ফটিকছড়ির এক আলোকিত পরিবার

ফটিকছড়ির এক আলোকিত পরিবার
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম,ফটিকছড়িঃ-  ছেলে মেয়ে সকলেই উচ্চ শিক্ষিত,বর্তমান সকলেই স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। নিজেরাইও জড়িত সামাজিক কর্মকান্ডে। আর এ পরিবারটি হচ্ছে ফটিকছড়ির মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবু তাহের মাসুদ ও রাজিয়া মাসুদ দম্পতির আলোকিত পরিবার।
আলহাজ্ব ডা. মুহাম্মদ আবু তাহের মাসুদ। তিনি ১৯৭১ সালের একজন মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে মুগ্ধ হয়ে দেশমাতৃকার টানে স্বাধিকার আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন এই বীরসেনানী। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার মাইজভান্ডার গ্রামের সম্ভ্রান্ত পরিবারের কৃতী সন্তান তিনি। তাঁর পিতার নাম মরহুম মুহাম্মদ আব্দুল ওহাব সওদাগর। স্থানীয় তালুকদার আশরাফ আলী সওদাগর বাড়ীতে ১৯৫৪ সালের ২৪ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই মুক্তিযোদ্ধা। পেশায় তিনি একজন চৌকস চিকিৎসক হলেও এখন অবসর সময় পার করছেন। ডা. আবু তাহের মাসুদের স্ত্রী একজন সফল নারী। ফটিকছড়ি উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী এবং অন্তত আড়াই যুগ ধরে নানুপুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য। তাঁদের দাম্পত্য জীবন বেশ সুখী। তাঁদের দুই ছেলে, দুই মেয়ে। বড় ছেলে আরমান আল মাসুদ বাংলাদেশ পুলিশের সিনিয়র এ.এস.পি হিসেবে কর্মরত আছেন । তাঁর বর্তমান কর্মস্থল জাতিসংঘ মিশনের আওতায় হাইতি। ছোট ছেলে মামুন আল মাসুদ বিসিএস, অনার্স-মাস্টার্স। তিনি একজন সুনামধন্য ব্যবসায়ী।
তাহের-রাজিয়া দম্পতির বড় মেয়ে মোনতাসির মাসুদ সুমি মুন্সিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ.এন.ও) হিসেবে কর্মরত আছেন। ছোট মেয়ে তামান্না তাসনিম মাসুদ রুমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করেছেন। নিজের সন্তানেরা যেমন উচ্চ শিক্ষিত, তেমনি তাঁদের পুত্রবধু এবং জামাতাও উচ্চত্বর ডিগ্রী অর্জন করেছেন। বড় ছেলে পুলিশের সিনিয়র এএসপি আরমান আল মাসুদের স্ত্রী সিমন আফরোজ মনি মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠান ‘রবি’ এর প্রধান কার্যালয়ে আইটি ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত আছেন। ছোট ছেলে মামুন আল মাসুদের (বিসিএস, অনার্স-মাস্টার্স) স্ত্রী সাদিয়া শারমিন (অনার্স-মাস্টার্স) নিজেও একজন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা। মেয়ে ইউএনও মোনতাসির মাসুদ সুমির স্বামী সরোয়ার সাজ্জাদ চৌধুরী (এমবিএ) দেশের প্রতিষ্ঠিত ও সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র কর্মকর্তা। মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের মাসুদের স্ত্রী রাজিয়া মাসুদ রতœগর্ভা হিসেবে বিভাগীয় পর্যায়ে সম্প্রতি ‘শ্রেষ্ঠ রতœগর্ভা’ পদক পেয়েছেন। পুরষ্কারটি বিতরণ করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল মান্নান। বলতে গেলে, শুধু চট্টগ্রাম নয়, সমগ্র বাংলাদেশের একটি আলোকিত পরিবারের অভিভাবক হচ্ছেন ডা. আবু তাহের মাসুদ ও রাজিয়া মাসুদ দম্পতি। এ আলোকিত পরিবারটির উদ্যোগে এবার নেয়া হয়েছে প্রসংশনীয় কর্মসূচী। মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের মাসুদ ব্যক্তিগত অর্থে ফটিকছড়ি, হাটহাজারীর ১ শতাধিক প্রতিষ্ঠানে ফলজ, বনজ ও ঔষুধী সহ নানা প্রজাতির প্রায় ১০ হাজার চারা বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।
মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব ডা. মুহাম্মদ আবু তাহের মাসুদ বলেন,সর্ববস্থায় চেয়েছি ছেলেমেয়েদেও মানুষের মতো মানুষ করার জন্য। মানুষের মতো মানুষ হয়ে তারা যাতে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারে এটাই ছিল আমার আশা। আল্লাহ আমার আশা পূরণ করেছেন। চারা বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বার্থহীনভাবে আমি চারাগুলো বিতরণ করছি। এসব চারা রোপনের পর সর্বোচ্চ ১ বছর পরিচার্য করলে ফল, ফুল, সর্বোপরি উপকারিতা ভোগ করা সম্ভব হবে। বৃক্ষ আমাদের ফল, ফুল, জ্বালানি, আসবাবপত্রের চাহিদাই কেবল পূরণ করেনা, প্রাণাবন্ত নিশ্বাস নেয়ার ক্ষেত্রের বৃক্ষের অবদান তুলনাহীন। এ দেশকে সবুজে রুপান্তরিত করতে হলে বৃক্ষরোপনের বিকল্প নেই। আজকাল যে পরিমাণ বৃক্ষ নিধন হচ্ছে, সে তুলনায় বৃক্ষরোপন করা হচ্ছেনা। তাই আমার অনুরোধ, পরিত্যক্ত জায়গায় বৃক্ষরোপন করুন। জায়গা না থাকলে বাড়ীর ছাদে গড়ে তুলুন ‘ছাদ-বাগান’।
রতœগর্ভা মাতা রাজিয়া মাসুদ বলেন,জীবনের নানা প্রতিকুলতার মাঝেও ভেঙ্গে পড়িনি। লক্ষ্য ছিল একটাই ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ করা। আমাদের কষ্ট আজ স্বার্থক হয়েছে। নিজেদের আমরা গর্বিত পিতা মাতা মনে করি। আমাদের ছেলে মেয়েদের জন্য সকলের দোয়া কামনা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*