বাগেরহাটে মোরেলগঞ্জের  প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে  ঘরে আগুন 

বাগেরহাটে মোরেলগঞ্জের  প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে  ঘরে আগুন 
এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট অফিস:বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের বড় লক্ষিখালী গ্রামে বসত ঘরের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘরে আগুন লাগিয়ে প্রতিপক্ষকে জব্দ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবৈধভাবে ঘের দখল ও মামলার জেল হাজত থেকে রেহাই পেতে এ অভিনব কৌশল অবলম্বনের অপচেষ্টা চালানো হয়।
সরেজমিনে জানা গেছে, অত্র ইউনিয়নের বরইতলা গ্রামের মৃত.মালেক হাওলাদারের পুত্র ছালাম হাওলাদরের দায়েরকৃত লুটপাট,মরাপিট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় একই ইউনিয়নের বড়ইতলা গ্রামের মৃত. কাঞ্চন শেখের পুত্র আলমগীর শেখ, ভাই জাকির শেখ , জাহাঙ্গীর শেখ ও নূর মোহাম্মদ শেখ জেল হাজতে রয়েছে। জমি জমা ও মৎস্য ঘের নিয়ে দ্বন্ধের জের ধরে ২৪ মার্চ রাতে ছালাম হাওলাদরের প্রবাসী ভাই জালাল হাওলাদারের বাড়িতে আলমগীর শেখের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে। দুর্বৃত্তরা প্রবাসী জালাল হাওলাদরের স্ত্রী মুক্তা বেগম ও অন্তঃস্বত্ত¡া কাজল বেগম কে বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর আহত করে স্বর্নালংকার মালামাল লুট ও অগ্নিসংযোগ করে সাড়ে ৩ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন করে। সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত মুক্তা বেগম ও অন্তঃস্বত্ত¡া কাজল বেগম খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে প্রেরণ করা হয়। এ ঘটনায় ভাই ছালাম হাওলাদার বাদি হয়ে আলমগীর শেখ,জাকির শেখ সহ ৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। এ মামলার আসামীরা ২৩ মে জামিন নিতে গেলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে আলমগীর শেখ, ভাই জাকির শেখ , জাহাঙ্গীর শেখ ও নূর মোহাম্মদ শেখ জেল হাজতে প্রেরণ করে।
আর এরই জের ধরে ছালাম হাওলাদরের দায়েরকৃত মামলাটি  ভিন্নখাতে প্রবাহিত ও চাপ সৃষ্টির জন্যে ২৪ মে রাতে আলমগীর শেখের কথিত বসত ঘরের মালামাল অন্যত্র সরিয়ে অগ্নিসংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় আলমগীর শেখের স্ত্রী মাসুদা বেগম বাদি হয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মোরেলগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রতিবেশি ইলিয়াস শেখ, আলিম, রুহুল গাজী,আসাদ ফরাজি জানান, আলমগীর শেখের ঘরের মালামাল জাকির ও জাহাঙ্গীর শেখের ঘরে সরিয়ে  নিতে তারা দেখেছে এবং এ দুই ঘরে কিছু মালামাল ও পাওয়া গেছে। এসময় ওসি (তদন্ত ) মো. আলমগীর কবির সহ কয়েকজন মিডিয়া কর্মী উপস্থিত ছিলেন।  অন্যত্র সরানো মালামাল আলমগীরের ব্যবহ্নত বলে সনাক্ত করেছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক জনপ্রতিনিধি ।
উল্লেখ্য, জিউধরা ইউনিয়নের লক্ষিখালী মৌজায় এসএ ৪০০ খতিয়ানে মধ্যে ১২ দশমিক ৩৩ একর জমিতে ২০১৮ সালের ১ বছরের জন্য বন্দোবস্ত পায় ছালাম হাওলাদার,হালিম হাওলাদার ,মো.আব্বাস গং। তারা এ ঘেরে তারা মৎস্য চাষ করে আসেছ। আর ঘেরটির প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পড়ে এলাকার এক প্রভাবশালী গড ফাদারের ছত্র-ছায়ায় থাকা আলমগীর শেখ গংদের। এ ঘের দখল করা নিয়েই ছালাম হাওলারের প্রবাসী ভাইয়ের বাড়িতে লুটপাট অগ্নিসংযোগ ও সর্বশেষ নিজেদের ঘরে আগুন লাগিয়ে ফাঁসানোর অপচেষ্টা ও মিথ্যা মামলা দায়ের করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*