ভেড়ামারা পাম্পহাউজ এলাকায় এক শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষন ! লম্পটের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

ভেড়ামারা পাম্পহাউজ এলাকায় এক শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষন ! লম্পটের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল
এস.এম.আবু ওবাইদা- আল-মাহাদী, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, কুষ্টিয়া  :: ঈদে নতুন জামা কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ১ম শ্রেনীর এক শিশু ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষন করেছে এক লম্পট। এঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে ওই লম্পট আলম। এলাকাবাসী লম্পটের বিচারের দাবিতে ফুসে উঠে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় নিজ বাড়িতেই ধর্ষনের শিকার হয় ওই শিশু। পরে স্থানীয়রা ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করে। পরে তাকে রের্ফাড করা হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। এঘটনার পর থেকেই পালাতক রয়েছে লম্পট আলম (৫০)। সে ভেড়ামারার ১৬দাগ চাষী ক্লাব এলাকার মৃত হাবিবুর রহমান’র পুত্র।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, ভেড়ামারা উপজেলার মসলেমপুর পাম্প হাউজ এলাকার চরম হতদরিদ্র দাদী রেনু খাতুন’র সংসারেই বসবাস করে মারিয়া এবং হিমেল নামের দুই শিশু। বাবা মা তাদের থেকেও নেই। দাদী অন্যের বাড়িতে কাজ করে কোন রকম জীবিকা নির্বাহ করেন। জানা যায়, ঘটনার সময় সকাল ৯ টার দিকে কাজের সন্ধানে দাদী রেনু খাতুন বাহিরে চলে গেলে ১৬ দাগ চাষী ক্লাব এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের পুত্র লম্পট আলম ওই বাড়িতে হাজির হয়। এসময় শিশু মারিয়াকে ঈদের নতুন জামা কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখায় এবং ভয় ভীতি দেখিয়ে উলঙ্গ করে ছবি তোলে। এরপর জোরপূর্বক ধর্ষন করে। এ দৃশ্য দেখে ফেলে তারই ৫ বছরের ছোট ভাই হিমেল। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে শিশুটি উদ্ধার করে। এসময় লম্পট আলম সুজন নামের একজনের সহযোগিতায় পালিয়ে যায়। বাহিরচর ইউনিয়ন পরিষদ’র ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল জলিল জানিয়েছে, লম্পট আলম’র একটি ওয়ার্কসপ রয়েছে এখানে। সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ঈদে নতুন জামা কিনে দেওয়ার কথা বলে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষন করে। বাহিরচর ইউনিয়ন পরিষদ’র চেয়ারম্যান মোছা: রওশান আরা বেগম জানান, আলম ইতোপূর্বে ওই এলাকায় নানা অপকর্ম করেছে। সে দুষ্ট প্রকৃতির লোক। সে জঘন্যতম অপরাধ করেছে। তার কঠোর সাজা হওয়া উচিত। বাহিরচর ইউনিয়ন পরিষদ’র প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ জানিয়েছে, লম্পট আলম শিশুটিকে জোরপূর্বক ধর্ষন করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এঘটনা ঘটিয়েই লম্পট আলম পালাতক রয়েছে। তার বাড়িতেও কেই নেই। ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ শুপ্রভা রানী জানিয়েছে, শিশু শিক্ষার্থীকে মুমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আনা হয়।
প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ধর্ষনের আলামত পাওয়া গেছে। এরপর তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে রের্ফাড করা হয়েছে। এলাকাবাসী ধর্ষক আলমকে আটক ও সুষ্ট বিচার এবং ফাসির দাবী করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ভেড়ামারা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম ধর্ষনের কথা স্বীকার করে জানান, শিশু ধর্ষনের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনা স্থলে এ এস আই আবু তাহের কে পাঠিয়েছিলাম। সে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্বাক্ষীদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে এবং ধর্ষক আলমকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশের দুইটি টিম বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*