প্রানী সংকটে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা,হারাতে বসেছে অস্তিত

প্রানী সংকটে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা,হারাতে বসেছে অস্তিত

সাকিব আল হেলাল।। হরিন,সিংহসহ বিভিন্ন প্রজাতির পশু-পাখির খাঁচা শূন্য হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা।পানি ও খাবারের অভাব,কতৃপক্ষের অবহেলায় বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে গেল বছর চিড়িয়াখানার যুবরাজ নামে খ্যাত একমাত্র সিংহটি মারা যায়।সিংহটি মারা যাওয়ার পর দেখার একমাত্র প্রাণী ছিল দুটি হরিন।কয়েকদিন যেতে না যেতেই খাঁচায় কুকুর ঢুকে দুটি হরিনকে মেরে ফেলেছে।বর্তমানে পশু-পাখি শূণ্য চিড়িয়াখানায় টিকেট কেটে দর্শনাথীরা এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা বশির মিয়া জানান,”এক সময় কুমিল্লা চিড়িয়াখানাটি দর্শনার্থীদের আনাগোনা আর কলোকাকলিতে মুখরিত ছিল পুরো চিড়িয়াখানা চত্বর”।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,হরিন ও সিংহের খাঁচাগুলো খালি পড়ে আছে।বিশাল আকারের বিভিন্ন প্রজাতির পাখিসহ অন্যানো পশু-পাখির খাঁচাগুলো শূন্য পড়ে আছে।বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে সিংহ ও কুকুরে হরিনগুলো মেরে ফেলার পর চিড়িয়াখানার কর্তৃপক্ষ মেছো বাঘ ও চিতা বাঘের দুটি বাচ্চা সংযুক্ত করে চিড়িয়াখানায়।কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল, বাঘ দুইটি পৃথক দুটি খাঁচায় বন্ধি হয়ে আছে।রোদে গরমে একাকার হয়ে একটু ছায়ার আশায় দেওয়ালের সাথে মিশে আছে।বন্ধি মেছো ও চিতা বাঘের জন্য খাঁচার ভিতর সবসময় পানির হাউজের ব্যাবস্থা থাকতে সবসময় বাধ্যতামূলক হলেও নেই কোন পানির ব্যাবস্থা।স্থাণীয় কয়েকজন যুবকদের সাথে কথা বললে তারা জানান,এই পশু দুটিকে সময়মত খাবার দেওয়া হয় না।এ ছাড়া চিড়িয়াখানায় কিছু বানর ও পাখি রয়েছে।সোনালী বানর,হনুমান,গন্ধকুল,ধনেশ পাখি,কলেম পাখি,টার্কি মুরগীসহ দুটি অজগর সাপ রয়েছে।বাঘের খাঁচার মতো বানর ও সাপসহ সব পশু-পাখির খাঁচায় একই অবস্থা বিরাজ করছে।ইজারা নেওয়া জিড়িয়াখানার পরিচালক আনিসুর রহমান জানান,কুমিল্লা জেলা পরিষদ এ বছর আগষ্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে ইজারা দিয়েছে।এর আগে মাসুদ নামে এক ব্যাক্তি চিড়িয়াখানাটি ইজারা নিয়ে পরিচালনা করেছিলেন।তিনি আরো জানান,চিড়িয়াখানার পাশে বোটানিক্যাল গার্ডেনসহ জেলা পরিষদ থেকে তিন বছরের জন্য ইজারা নিয়েছেন।কুমিল্লা জেলা পরিষদ কথা দিয়েছেন,গার্ডেনসহ,সীমানা প্রাচীর নির্মান,চিড়িয়াখানায় পশু-পাখিতে সমৃদ্ধ করাসহ আরো উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে।
চিড়িয়াখানায় আসা স্থানীয় বাসিন্দা সমির সৈকত ও সাহাদাৎ হোসেন জানান,দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চিড়িয়াখানাটি বেহাল দশা চলছে।দিন দিন চিড়িয়াখানাটি পশু পাখি শূণ্য হয়ে পড়েছে।কতৃপক্ষ ও ইজারাদারদের অবহেলায় দর্শনার্থী হারাতে বসেছে এই চিড়িয়াখানাটি।কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রধান নিবাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার ভৌমিক বলেন,কুমিল্লা চিড়িয়াখানাটি সরকারের দেওয়া কোন চিড়িয়াখানা নয়।এটা কুমিল্লা জেলা পরিষদের উদ্যেগে নির্মিত চিড়িয়াখানা।চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রতিবছর জেলা পরিষদের ব্যায় ২০ লক্ষ টাকা।চিড়িয়াখানার পশু পাখিদের জন্য সরকারের কোনো ব্যায় নাই।তিনি আরো বলেন,সিংহ ও হরিন মারা যাওয়ার পর জেলা পরিষদের ব্যাক্তিগত অর্থ দিয়ে মেছো বাঘ ও চিতা বাঘের দুটি বাচ্চা চিড়িয়াখানায় আনা হয়েছে।তবে এদের খাঁচায় পানি হাউজের ব্যাবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*