জামালপুরের নারীর কর্মস্থান হস্তশিল্প

জামালপুরের নারীর কর্মস্থান হস্তশিল্প
রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের হস্তশিল্প‘র (কারুশিল্প) মাধ্যমে প্রায় ৬০ হাজার নারীর কর্মস্থান হয়েছে। এ শিল্পকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে পাঁচ শতাধিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। যাদের বেশির ভাগই নারী। এসব উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে প্রায় ৬০ হাজার নারীর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আশির দশকে কয়েকজন নারী উদ্যোক্তা ব্যবসায়িক ভাবে সীমিত আকারে হস্তশিল্প‘র (কারুশিল্প) কার্যক্রম শুরু করেন। বর্তমানে শিল্পটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। জেলার গ্রামীণ নারীদের কারুকার্য্যপূর্ণ নিঁপুন হাতের তৈরি নকশিকাঁথা, চাঁদর, শাড়ী, থ্রীপিচ, সাইড ব্যাগ, পাঞ্জাবী, শপিং ব্যাগ, ওয়ালম্যাটসহ রকমারি পণ্য দেশের গন্ডি পেরিয়ে ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ইউরোপ-আমেরিকাসহ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে।জামালপুরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নকশিকাঁথা এখন সম্ভাবনার নতুন দ্বার উম্মোচন করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে রূপ নিয়েছে। গাঁয়ের বধূরা ঘরে বসেই নিঁপুন হাতে সেলাইয়ের নকশিকাঁথাসহ রকমারী ডিজাইনের পোষাক তৈরী করে হাজার হাজার টাকা আয় করছে। ক্ষুদ্র নারী উদ্যাক্তারা তাদের নকশিকাঁথা ও রকমারী পোষাক বাণিজ্যিক ভাবে দেশ-বিদেশে রপ্তানী করে লাখ লাখ টাকা আয় করছে। এ শিল্পকে ঘিরে শহরের বাসাবাড়ি ও অলিগলিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হস্ত ও কারুশিল্প সামগ্রীর দোকান। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মহাজনরা এসে বিভিন্ন ডিজাইনের নকশিকাঁথা, ওয়ালম্যাট, বিছানার চাদর, সোফার কুশন, পাপোষ, ফতুয়া ও নকশি করা রকমারী ডিজাইনের পাঞ্জাবী, মহিলাদের হ্যান্ড ব্যাগসহ নানা পোষাক ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ঈদ-পুজাসহ বিভিন্ন সামাজিক উৎসবের সময় হস্তশিল্প সামগ্রী ও শীতের সময় নকশি কাঁথার চাহিদা ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। এছাড়াও জেলায় কোন অতিথির আগমন ঘটলে ঐতিহ্যবাহী নকশিকাথা উপহার দেওয়া হয়। জেলা বিভিন্ন উপজেলার মহিলারা হস্তশিল্পকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। জামালপুরের কারুশিল্পের উন্নয়নে এবং নারী উদ্যোক্তাদের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ন্যাশনাল ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণের ব্যবস্থা করায় অনেক উদ্যোক্তা তাদের ব্যবসার প্রসার ঘটিয়েছেন। সফল উদ্যোক্তা সাহিদা আক্তার জানান, কারু ও কুটির শিল্পের প্রতি সরকারের নজর থাকলে ঘরে বসেই নারীরা দেশ-বিদেশে ব্যবসা চালিয়ে আরও বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। পাশাপাশি গ্রামীণ বেকার মহিলারা ঘরে বসে সংসারের পাশাপাশি এ শিল্পের মাধ্যমে বাড়তি উপার্জন করতে সক্ষম হবে। এ ব্যবসা করে দীপ্ত কুটির, শতদল, রঙধনু, প্রত্যয়, প্রতীক হ্যান্ডিক্র্যাফ্্টসহ অনেক উদ্যোক্তাই আজ স্বাবলম্বি হয়েছে। এ শিল্পের সাথে জড়িতরা জানান, সরকারি সহযোগিতা পেলে পোষাক শিল্পের ন্যায় এ হস্ত/কারুশিল্পের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি এ শিল্পের উপর সরকারের করারোপের ঘোষণায় উদ্যোক্তাদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে জামালপুর হস্তশিল্প মালিক সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন কর প্রত্যাহারের দাবীতে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদানসহ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*