বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ইতিহাস গড়লো!

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল ইতিহাস গড়লো!

হেলাল আহমদ,লেবানন থেকে: ১৯৯৭ সালে মালয়েশিয়াতে অনুষ্ঠিত আইসিসি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার শিরোপা জয়ের সুবাদে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিল টাইগাররা। এরপর ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা পায় বাংলাদেশ। বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল আইসিসি ট্রফি জয়ের পর এবার দেশের জন্য বিরাট সম্মান নিয়ে এলো বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। এই জয়টিও এলো মালয়েশিয়ায়। রবিবার নারীদের এশিয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচে ভারতকে তিন উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বড় কোনো শিরোপা ঘরে তুলল বাঘিনীরা। ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য এটিকেই সেরা সম্মান বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। ক্রিকেটের বাইরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফুটবলেও নারীদের বড় অর্জন রয়েছে। গত বছর সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ উইমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ। এই বছর হংকংয়ে অনুষ্ঠিত জকি কাপেও চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল দল। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উত্থানের কথা যতি বলতে হয় তাহলে ১৯৯৭ সালে ওই আসিসি ট্রফি জয়ের বিষয়টিই সামনে আসে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলকে এখন শক্তিশালী দল হিসাবে বিবেচনা করা হলেও ১৯৯৭ সালের পর আর কোনো বহুজাতিক টুর্নামেন্ট জিততে পারেনি। যদিও তারপর বহুজাতিক টুর্নামেন্টে কয়েকবার ফাইনাল খেলেছে টাইগাররা। ২০১২ ও ২০১৬ সালে এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দুইবারই রানার আপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় বাংলাদেশকে। এছাড়া ২০০৯ ও ২০১৮ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠলেও বাংলাদেশ শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয়। গত মার্চে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত নিদাহাস ট্রফির ফাইনাল ম্যাচে ভারতের কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ। যে মালয়েশিয়াতে ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ আইসিসি ট্রফি জিতেছিল সেই মালয়েশিয়াতে চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশের মেয়েরা। সালমা-রুমানাদের জয় বাংলাদেশের জন্য গৌরবের। এই জয়ে খুশি সকলে। নারী দলের জয়ে খুশি বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দলও। আজই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যে, মাশরাফি-তামিমরা নারীদের জয়ে উল্লাস করছে। এদিন ম্যাচ জয়ের পর টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন বলেন, ‘এশিয়া কাপ জিততে পারে আমরা খুব খুশি। এটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। ভারতের বিপক্ষে এর আগের ম্যাচ জেতার পর আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছিল। তারপর আমরা এই পর্যায়ে পৌঁছেছি। ফাইনাল জিততে পেরে আমরা আনন্দিত।’ তিনি আরো বলেন, ‘তাদের হারানোর অনেক কিছু ছিল। কিন্তু আমাদের হারানোর কিছু ছিল না। আমাদের অর্জন করার অনেক কিছু ছিল। আমরা সেটি পেরেছি। ভালো লাগছে যে, এখানে আমাদের অনেক সমর্থক আছে। মাঠে এসে যারা আমাদের সাপোর্ট করেছেন সবাইকে ধন্যবাদ। টুর্নামেন্টে আমাদের শুরুটা ভালো হয়নি। তারপর আমরা কামব্যাক করেছি। প্রথম ম্যাচে হারের পর আমরা একটিতেও হারিনি। আমরা সামনের ম্যাচগুলোতে আমাদের এই ভালো ফর্ম ধরে রাখার চেষ্টা করব।’ বাংলাদেশে ক্রিকেট কিংবা ফুটবল উভয়টিতেই পুরুষ দল যে সুযোগ সুবিধা পায় নারী দল তা পায় না। পুরুষদের তুলনায় নারীদের একেবারেই কম পারিশ্রমিক দেয়া হয়। নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি মাত্র ১০০০ টাকা! তাছাড়া নারী ক্রিকেটারদের যারা ‘এ’ ক্যাটাগরিতে রয়েছেন তারা মাসিক বেতন হিসাবে পান ৩০ হাজার টাকা। ‘সি’ ক্যাটাগরিতে যারা রয়েছেন তারা প্রতি মাসে পান দশ হাজার টাকা করে। অথচ বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেটারদের টেস্টে ম্যাচ ফি সাড়ে তিন লাখ, ওয়ানডেতে দুই লাখ ও টি-টোয়েন্টিতে এক লাখ ২৫ হাজার টাকা। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল যে একের পর এক জয় পেয়ে আসছে তাও নয়। গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়ে পাঁচটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে সব ম্যাচেই বাংলাদেশ হেরেছিল। এই টুর্নামেন্টের আগে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল কোনো ফরম্যাটেই জয় পায়নি। এই টুর্নামেন্টেই ভারতের বিপক্ষে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ। লিগ পর্বে ভারতকে সাত উইকেটে হারানোর পর ফাইনাল ম্যাচে তিন উইকেটে হারায় বাঘিনীরা। নারীদের এশিয়া কাপের এটি ছিল সপ্তম আসর। এর আগের ছয় আসরের ছয়টিতেই শিরোপা জয় করে ভারত। কিন্তু এবার আর ভারতকে শিরোপা জিততে দেয়নি বাংলাদেশ। এশিয়া কাপে অংশ নিতে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার আগে অধিনায়ক সালমা খাতুন বলেছিলেন, ‘সম্পতি আমরা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে হেরেছি। কিন্তু আমরা অনেক কিছু শিখেছি। আশা করি এই সফরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভালো কিছু করতে পারব।’ হ্যাঁ, সালমা খাতুনরা পারলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে হোয়াইটওয়াশ হয়ে আসার পর এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করলেন তারা। বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য সম্মান বয়ে আনলেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*