বেনাপোল ও যশোরে স্টপেজ না থাকায় বন্ধের আশংঙ্কায় বন্ধন এক্সপ্রেস

বেনাপোল ও যশোরে স্টপেজ না থাকায় বন্ধের আশংঙ্কায় বন্ধন এক্সপ্রেস

মোঃ আয়ুব হোসেনপক্ষী, বেনাপোল(যশোর)প্রতিনিধি: বেনাপোল হয়ে খুলনা-কলকাতা রুটে সরাসরি চলাচলকারী রেল বন্ধন এক্সপ্রেস দিন দিন জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। কমতে শুরু করেছে যাত্রীসংখ্যা। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের বেনাপোল স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম বলেন, বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন সাত থেকে নয় হাজার যাত্রী যাতায়াত করছেন। কিন্তু সারা মাসে বন্ধন এক্সপ্রেস ব্যবহার করছেন এর চেয়ে কম যাত্রী। “গত ৭ মাসে ওই রেলে করে ৩ হাজার ৪৪৫ জন যাত্রী কলকাতা থেকে বাংলাদেশে এসেছেন আর ৪ হাজার ৫৭৯ জন বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় গেছেন।” গত বছর ১৬ নভেম্বর এই ট্রেন যাত্রা শুরুর পর যাত্রী সংখ্যা এর চেয়ে বেশি ছিল বলে তিনি জানান। “গত সাত মাসে যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি না পেয়ে ক্রমাগত কমতে শুরু করেছে । এতে লোকসানের বোঝা টানতে হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে একদিন হয়ত এ রুটে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। দুই দেশের মধ্যে বন্ধন এক্সপ্রেস নিয়ে তেমন কোনো প্রচার-প্রচারণা নেই। তাছাড়া নির্দিষ্ট দুটি স্টেশনে টিকিট বিক্রি করায় যাত্রীরা রেলে যাতায়াতে আগ্রহ হারাচ্ছেন । অনলাইনে টিকিট বিক্রি ও স্টপেজের সংখ্যা বাড়ালে যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।” ব্যবসাহিক কাজে নিয়মিত ভারতে যাতায়াত করেন বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের আইনবিষয়ক সম্পাদক মশিউর রহমান। তিনি বলেন, “বন্ধন এক্সপ্রেসের টিকিট শুধু খুলনা ও কলকাতা থেকে বিক্রি হয়। যশোর ও বেনাপোল রেলস্টেশনে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা ও স্টপেজ দিলে যাত্রীর সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলে মনে করি। “এছাড়া ট্রেনটি সপ্তাহে শুধু বৃহস্পতিবার চলাচল করে। ১৭৫ কিলোমিটারে ভাড়া নেওয়া হয় ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা। এটাও যাত্রী কম হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে হয়।” মশিউর রহমান বলেন, “যশোর নাগরিক কমিটি যশোর রেলস্টেশনে টিকিট বিক্রি ও যাত্রী ওঠা-নামার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তেমন কোনো সাড়া মেলেনি।” রেলযাত্রী বাগেরহাটের আসাদুল হক বলেন, “ভারতীয় কাস্টমসে যাত্রী হয়রানি বন্ধ করতে হবে।” বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, “যাত্রীসংখ্যা দিনকে দিন কমছে। তবে আমরা যতদ্রুত সম্ভব ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে থাকি। আমাদের বিরুদ্ধে যাত্রীদের কোনো অভিযোগ নেই।” বেনাপোল শুল্কভবনের সহকারী কমিশনার নু চ প্রু বলেন, “বন্ধন এক্সপ্রেস রেলের বেশির ভাগ যাত্রী হয় রোগী না হয় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যান।তাই কাস্টমসের পক্ষ থেকে তাদের যথাসাধ্য উত্তম সেবা দেওয়া হয়। “নিরাপদে ও সুষ্ঠুভাবে যাত্রী চলাচল করার পরও যাত্রীসংখ্যা দিন দিন কম হওয়ায় এ থেকে পরিত্রাণ পেতে বন্ধন এক্সপ্রেসটি সপ্তাহে দুই-তিন দিন চলাচল, যশোর ও বেনাপোলে টিকিট বিক্রি ও স্টপেজ দেওয়া হলে যাত্রীসংখ্যা বাড়বে বলে আশা করি।” বন্ধন এক্সপ্রেসে ১০টি কোচ রয়েছে জানিয়ে ন্টেশন মাস্টার শহিদুল বলেন, এর মধ্যে ইঞ্জিন ও পাওয়ার কার দুটি। বাকি আটটি কোচে ৪৫৬টি আসন রয়েছে। সবই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*