জাতীয় পার্টিকে যে সব আসন ছাড় দিচ্ছে আওয়ামী লীগ

জাতীয় পার্টিকে যে সব আসন ছাড় দিচ্ছে আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :  ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান এমপিদের আসনগুলো ছেড়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ।আসন বণ্টন নিয়ে এখনো জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক না হলেও ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ পর্যায়ে এ বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে।বর্তমানে সংসদে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের শরিক দলগুলোর সরাসরি নির্বাচিত ৪৯ সদস্য রয়েছেন। শরীকদের জন্য এর বাইরে আরো ২১ আসন শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।

সবমিলিয়ে জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য শরীকদের সর্বোচ্চ ৭০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারনী পর্যায়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।দশম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি থেকে সরাসরি নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা ৩৪ জন। তবে তাদের মধ্যে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ময়মনসিংহ-১ আসনের এমপি এম এ হান্নানকে মনোয়ন দিতে তীব্র আপত্তি আছে আওয়ামী লীগের।

এক্ষেত্রে জাতীয় পাটির জন্য আসন ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে ৩৩টি। আর ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির ছয়, জাসদ পাঁচ, তরীকত ফেডারেশন দুই ও জেপি থেকে সরাসরি নির্বাচিত আছেন দুই সদস্য। অর্থাৎ জাতীয় পার্টির বাইরে ১৪ দলের শরীকরা পাচ্ছে ১৫ আসন। সবমিলিয়ে ৪৮ জন বর্তমান এমপির ব্যাপারে আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায় থেকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী ১৪ দলের শরিক জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, জেপি ও তরীকত ফেডারেশনের নেতাদের দু-এক দিনের মধ্যে অনুরূপ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় পার্টির শীর্ষস্থানীয় একটি সূত্র জানায়, বিএনপি নির্বাচনে এলে জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করবে ১৪ দল। সে ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টি যে ৩৪টি আসন থেকে নির্বাচিত হয় তার সব কয়টি পাবে।

আওয়ামী লীগের ছেড়ে দেওয়া আসন গাইবান্ধা-১-এর উপনির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী নির্বাচিত হন। ওই আসনটিও জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হবে। এর বাইরে আরো ১০-১৫টি আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিতে পারে আওয়ামী লীগ।

জাপার যারা আগামী নির্বাচনে জোটের মনোনয়ন পেতে পারেন : নীলফামারী-৪ শওকত চৌধুরী, লালমনিরহাট-৩ জি এম কাদের, রংপুর-১ মশিউর রহমান রাঙ্গা, রংপুর-৩ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, কুড়িগ্রাম-১ এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান, কুড়িগ্রাম-৩ ডা. আক্কাস আলী, গাইবান্ধা-১ শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বগুড়া-২ শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ, বগুড়া-৩ নুরুল ইসলাম তালুকদার, বগুড়া-৬ নুরুল ইসলাম ওমর, বগুড়া-৭ আলতাফ আলী, পটুয়াখালী-১ এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, বরিশাল-৬ নাসরিন জাহান রত্না, জামালপুর-৪ মামুনুর রশীদ, ময়মনসিংহ-৪ রওশন এরশাদ, ময়মনসিংহ-৫ সালাউদ্দিন আহমেদ, ময়মনসিংহ-৮ ফখরুল ইমাম, কিশোরগঞ্জ-৩ মুজিবুল হক, ঢাকা-১ সালমা ইসলাম, ঢাকা-৪ সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, ঢাকা-৬ কাজী ফিরোজ রশীদ, নারায়ণগঞ্জ-৩ লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ-৫ সেলিম ওসমান, সুনামগঞ্জ-৪ পীর ফজলুর রহমান, সিলেট-২ ইয়াহইয়া চৌধুরী, সিলেট-৫ সেলিম উদ্দিন, হবিগঞ্জ-১ আবদুল মুনিম চৌধুরী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ জিয়াউল হক মৃধা, কুমিল্লা-২ আমির হোসেন, কুমিল্লা-৮ নুরুল ইসলাম মিলন, লক্ষ্মীপুর-২ মোহাম্মদ নোমান, চট্টগ্রাম-৫ আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৯ জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু এবং কক্সবাজার-১ মোহাম্মদ ইলিয়াস। এ ছাড়া লালমনিরহাট-৩ আসনে জি এম কাদের মনোনয়ন পাবেন। কুড়িগ্রাম-২ আসনটিও জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*