জামালপুরের বাহাদুরাবাদ-বলাসী ঘাটে ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকায় ১৩ জেলার মানুষের দূর্ভোগ

জামালপুরের বাহাদুরাবাদ-বলাসী ঘাটে ফেরি সার্ভিস বন্ধ থাকায় ১৩ জেলার মানুষের দূর্ভোগ
রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুর প্রতিনিধি : বাহাদুরাবাদ-বালাসী ঘাটে সকল প্রকার ফেরিসার্ভিস বন্ধ থাকায় ১৩ জেলার মানুষের দূর্ভোগ চরমে উঠেছে। দেশের বৃহত্তম রেলসংযোগ এ দুই ঘাটে জাহাজের দম ফাটানো হুইসেল, ট্রেনের ঝক্ঝকাঝক্ শব্দ, লাল পোশাকের কুলিদের হাকডাক, রেলযাত্রীদের আসা যাওয়া ও ভাসমান নৌ থানা পুলিশের ছুটে চলা এখন শুধুই স্মৃতি। এই সেই বাহাদুরাবাদ ঘাট যেখানে জাহাজের ডিজেল চুরির সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে জীবন দিয়েছিলেন চারণ সাংবাদিক মুনাতাজাত উদ্দিন। সংঘবদ্ধ তেল চোরেরা তাকে যমুনার পানিতে নিক্ষেপ করে হত্যা করেছিল। এখন আর সেই তেল চোরদেরও অস্তিত্ব নেই।
বৃটিশ সরকার প্রায় ২০০ বছর আগে ঢাকার সাথে উত্তর বঙ্গের বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুরসহ ১৩ জেলার সাথে রেল যোগাযোগ স্থাপনের জন্য বাহাদুরাবাদ-ফুলছড়ি ঘাটের মধ্যে রেলযাত্রী ও ওয়াগন ফেরিসার্ভিস চালু করে ছিল। পরবর্তিতে যমুনার ভাঙন ও নাব্যতা সংকটে চ্যানেল পরিবর্তন হওয়ায় পশ্চিম পাড়ের ঘাট বালাসী নামক স্থানে স্থানান্তর করা হয়। ওই সময় এ ঘাট দিয়ে রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, গাইবান্ধা, নিলফামারী কুড়িগ্রাম এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের তিন জেলাসহ ১৩ জেলার লাখ লাখ রেলযাত্রী ও হাজার হাজার মেট্রিকটন মালামাল পারাপার হতো। জাহাজের দম ফাটানো হুইসেল, ট্রেনের ঝক্ঝকাঝক্ শব্দ,লাল পোশাকের শত শত কুলির হাকডাক, যাত্রীদের আসা যাওয়ার পদভার, হোটেল ও বিভিন্ন দোকানীদের জমজমাট ব্যবসায় মুখরিত থাকত। এখন আর এখানে সংঘবদ্ধ তেল চোরেরা নেই। সাংবাদিক মুনাতাজাত উদ্দিনের মতো কোন সাংবাদিকও আর এখানে আসেনা।
২০০৩ সালে প্রথমে যাত্রী ফেরি বন্ধ করে সীমিত আকারে ওয়াগনফেরি চালু রাখা হয়। ফলে ঢাকা-বাহাদুরাবাদ আন্তঃনগর তিস্তা, একতা (বর্তমান ব্রহ্মপুত্র) ট্রেন দুটির গন্তব্য দেওয়ানগঞ্জ রেল স্টেশন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। পরে ২০০৭ সালে সকল প্রকার ফেরি (জাহাজ) চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় হয়। বাহাদুরাবাদ নৌ থানা উঠে আসে ডাঙ্গায়। বর্তমানে দেওয়ানগঞ্জের একটি ভাড়া বাড়িতে নৌ থানার কাজ চলছে। এতে নদী পথে আইন-শৃঙ্খলার রক্ষার কোন কাজ হচ্ছেনা।
ফলে ১৩ জেলার অসংখ্য রেলযাত্রী দেওয়ানগঞ্জ রেল স্টেশন নেমে দূর্ভোগের মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছোট ছোট নৌকায় যমুনানদী পারাপার হচ্ছেন। বগুড়ার সারিয়াকান্দির যাত্রী ইব্রাহিম জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে অনেক পথ ঘুরে বেশি টাকা ব্যয় করে তাদের বাড়ি যেতে হয়। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হলেও নৌকা দিয়ে পারাপার হচ্ছি।
২০০৯ সালে জনদূর্ভোগ লাগবে সরকার আবারও বাহাদুরাবাদ-বালাসী ঘাটের মধ্যে ফেরি সার্ভিস চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করায় নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী কয়েক দফা বাহাদুরাবাদ-বালাসী ঘাটের মধ্যে চ্যানেল সরেজমিন পরির্দশন করেন। তারা পুনরায় দুই ঘাটের মধ্যে ফেরিসার্ভিস চালুর ঘোষণাও দেন। কিন্তু আজও পর্যন্ত ১৩ জেলার মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি। বাহাদুরাবাদ-বালাসী ঘাটে যমুনার তলদেশে টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ২ আগষ্ট ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে ময়মনসিংহের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় ট্রানেল নির্মাণের বিষয়েও আলোচনা হবে জানাযায়।
একটি সূত্র জানায়, ট্রানেলটি জেলার অন্য স্থানে নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে ১৩ জেলার মানুষের দুঃখ র্দূদশার কোন পরির্বতন হবেনা বলে জানা গেছে। বাহাদুরাবাদ ঘাট এলাকার কুলকান্দী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জুবায়েদর রহমান বলেন, অন্য স্থানে ট্রানেল নির্মাণ ১৩ জেলার মানুষের কোন লাভ হবেনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*