প্রবল বর্ষনেের ৩য় দিনে আজ ও ব্যাপক এলাকা প্লাবিত

প্রবল বর্ষনেের ৩য় দিনে আজ ও ব্যাপক এলাকা প্লাবিত

শাহাদাত হোসেন , রাউজানঃ রাউজানে আজ মঙ্গলবার ও গতকাল সোমবার ও আগের দিন রোববার থেকে অভিরাম প্রবল বর্ষনে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে গেছে।সোমবার গভীর রাত হতে খড়স্রোত সর্তা ও ডাবুয়া খালে পুনরায় পাহাড়ী ঢল বেড়ে যাওয়ায় সোমবার রাত ১১ টা হতে আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত খালের দুপারের মানুষ গভীর উদ্বেগ উঠকন্ঠায় ছিল।পানির তীব্রতা বাড়ায় খালের দুপারের বাসিন্দাদের সোমবারের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়।রাত ১১ টার পর হতে পানি বৃদ্বি পেতে পেতে চেহরীর আগে পরে ভেষে উঠে উত্তর হলদিয়ার ৪.৫.ও ৬ নং ওয়ার্ড ও ১.২.৩ নং ওয়ার্ডের কয়েকটি গ্রাম। এ ছাড়া ডাবুয়া,চিকদাইর,গহিরা,নোয়াজিষপুর,পৌর এলাকা,বিনাজুরি,পশ্চিম গুজরা,উরকিরচর,নোয়াপাড়া,বাগোয়ান,পুর্বগুজরা,পাহাড়তলী ও রাউজান ইউনিয়নের বেশ বাড়ী, গ্রাম, রাস্তাঘাট পুকুর, মাছের প্রজেক্টের ক্ষতি সাধিত হয়। একদিকে বৃষ্টির তীব্রতা অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিহীন অন্ধকার হওয়ায় বড় মশকিলে পড়ে ভুক্তভোগীরা।সোমবার রাত ও দিনের প্রবল বর্ষনে সর্তা ও ডাবুয়া খালে রাত ১১ টার পর হতে পানি পুনরায় বৃদ্বি পেতে থাকলে নতুন করে উদ্বেগ উৎকন্ঠা বাড়তে থাকে।পানি বৃদ্বি হওয়ায় ভাঙ্গা ভেড়িবাঁধ দিয়ে তীব্র আকারে পাহাড়ী ঢল ডুকে গিয়ে নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হতে থাকে।বিশেষ করে হলদিয়া ইউনিয়নের গর্জনীয়া,সর্তার পুর্ব ও পশ্চিমকুল,কারিগর বাড়ী,ইউছুপের বাড়ী,সিকদার বাড়ী,দুল্লভ বাড়ী,মাইজপাড়া,বড়ুয়া পাড়া,চিন্নিবটতল,মৌলানা রমিজ উদ্দিন বাড়ী,মৌলানা দিদারুল আলম আল কাদেরী বাড়ী,পুরানো বইজ্জারহাট এলাকা,সওদাগর পাড়া,বজল চৌধুরী বাড়ী,উত্তরসর্তা চাঁন কাজীর বাড়ী,মৌলানা রমজান আলীর বাড়ী,অলিআহমদ বাড়ী,হাজী ফোরখ আহমদ চৌধুরী বাড়ী,লস্কর উজির বাড়ী, এস এম বাবরের বাড়ী,মনিন্দ্র ডাক্তার বাড়ী,আব্দুল করিম মাষ্টার বাড়ী,নাপিতপাড়া,পেঠানাপাড়া,মহতের বাড়ী,দমদমা,আলীহোছেন ফকির মাজার এলাকা,গনিপাড়া,আমিরহাট বাজার,ভট্রপাড়া,ডাবুয়া ঘোষ বাড়ী,সেন বাড়ী,বণিকপাড়া,আমির চৌধুরী বাড়ী,আদাগাজীর বাড়ী,দিদার চেয়ারম্যান বাড়ী,বিশ্ববাড়ী,আজিজুলহক মিলেটরি বাড়ী,মুকিম বাড়ী,গোল মুহাম্মদ বাড়ী,এডভোকেট কামালের বাড়ী,রওশন গোমাস্তার বাড়ী,নিরিয়ার বাড়ী,ভিক্ষারবাড়ী,অধ্যক্ষ রনজিত ধরের বাড়ী,ধর বাড়ী,খোশাল তালুকদার বাড়ী,কান্দিপাড়া,চৌধুরী বাড়ী সহ চিকদাইরের বিভিন্ন গ্রাম বাড়ী প্লাবিত হয়।প্রবল বৃষ্টির কারনে মানুষের এক প্রকার যোগাযোগ ব্যবস্তা বন্ধ হয়ে যায় যারকারনে দুর্ভোগে পড়েন হাজারো মানুষ।প্রবল বন্যায় ডুবে যায় গ্রমীন চলাচলের অনেক গুরুত্তপুর্ন রাস্তা ঘাট।তবে সর্তা ও ডাবুয়া খালের ভাঙ্গনে পানির তীব্রতা বেড়ে যায় বিভিন্ন এলাকা এ গ্রামে।যেদিকে চোখ সেদিকে পানি আর পানি।বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয় শাক সবজি ফল মুলের।পানির তীব্রতায় অনেক ঘরবাড়ী,স্কুল,কলেজ মাদ্রাসা,মক্তব,মসজিদ,মন্দির,গীর্জা উপসানালয় সহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্টানের কম বেশী ক্ষতি সাধিত হয়েছে।অনেকের ঘরে পানি ডুকে পড়ায় তারা সেহরী পর্যন্ত রান্না করতে পারেনি।অনেকের নলকূপ বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাওয়ায় সুপেয় পানি পান করতে পারেনি।অনেক পরিবার রোজা রেখেছেন কিছু খাওয়া-ধাওয়া ছাড়া।অনেকের বাথরুম সারতেও কষ্ট হচ্ছে।