চুয়াডাঙ্গায় বেড়েছে পেয়ারার চাষ: লাভবান হচ্ছে চাষিরা

চুয়াডাঙ্গায় বেড়েছে পেয়ারার চাষ: লাভবান হচ্ছে চাষিরা

সালেকিন মিয়া সাগর,চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধিঃ চুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে পেয়ারার বাগান নতুন বাগানের ভিতরে চাষ হচ্ছে সাথি ফসল। এই বাগান থেকে ভালো লাভবান হচ্ছে বাগান মালিকগণ। আপেলে ফরমালিন থাকার আশঙ্কায় বেশির ভাগ নাস্তার টেবিলে আপেলের বিকল্প হিসেবে পেয়ারাকেই বেছে নিচ্ছেন অনেকেই। তাছাড়া পেয়ারা একটি পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও ঔষধি গুণস¤পন্ন ফল এবং এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। বিঘা প্রতি বাগান করতে খরচ হয় ২০-২৫ হাজার টাকা। এই বাগান থেকে কয়েক লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, জেলায় ১৮০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা বাগান গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৫৬ হেক্টও, জীবননগর উপজেলায়, ৩৫ হেক্টর দামুড়হুদা উপজেলায় ২৭ হেক্টর ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ৬২ হেক্টর জমিতে। এসকল বগোন থেকে চলতি বছর উৎপাদন হয়েছে ৪ হাজার ৭শত ১ মেট্রিক টন পেয়ারা।

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের পেয়ারা চাষি বজলুর রহমান বাঁধন জানান, এইচএসসি পাশ করে চাকরির জন্য অনেক ঘুরেছি। কিন্তু চাকরির জন্য ঘুরে চাকরি না মিললে বিদেশ যাওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তখন দালালদের খপ্পরে পড়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফিরে আসতে দেখে শেষমেষ বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্তও পরিবর্তন করি। পরে এক পেয়ারা চাষীর পরামর্শে ২০১৭ সালে গড়ে তুলি পেয়ারার বাগান। বর্তমানে মোট ২২ বিঘা জমিতে পেয়ারার বাগান করা হয়েছে। এই বাগানে ৩ জাতের পেয়ারার চারা রোপন করা হয়। এরমধ্যে চায়না-৩ জাত ১৫ বিঘা, চায়না-৭ জাত ৩ বিঘা। এই তিনটি জাতের মধ্যে চায়না-৭ জাতেই ফলন সবচেয়ে বেশী। এতে তার খরচ হয়েছে সাড়ে ৪ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা। ঐ বাগানে প্রথম বছরে সাথি ফসল হিসাবে মিষ্টি কুমড়া, পেয়াজ ও মুশুরী চাষ করা হয়। এ থেকে থেকে আয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখের মতো। চলতি জুনের শেষ নাগাদ এই পেয়ারার বাগান থেকে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার মতো পেয়ারা বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন। এছাড়াও দীর্ঘ মেয়াদী এই পেয়ারা বাগান থেকে ৫ বছরে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার মতো আয় হতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন ২০-২৫ জন শ্রমিক নিয়মিত তার বাগানে কাজ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*