জয়পুরহাটের পুরানাপৈল বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতার সামগ্রী বিক্রয়

জয়পুরহাটের পুরানাপৈল বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতার সামগ্রী বিক্রয়
রাজা চৌধুরী, জয়পুরহাট প্রতিনিধি: সেহেরী খেয়ে সারা দিন রোজা রেখে ইফতারে তেলে ভাজা ছোলা, বেগুনি, পিয়াঁজু, মিহিদানা, জিলাপী-সহ ভোজ্য তেল দিয়ে তৈরি নানান ইফতার সামগ্রী না হলে আমাদের চলেইনা।
পবিত্র মাহে রমজান মাসকে কেন্দ্র করে এখন প্রতিদিন বিভিন্নস্থানে বিক্রি করা হচ্ছে নানান মুখরোচক ও দৃষ্টি আকর্ষণকারী ইফতার। দুপুরের সময় গড়াতে না গড়াতেই শুরু হয় ইফতার তৈরির কাজ। আর এসব তৈরিকৃত ইফতার বিক্রির জন্য বড় বড় থালাতে প্রদর্শন করে চলে বিক্রিও। পবিত্র রমজান মাসে রোজাদাররা সেহেরী খেয়ে রোজা রাখেন। প্রতিদিন ইফতারের ঘন্টা দুই এক আগে বিভিন্নস্থানের তৈরিকৃত এসব নানান ইফতার কিনে নিয়ে ইফতার করেন ধর্ম প্রাণ মুসলমানরা। তবে বিভিন্ন জায়গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে যেভাবে ইফতার সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে তা নিয়মিত ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জয়পুরহাট জেলা উপজেলা এবং ইউনিয়নের বেশ কিছু জায়গায় দেখা গেছে ইফতারের নানান খাবার তৈরি করে তা খোলা জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে খোলাবস্থায় রাখা জিলাপী ও মিহিদানার উপর মাছি যেন মনের আনন্দে খেলাধুলা করছে। একদিকে গাড়ীর কালো ধোঁয়া অপরদিকে গাড়ী চলাচলের ফলে বাতাসে ভেসে থাকা পথের ধূলোবালিও পড়ছে এসব ইফতারের উপর। আর আমরা তা কেমন যেন না জেনে নিরূপায় হয়ে খাচ্ছি প্রতিনিয়ত। আবার কজন সচেতন ক্রেতা সাধারণ এই বিষয় গুলোর কথা চিন্তা করছেন? তবে বেশির ভাগ মানুষই এসব নোংরা পরিবেশে তৈরী ইফতার গুলো ক্রয় করে খাচ্ছে। এদের মধ্যে নিম্ন আয়ের মানুষেরাই বেশি।
সরেজমিনে জয়পুরহাট শহরের বিভিন্ন স্থানে এবং কিছু ছোট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে এসব অস্বাস্থকর পরিবেশে তৈরী হচ্ছে ইফতার সামগ্রী। অনেক ক্রেতা সাধারণ এসব ইফতারের স্বাস্থ সম্মত ও পুষ্টিগত গুণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এসব ইফতার খাদ্য হাট-বাজারের রাস্তার পাশে বিভিন্ন দোকানের সামনে শুধু প্লাস্টিক ও পেপার দিয়ে ডেকে খোলা আকাশের নিছে এসব ইফতার বিক্রয় করছে দোকানীরা। তবে রমজানে বাজার মনিটরিং এ কোন নজর নেই সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের। কিন্তু এসব খাদ্য ও অস্বাস্থাকর ইফতারের জন্য বাজার মনিটরিং এর কোন অভিযান চোখে পড়ছেনা বলে অভিযোগ করছেন বাজারের ক্রেতা সাধারণ। এসব মুখ রোচক ইফতার সামগ্রী তৈরি করার সময় বিক্রেতারা যে ভোজ্য তেল  ব্যবহার করে তা বারবারই ব্যবহার করে থাকে। আর এই তেল দিয়ে তৈরিকৃত খাবার মানব দেহের জন্য নানা দুরারোগ্য ব্যাধি এমনকি ক্যান্সার-সহ বিভিন্ন রোগ কারণ হতে পারে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেন।
এদিকে শুধু তাই নয় ইফতারি তৈরি করতে যে ক্যামিকেল রং ব্যবহার করা হয় তাও মানবদেহের জন্য বেশ ক্ষতিকারক এ ব্যাপারে পুরানাপৈল বাজারের বেশ কয়েকজন ডাক্তার বলেন, দুইবারের অধিক ব্যবহৃত ভোজ্য বাসী তেল ক্ষতিকারক কার্বনের সৃষ্টি করে। ফলে এই তেল দিয়ে তৈরিকৃত যে কোন খাবার মানব দেহে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে, তাছাড়া ক্ষতিকারক যে রং খাবারে ব্যবহার করা হয় তা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এই রংমিশ্রিত খাবার ও খোলা খাবারে বসা মাছির জিবাণু মিশ্রিত খাবার খেলে পেটের পীড়া, বদহজম, হেপাটাইসিস, ডায়রিয়াসহ কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। ফলে এসব ভেজাল ইফতার সামগ্রী খেয়ে নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে রোজাদার সাধারণ মানুষ। তিনি রংবিহীন স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে এবং বিশেষ করে তেল জাতীয় বেশী ভাজাপোড়া খাবার যতদূর সম্ভব বর্জন করার পরামর্শ দেন। ধর্ম প্রাণ মুসলমান রোজাদাররা দাবী করেন, যারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরি, খাবারে ক্ষতিকারক ভোজ্য বাসী তেল ব্যবহার ও ক্ষতিকারক রং মিশিয়ে খাবার তৈরি করে বিক্রি করছেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা ও বাজার মনিটরিং এর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী-সহ নিয়মিত ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন বাজারের ক্রেতা সাধারণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*