আজ মঙ্গলবার পবিত্র রজনী লাইলাতুল কদর উপলক্ষে ধর্মপ্রান মুসলমানদের এবাদত বন্দেগীর বড় রাত।বৃষ্টির কারনে অনেক পরিবার সে রাতের এবাদক বন্দেগী থেকেও মাহরুম হতে পারে।বাজারের ব্যবসা বানিজ্য,যোগাযোগ ব্যবস্তা সহ সকল কিছুতে স্তবিরতা নেমে এসেছে।গাড়ী ভাড়া দ্বীগুন এমনকি কোন কোন ড্রাইভার সুযোগ বুজে ৪ গুন ভাড়া নিচ্ছে বলেও যাত্রী সাধারনের অভিোগ সূত্রে জানাগেছে।এদিকে খবর নিয়ে জানাগেছে চিকদাইর হুজুরের বাড়ী হাটুপানিতে নিমজ্জিত।পানিতে ভাসছে রাউজানের নিচু এলাকা গুলো।রাঙ্গামাটি ও কাপ্তাই সড়কের পাশে বড় বড় বিল গুলো যেন বঙ্গোপসগার!রাউজান পৌরসভা এলাকার জলীল নগর, কুন্ডশ্বরি,গহিরা,মুন্সির ঘাটা,হাজীপাড়া,চিটিয়াপাড়া,সুলতানপুর,বেরুলীয়া,জানালীহাট,পশ্চিমগহিরা,মঘাশাস্ত্রী,ব্রিকফিল্ড,ছত্তরপাড়া,শাহনগর,দারোগাবাড়ী,গুড়া মিয়া মুন্সির বাড়ী,শাফলাঙ্গা,বাঁচা মিয়ার দোকান,ফিতর মুহাম্মদ চৌধুরী বাড়ী,বড়বাড়ীপাড়া,শরিফ পাড়া,দলিলাবাদ,বাইন্নাপুকুর পাড় এলাকা,সাংবাদিক প্রদিপ শীলের বাড়ী,পল্লী বিদ্যুত অফিস,থানা রোড,ফকিরহাট বাজার,রাউজান-নোয়াপাড়া মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বেবী সড়কের সাজিনা চোধুরী স্কুল পর্যন্ত পানি আর পানি।হাফেজ বজলুর রহমান সড়ক,মৌলানা দোস্ত মুহাম্মদ সড়ক,গহিরা অদুদীয়া সড়ক,নোয়াপাড়া সেকশান -১ ও ২, হলদিয়া ভিলেজ সড়ক সহ সকল সড়কে কমবেশী পানি গড়িয়ে পড়েছে।কিছু জায়গায় পল্লিবিদ্যুত সচল থাকলেও বেশীর ভাগ জায়গায় বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন।এতে করে অনেকের বসত ঘরের ফ্রিজ,চার্জলাইট,মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে গেছে।আবার অনেকের নিত্য প্রয়োজনীয় ফ্রিজে রাখা মাছ মাংস সবজি নষ্ট হয়ে গেছে।রাউজানে ২০১৭ সালের ১৩ জুন প্রবল বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি খাটিয়ে উঠার আগেই পুনরায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিতে সরকারী দপ্তর চিন্তিত।রাউজানের ইউএন ও শামীম হোসেন রেজা সোমবার সকালে উত্তর রাউজান এবং এসিল্যান্ড জোনায়েদ কবির সোহাগ দক্ষিণ রাউজানের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।রাউজানের সাংসদ এবি এম ফজলে করিম চৌধুরী সার্বক্ষনিক ক্ষতিগ্রস্তদের খবরাখবর নিচ্ছেন বলে জানান রাউজান পৌর প্যানেল মেয়র ও উপজেলা যুবলীগ সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ।রাউজানে হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পুর্বপাশের সীমানা প্রাচীরটি স্রোতে ভেঙ্গে গিয়েছে বলে জানান বোর্ড সচিব মাহবুবুল আলম।উপজেলা যুবলীগ সাংগঠনিক সম্পাদক হলদিয়ার মনসুরের ঘর, আদম শাহের বাড়ীর ব্যবসায়ী আব্দু রশীদ স্বপন,গর্জনীয়া,শায়ের মিনহাজেরর ঘর সহ কয়েকশ ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।আজ মঙ্গলবার বেলা ২ টা ৩০ মিনিট সর্বশেষ এ রিপোট লেখা পর্যন্ত বৃষ্টি না কমলেও সর্তা ও ডাবুয়া খালের পানি কমতে শুরু করেছে বলে খাল বাসিন্দেরা জানান।এদিকে অতি বর্ষনের কারনে ঈদ মার্কেটে বেচাকেনার ধস নেমেছে।বিক্রি বাদ গতকাল সোমবার অনেকেই দোকানও খোলতে পারেনি।বৃষ্টিতে ব্যবসা একদম শে্রস বলে মনে করেন অনেক ব্যবসায়ী।পৌর মার্কেটের ব্যবসায়ী আলমঙ্গীর বলেন রোজা ১৫ টির পর জমেছিল ব্যবসা, কিন্তু বৃষ্টিত সব শেষ।ঈদের আনন্দ কতটুকু তা নির্ভর হবে বৃষ্টি পড়া-নাপড়ার উপর।সকলের নিয়্যত আজকের পবিত্র রজনী লাইলাতুল ক্বদর পড়তে পারলেই সব কিছু শান্তি।সব মিলিয়ে রাউজানে এবারের বন্যায় কয়েকশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে ক্ষয়ক্ষতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*