নাভারন মহিলা কলেজ শিক্ষকদের গালি দেওয়া নিয়ে উত্তেজনা চরমে

নাভারন মহিলা কলেজ শিক্ষকদের গালি দেওয়া নিয়ে উত্তেজনা চরমে

মোঃ আয়ুব হোসেন পক্ষী , বেনাপোল প্রতিনিধি: শার্শার একটি কলেজের শিক্ষকদের কুত্তারবাচ্চা বলে প্রকাশ্যে গালি দিলেন ওই কলেজের ক্যাশিয়ার। এ নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন তারা। ও ক্যাশিয়ারের শাস্তির দাবিতে তারা ক্লাস বর্জনসহ মানবন্ধন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের শার্শার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপিঠ নাভারণ ফজিলাতুননেছা মহিলা কলেজে। কিছুদিন আগেও এই ক্যাশিয়ার একই কলেজের সাময়িক বরখাস্ত অধ্যক্ষ জনাব জামাল উদ্দিনকে বেধরক মারপিট করেন রাস্তায় ফেলে। জানা গেছে, গত ১৭ মে শার্শার এমপি শেখ আফিল উদ্দিন এ কলেজ চত্ত্বরে একটি নতুন ভবন কোথায় স্থাপন করা যায় সে বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লাইলা আফরোজবানুসহ সকল অধ্যাপকগণের সাথে মত বিনিময় করার জন্য এসেছিলেন। কিন্তু কলেজ অধ্যক্ষের যোগাযোগ ব্যর্থতার কারণে এম.পিকে সেখানে যাওয়ার পর সে ভাবে মূল্যায়ন না করাতে এমপি কোন রকম দায় সারা মতামত দিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন। পরে এ বিষয়টি কলেজের ক্যাশিয়ার হাফিজুর রহমান মন্টু সহজ ভাবে না নিয়ে তিনি অধ্যাপকগণকে কুত্তারবাচ্চাসহ আরোও অন্যান্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং অধ্যাপকদের দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। তার এই এহেন আচারণে বর্তমান কলেজের চাকুরীরত সকল অধ্যাপকরা হত্ভম্ব হয়ে যান। কলেজ অধ্যাপকদের দাবি এমপি সাহেব কলেজ চত্ত্বরে আসবেন এ বিষয়টি সকল অধ্যাপকগণকে আগের দিন দিনে হোক বা রাতে হোক ফোনে জানাতে পারতেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ লায়লা আফরোজ বানু। তিনি এমপি‘র কলেজে আসা নিয়ে কাউকে কোন পরামর্শ দেননি বা অধ্যাপকদের সাথে আলোচনা করেননি। তাহলে কলেজের ক্যাশিয়ার হাফিজুর রহমান মন্টু কি কারণে অধ্যাপকগণকে অসভ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন ? এ প্রশ্ন এখন উপজেলার সকল শিক্ষকগণের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। কিছুদিন আগে এই মন্টু একই কলেজের সাময়িক বরখাস্ত অধ্যক্ষ জনাব জামাল উদ্দিনকে বেধরক মারপিট করেন রাস্তায় ফেলে। ক্যাশিয়ার হাফিজুর রহমান মন্টুর ব্যবহারে কলেজের অধ্যাপকগণ দিনের পর দিন লাি ত হচ্ছে। প্রভাবশালী এক নেতার আর্শীবাদে এখানে চাকুরীর পাওয়ার পর থেকে তার কারণে কলেজের শিক্ষার পরিবেশও নস্ট হচ্ছে। নাভারণ ফজিলাতুননেছা মহিলা কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম (বুলি) জানান, বর্তমান কলেজ সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব পুলক কুমার মন্ডলীর কাছে রোববার বিকেলে ক্যাশিয়ার হাফিজুর রহমান মন্টুর গালিগালাজের ব্যাপারে আমরা লিখিত ভাবে অভিযোগ করেছি। সেই সাথে তার শাস্তির দাবী জানিয়ে এসেছি। সুষ্ঠু বিচার না হলে আমরা ক্লাস বর্জনসহ মানবন্ধন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো। এ ব্যাপারে ক্যাশিয়ার হাফিজুর রহমান মন্টুর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি অধ্যাপকদের কুত্তারবাচ্চা বলে গালি দেয়নি, বলেছিলাম শুয়ারের বাচ্চা এবং তিনি এও বলেন পত্রিকায় রিপোর্ট হলে এবার অধ্যাপকরা মার খাবে। কলেজ অধ্যক্ষ লায়লা আফরোজ বানু জানান, এমপি সাহেব এমন এক সময় আমাকে কলেজে আসবেন জানিয়েছিলেন অন্য অধ্যাপকের সাথে টেলিফোনে আলোচনা করা ছাড়া কোন উপায় ছিল না। তাছাড়াও অনেকেরে সাথে যোগাযোগও করা যায়নি। সে কারণে একটু সমস্যা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*