ফেনী সদর হাসপাতালে ফের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানি প্রতিনিধি’র

ফেনী সদর হাসপাতালে ফের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানি প্রতিনিধি’র

মোঃ ইউনুছ ভূঞাঁ সুজন ফেনী, ফেনী সদর হাসপাতালে পুলিশের দুই’স্তরের চেকিং, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলা সিভিল সার্জন’র নিশেষধাজ্ঞা’র পরও বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি দের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে।

গত কাল ১০টা ২০ মিনিটে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি ডাক্তার’র কক্ষের সাম্নে টিকিট হাতে দাড়িয়ে আছে প্রায় ৫০-১০০ জন রোগি জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে আগত এদের অধিকাংশ নিম্ন আয়ের মানুষ ৫০০-৭০০ টাকা বিজিট দিয়ে কোন ফাইভেট হাসপাতালের চেম্বারে গিয়ে ডাক্তার দেখানো তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না বিদায় তাঁরা সরকারি হাসপাতালে আসে একটু শান্তি ও সুষ্ঠু ভাবে চিকিৎসা সেবা নিতে। কিন্তুু এখানে এসেও তাদের সঠিক সেবা থেকে বন্চিত করে এসমস্ত ঔষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা তারা গড়ে এক জন ১০-১৫ মিনিট সময় নষ্ট করে পেলে ডাক্তার সাথে নতুন ঔষুধ সক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলাপ করতে গিয়ে। যার ফলে হতোভাগা গরিব মানুষ গুলো বন্চিত হয় সুচিকিৎসা যথা যথ ভাবে পেতে।

গত কাল সকালে এমনি কিছু স্থির চিত্র চোখে পড়ে আমার তখন ডাক্তার চেম্বারে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি বেলা ১১টার পর অফিসে বসেন তার পূর্বে রাউন্ডে থাকেন বলে জানান ক্যাশ(টিকিট) কাউন্টার থেকে। কিন্তুু ডাক্তার আসেনি তাতে কিহয়েছে ঔষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ঠিকই তাদের কাজ শেরে পেলেছেন ১১৯ নং কক্ষে ডাক্তার মোবারক (বিজিডিং কার্ড) রেখে টেবিলে।
উপস্থিত প্রায় ২০-৩০জন রোগিদের মধ্যে ২জন এগিয়ে এসে আমায় লক্ষ করে বলেন, “স্যার আপনি কি ডাক্তার নাকি দরজার মধ্যে থাকেন যে উনি হন” আমি উত্তরে দিলাম কেন?? কি হয়েছে ? তাঁরা বলে স্যার সকাল থেকে ৫-৬জন স্যার কে দেখলাম সার্ট-পেন্ট সু-জুতো পরে ডাক্তার স্যারের অফিসে একবার ডুকে আরেক বার বের হয়! কিন্তুু জিজ্ঞাস করলে কোন উত্তর দেয় না তো তাই। আমি তাদের জানালাম ওরা বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ছিলো ডাক্তার ছিলেন না! অামি তাদের একটু ধর্যধরতে বলি যে ডাক্তার সাহেব এসে পড়বে একটু পর।

তাদের কাছ থেকে ৫গজ সাম্নে আসতেই চোখ পড়লো সিভিল পোশাকধারী পুলিশ এস আই মোস্তাফিজুর রহমানের সাথে তাকে প্রশ্ন করলাম যে, ডাক্তার নেই রয়েছে অনেক গুলো বিজিটিং কার্ড এমনটা কেন? তিনি জানান, আমাদের কে বলা আছে যে হাসপাতের ভিতর কোন ঔষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা প্রবেশ করে ডাক্তার দের হয়রানি করতে পারবে না তাদের কে দেখা মাত্র বের করে দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ রয়েছে। সেই অনুসারে আমরা দায়িত্ব পালন করতেছি তবে কখন তারা একাজটি শেরে পেললো আমার বোধগ্ম্য ছিল না।

পুরাতন ভবনে জুরুরী বিভাগের সাম্নে গিয়ে দেখা যায়, যতেষ্ট সর্তক অবস্থানে রয়েছে সাধারন বেশে থাকা গোয়েন্দা পুলিশ কর্মকর্ত নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক তিনি বলেন, রোগি ও তার সাথে আগত ব্যক্তি ছাড়া সবাইকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে তারা বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি কিনা।
চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগিরা জানিয়েছেন, যদি বিভিন্ন ঔষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ডাক্তারদের কে হয়রানি না করে তাহলে আমাদের সেবার মাত্রা আরো অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে বলে তারা মনে করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*