ডিভোর্স হওয়ার পর দেনমোহর, স্বর্ণালংকার, ফার্নিচার ফেরত চাওয়ায় হত্যার হুমকি

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন
ডিভোর্স হওয়ার পর দেনমোহর, স্বর্ণালংকার, ফার্নিচার ফেরত চাওয়ায় হত্যার হুমকি
নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম নগরীতে এক নারীকে হত্যার হুমকি দিয়েছে সাবেক স্বামী ও স্বামীর ভাই। হত্যার হুমকি পাওয়া নারী চট্টগ্রাম নগরীর ডাবলমুরিং থানার আব্দুল মোতালেবের মেয়ে বেনজির আক্তার প্রিয়াংকা (২৬)।
জানা যায়, ২০১৫ সালের জুলাইয়ের ২৭ তারিখ ইসলামী শরীয়তের বিধান মোতাবেক ১৫ লক্ষ টাকা মোহরনা ধার্য্য করে চান্দগাঁও থানার বহদ্দার হাট এলাকার আলী আকবরের সন্তান আলী আজগরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিয়ের সময় হত্যার হুমকি পাওয়া নারী বেনজির আক্তার প্রিয়াংকার পিতা মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে (১ হাজার বর যাত্রী, ৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১০ পদ ফার্নিচার) প্রায় ১২ লক্ষ টাকা খরচ করেন। কিন্তু বিয়ের পর দুই থেকে তিন মাস যেতে না যেতে স্বামী ও স্বামীর পরিবার ব্যবসায়ের জন্য টাকা লাগবে এই উদ্দেশ্যে যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে পরের বছর ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ১৭ তারিখে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে আব্দুল মোতালেব তিন লক্ষ টাকা স্বামীর পরিবারকে প্রদান করেন। এই টাকা পাওয়ার পর প্রায় মাস খানেক নিরব থাকলেও আবার স্বামীর পরিবার পাঁচ লক্ষ টাকার দাবি করে। কিন্তু বেনজির আক্তার প্রিয়াংকা এতে রাজি হচ্ছিলো না। তাঁর দাবি ছিলো, গত কয়েক মাস আগেও ব্যবসার নাম করে আমার বাবা মায়ের কাছ থেকে তিন লক্ষ টাকা নিয়ে এসেছেন। আমার বাবা মায়ের কাছে এতো টাকা নেই। দিতে পারবে না। এই কথা বলার পরও শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে স্বামীর পরিবারার। এক পর্যায়ে ২০১৭ সালের পহেলা মার্চ সন্ধ্যায় প্রিয়াংকাকে স্বামীর ভাই আলী আজিম (২৪) ও বোন তাছলিমা আক্তার (২৫) রান্না ঘরে কাজ করা অবস্থা থেকে ডেকে সামনের কক্ষে নিয়ে আছে। এসয়ম স্বামীর মা গোলশান আরা বেগম (৫০) প্রিয়াংকাকে স্বামীর কল ধরিয়ে দেয়। প্রিয়াংকা বলেন, ‘আমাকে রান্না ঘর থেকে ডেকে সামনে নিয়ে এসে আমার স্বামীর কল ধরিয়ে দেয়। এই সময় আমার স্বামী আমাকে বলে- তিনি বিদেশে ব্যবসা করবেন। এর জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। তোর বাবা মায়ের কাছ থেকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে টাকা নিয়ে এসে আমাকে পাঠাবি। এসময় প্রিয়াংকা উত্তর দেয়- তার বাবা মায়ের পক্ষে এই সময় পাঁচ লক্ষ টাকা আনা সম্ভব নয়। একথা বলার সাথে সাথে স্বামীর ভাই আজম তাঁর হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। স্বামীর বোন তাছলিমা আক্তারও এর সাথে যোগ দিয়ে হাতে থাকা রুটি বানানোর লোহার খস্তি দিয়ে বাম হাতে আঘাত করে। স্বামীর ভাই ও বোনের আঘাতে মাটিতে পড়ে গেলে এক পর্যায়ে স্বামীর মা গোলশান আরা বেগম চুলের মুঠি ধরে টানা হেঁচড়া করতে থাকে। এই সময় স্বামীর ভাই আলী আজম গলা চেপে ধরে শ^াসরোধ করে হত্যা করার চেষ্টা করলে প্রিয়াংকার আত্¥চিৎকারে আশে পাশের লোকজন এসে উদ্ধার করে। এক পর্যায়ে প্রিয়াংকাকে ওই সময় গায়ে থাকা পরা জামা নিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। প্রিয়াংকা বলেন, ওই দিন সবাই আমাকে শারীরিক নির্যাতন করে আমার পরনে থাকা কাপড় থাকা অবস্থায় আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এ সময় তারা হুমকি দিয়ে বলেছিলো, এক সপ্তাহের মধ্যে পাঁচ লক্ষ টাকা আনতে না পারলে যৌতুক নিয়ে তাদের ভাইকে আবার বিয়ে করাবে। এই নির্যাতন ও হুমকির বিষয়ে প্রিয়াংকা গত ২০১৭ সালের পহেলা মার্চ ডবলমুরিং থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ অভিযোগ না নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়।
প্রিয়াংকা বলেন. থানার পরামর্শ নিয়ে আমরা বিজ্ঞ আদালনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আইনে মামলা দায়ের করি।
এরপর প্রিয়াংকা নিজের ও গর্ভে থাকা সন্তানের জীবন রক্ষার কথা চিন্তা করে তালাক কার্যকর করা প্রয়োজন বোধ করেন। এরপর ০৫/১০/২০১৭ তারিখে প্রিয়াংকাকে তালাক দেন স্বামী আলী আজগর। বিজ্ঞ আদালত তিন লক্ষ টাকা উসুল বাবদ ১২ লক্ষ টাকা দেনমোহর ও প্রিয়াংকার খোরপোষ ৮ মাসের ৮০ হাজার টাকা ধার্য্য করে।
আইন অনুযায়ী তালাক দেওয়ার পর তিন লক্ষ টানা উসুল বাবদ ১২ লক্ষ টাকা দেনমোহর-খোরপোষ, স্বর্ণালংকার ও ফার্নিচার ফেরত দেওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহারকারী যৌতুক লোভী স্বামী ও স্বামীর পরিবার কিছুই ফেরত দেয়নি। আইন অনুযায়ী ফেরত চাওয়ার কারণে প্রিয়াংকাকে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন মাধ্যমে হত্যার হুমকি দিচ্ছে স্বামীর পরিবার।
এই বিষয়ে হত্যার হুমকি পাওয়া নারী বেনজিন আক্তার প্রিয়াংকা বলেন, আইন অনুযায়ী তালাক হওয়ার পর আমার দেনমোহর-খোরপোষ, আমার বাবার দেওয়া পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১০ পদ ফার্নিচার ফেরত দেওয়ার কথা। কিন্তু তারা কিছুই ফেরত দেয়নি বরং নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে আমাকে ও আমার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*