ডুমুরিয়ায়   জীবন যুদ্ধে  হার না মানা  জন্মান্ধ গোলক 

ডুমুরিয়ায়   জীবন যুদ্ধে  হার না মানা  জন্মান্ধ গোলক 
মারিয়া আফরিন পায়েল, ডুমুরিয়া, খুলনা।। অন্ধ  মানেই অন্যের উপর নির্ভর হয়ে বেঁচে থাকা নয়, পরিবার কিংবা সমাজের বোঝাও নয়। আত্মসম্মান বিসর্জন  দিয়ে সাহায্যের জন্য অন্যের দুয়ারে দুয়ারে ছুটে চলা স্বাভাবিক পন্থা। কিন্তু এর ব্যতিক্রম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে  জন্মান্ধ  খুলনার ডুমুরিয়া  উপজেলার দেড়ুলী গ্রামের পিতা ও পুত্র   শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ,মূল্যবান সম্পদ  দুটি চোখের দৃষ্টি নেই তাদের ।
জন্ম থেকে  পৃথিবীর আলো দেখেনি কোনোদিন।
জন্ম থেকেই অন্ধ গোলক  দারিদ্রতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পথে পথে ঘুরে মোবাইলের ফ্লেক্সি লোড দিয়ে চলছে তার জীবন সংগ্রাম । জীবনের চরম বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েও জীবন যুদ্ধে  হার মানেননি গোলক। একমাত্র অদম্য  শক্তি দিয়েই প্রতিকুলতা জয় করার চেষ্টা করছেন জন্মান্ধ গোলক মন্ডল।
 জন্মান্ধ পিতা ও পুত্রের   বিষন্নতার কান্না প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাদের। দুঃখ, কষ্ট, লাঞ্চনা, বঞ্চনা কাকে বলে এ পরিবারটির দিকে তাকালে তা অনুভব করা যায়।
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া  উপজেলার দেড়ুলী গ্রামের জন্মান্ধ কানাই লাল মন্ডলের দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের মধ্যে গোলক জন্মান্ধ। তার বড় ছেলে  কল্যাণ মন্ডল   দিন মজুরের কাজ করে এবং  তার কন্যা প্রমিলা মন্ডলকে বিয়ে দিয়েছে।বর্তমানে গোলকের পরিবারে বাবা, মা ও দাদাকে নিয়ে   চার জনের সংসার খরচ চালাতে হিমশিত খেতে হচ্ছে।সহায়-সম্বল  বলতে ভিটা বাড়ী ছাড়া আর কিছুই নেই।গোলকের দাদা দিন মজুরের কাজ করে যে টাকা পায় তা দিয়ে কোন রকম জীবন-যাপন করছে গোলকের পরিবার।   জন্মান্ধ গোলক প্রত্যেক  মাসে ৫০০শ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পায় এবং গোলকের দাদার  প্রতিদিন আয় ১০০/১৫০ টাকা তাই দিয়ে চলে তাদের সংসার। তবে বিস্ময়কর হলো, চলাচল করতে পথ চিনিয়ে দিতে কারো সাহায্যের প্রয়োজন হয় না তাদের। অনুভূতি ও নাকের ঘ্রাণ দিয়ে তাদের পথ চলা।
তথ্য সংগ্রহে  গোলকের বাড়ীতে গেলে গোলকের মা গীতা রানী মন্ডল বলেন, একা বড় ছেলে যে টাকা রোজগার করে তাতে আমাদের ৪জনের সংসার কোন রকম জীবন-যাপন করতে হচ্ছে। জন্মান্ধ  গোলকের বাবাকে সরকার যদি একটা বয়স্ক ভাতার কার্ডের ব্যাবস্থা করে দিত   তা হলে আমরা একটু সুস্থ্য ভাবে জীবন-যাপন করতে পারতাম। তিনি আরো বলেন দাদার একার কষ্টের কথা ভেবে গোলক ভিক্ষা না করে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে লোকের মোবাইলে টাকা লোড দেয়। এতে দিনে ৪০/৫০টাকা আয় হয়। এ টাকা ও বড় ছেলে যে টাকা রোজগার করে তা   দিয়েই আমাদের চার জনের সংসার কোনরকম   চলে যায় ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*