পাইকগাছায় নড়া নদীতে নির্মিত হচ্ছে ভাসমান সেতু

পাইকগাছায় নড়া নদীতে নির্মিত হচ্ছে ভাসমান সেতু
ইমদাদুল হক, পাইকগাছা (খুলনা) ॥  যশোর জেলার ঝাঁপার পর এবার খুলনার পাইকগাছা উপজেলার নড়া নদীর উপর নির্মিত হচ্ছে ভাসমান সেতু। লোনা পানি অধ্যুষিত বিস্তীর্ণ জনপদের অবহেলিত মানুষের যাতায়াতের দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে স্থানীয় আলোক দ্বীপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দু’শিক্ষক রনজিৎ রায় ও সুকৃতি সরকারের প্রচেষ্টায় উপজেলার লতা ও দেলুটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত দিঘুলিয়া-মুনকিয়া গ্রামের সীমান্তবর্তী বিদ্যালয়টির পাশে নড়া নদীর উপর তৈরি হচ্ছে এই ভাসমান সেতু।
এর আগে যশোরের ঝাঁপা এলাকায় নির্মিত ভাসমান সেতু থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে প্রথমত তাদের ¯ু‹লের ছাত্র-ছাত্রীদের দীর্ঘ দিন যাবৎ দূর্ভোগের মধ্য দিয়ে নদী পারাপারে স্কুলে যাতায়াতের কথা চিন্তা করেই উদ্যোগ নিয়েছেন ভাসমান সেতু নির্মাণের। এব্যাপারে আলোকদ্বীপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সেতুর উদ্যোক্তা রনজিৎ কুমার রায় জানান, উপজেলার দূর্গম পল¬ী জামতলা, বারহাড়িয়া, দেলুটিসহ প্রত্যন্ত এলাকা থেকে কোমলমতি ছেলে-মেয়েদের বিদ্যালয়ে পৌছাতে নৌকা যোগে নদী পারাপারে প্রতিনিয়ত মারাতœক দূর্ভোগে পড়তে হয়। এছাড়া এলাকাবাসীদের বিভিন্ন কাজে প্রতিদিন বানিজ্যিক সদর কপিলমুনি ও উপজেলা সদর পাইকগাছায় যাতায়াত করতে নদীপথে পারাপারে প্রতিনিয়ত নানা সংকটে ব্যাপক কষ্ট সহ্য করতে হয়। তাদের দূর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে সেখানে কোন ব্রীজ নির্মাণের উদ্যোগও নেয়া হয়নি। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে নদীর উপর প¬াষ্টিকের ড্রাম দিয়ে একটি ভাসমান সেতু নির্মিত হলে উপজেলার দু’ইউনিয়ন লতা ও দেলুটির প্রায় ২০ হাজার মানুষের সুষ্ঠু যাতায়াতের পথ সুগম হবে বলে মনে করছেন সেখানকার এলাকাবাসী। বিদ্যালয়টির অপর শিক্ষক ও উদ্যোক্তা সুকৃতি মোহন সরকার বলেন, নড়া নদীর প্রস্থ খুব বেশি না হলেও গভীরতা রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নৌকায় নদী পারাপারে স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীদের সমস্যার আর অন্ত থাকেনা। প্রতিকূল আবহাওয়ায় ইতোপূর্বে একাধিকবার সেখানে নৌকা ডুবির ঘটনাও ঘটেছে। এতে ছেলেমেয়েদের বই-খাতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জীবনের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমকে ঘিরে ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতির উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এসময় তারা আরো বলেন, সেখানে নদীর প্রস্থ রয়েছে প্রায় ১৫০ ফুট। ইতোমধ্যে নদীর দু’পারে তারা নিজস্ব অর্থায়নে ৫০ ফুট মাটি দিয়ে বাঁধ দিয়েছেন। বাকি ১০০ ফুট নদীর উপর হবে ঐ ড্রাম দিয়ে ভাসমান সেতু। ৪ ফুট প্রস্থ ও ১০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে সেতুটি নির্মাণে ইতোমধ্যে তারা প্রয়োজনীয় ড্রাম ক্রয় সম্পন্ন করেছেন। এবার চেষ্টা চলছে লোহার পাত থেকে শুরু করে অন্যান্য উপকরণ সামগ্রী সংগ্রহের কাজ।
সেতুটি নির্মাণে প্রাথমিকভাবে সর্বমোট ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ব্যায় হবে বলে ধারণা করে তারা দু’শিক্ষক নিজ নিজ তহবিল থেকে খরচ করেছেন লক্ষাধিক টাকা। বাকি টাকার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র এবং সাধারণ গ্রামবাসীর কাছে আবেদন করেছেন। তাদের ধারণা মহতি উদ্যোগে সংশি¬ষ্ট সকলেই সাড়া দেবেন। আর নির্দ্ধারিত টাকা সংগ্রহ হলেই শুরু হবে নড়া নদীর উপর ভাসমান সেতু নির্মাণের কাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*