগ, চিকিৎসকরা মাইশার ভালো চিকিৎসা করেননি। তিনি জানান, হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা প্রথমে যে চিকিৎসা দিয়েছেন তাতে তার শিশু জ্বর কোথায় থেকে উঠতে ছিলো তা নির্ণয় করতে পারেননি এরপর সে শিশুটিকে তারা ৩০টি উপরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ইনজেকশন দিয়ে তার শিশুর অবস্থার অবনতি হয়। মোঃ রুবলের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামস্থ চন্দনাইশ উপজেলার চৌধুরী পাড়া গ্রামে। গাছবাড়িয়াস্থ খাঁনহাটে দোকানদার করেন তিনি। সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি, তার স্ত্রী নার্স ও চিকিৎসকদের দ্বারে ঘুরে বারবার বলছিলেন তার শিশুটিকে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকরা তাকে বারবার বোঝাতে চেয়েছেন যে তার শিশুটিকে কোনো চিকিৎসকই মারতে চাইবে না। কারণ কোনো চিকিৎসকের কাজ নয় এটা। চিকিৎসকরা বলছেন, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন শিশুটিকে বাঁচাতে। কিন্তু সন্তান হারা মা বাবার মন কোনো কিছুতেই বুঝতে চাইছে না। শিশুটির মা রিয়া আক্তার বলেন, ‘সামান্য জ্বর হইছিল আমার বাবুর, এই জ্বরে বুঝি আমার মানিক মইরা যাইবো? হেরা ভালো কইরা চিকিৎসা করেনি।’ একথা বলেই বুকফাটা আর্তনাদে আর কোনো কথা বলতে পারেননি তিনি। অশ্রুসিক্ত নয়ন ওড়না দিয়ে মুছছেন কাঁদছিলেন। এ ব্যাপারে শিশু ওয়ার্ডের কর্তব্যরত একজন চিকিৎসক জানান, শিশুটির চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা কিংবা ভুল চিকিৎসা দেয়া হয়নি। তিনি চিকিৎসাপত্র দেখিয়ে বলেন, তাকে এখানকার সিনিয়র চিকিৎসকরা দেখেছেন। তার উপযুক্ত চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এখানে আনার পর তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছিল। সেগুলোর করার পরও চিকিৎসা ভালো করা হয়েছে কিন্তু শিশুটি মারা গেছে। তিনি বলেন, আদরের সন্তান হারিয়ে তারা হতাশ হয়ে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ দিচ্ছেন। এটা যেকোনো বাবা মা-ই করবে। কিন্তু তাদের যখন বুঝিয়ে বলা হয়েছে চিকিৎসার ব্যাপারে তখন তারা সবকিছু বুঝে তাদের শিশুটিকে নিয়ে গেছে হাসপাতাল থেকে। শিশুটিকে চৌধুরী পাড়াস্থ কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিশুটির বাবা মোঃ রুবেল সওদাগর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*