মৃত্যুর ঝুকি নিয়েই প্রতিদিন সাঁকোটি দিয়ে পার হতে হয় আটারকছড়া ইউনিয়নের হাজারো লোকজনের

মৃত্যুর ঝুকি নিয়েই প্রতিদিন সাঁকোটি দিয়ে পার হতে হয় আটারকছড়া ইউনিয়নের হাজারো লোকজনের
।।মোঃ আলমগীর হোসেন,লংগদু।। লংগদু উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নের করল্যাছড়ি বাজার সংলগ্ন খালের উপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ৪০ বছর যাতায়েত করছে পাঁচটি গ্রামের কয়েক হাজার গ্রামবাসী। লংগদু উপজেলার আটারকছড়া ইউনিয়নের হাজারো পরিবারের যাতায়েতের একমাত্র উপায় এ সেতুটি।প্রতিদিন এই সেতুটি দিয়ে স্কুল,মাদ্রাসা ,কলেজ ও সরকারী বেসরকারী হাজার হাজার লোকজনের যাতায়াত। লংগদু উপজেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম বানিজ্যিক কেন্দ্র করল্যাছড়ি বাজার। সাপ্তাহিক বাজার বসে প্রতি বুধবারে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা আসে গরু,ছাগল,কলা,কচু,আদাসহ বিভিন্ন দ্রব্য ক্রয়ের জন্য।এই বাঁশের সাঁকোটি ব্রিজে রুপান্তরিত হলে ব্যবসায়িদের মালামাল যাতায়াত আরো সহজ হতো এবং খরচ ও অনেক কমে যেত। হলুদ ব্যবসায়ী মোঃ খলিল জানান করল্যাছড়ি বাজার সংলগ œসাঁকোটির উপর ব্রিজ হলে বাজারের উন্নয়ন হবে এবং তার সাথে সাথে বানিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি পাবে চট্টগ্রাম ও ঢাকার সাথে। আদা ও হলুদ চাষী রূপময় চাকমা জানান,এখানকার প্রধান আয়ের উৎস কলা,কচু,আদা,হলুদ। এসব ফসলাদি উৎপাদন করে প্রচুর অর্থ রোজগার করেন চাষীরা। কিন্তু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি না হওয়ার কারনে চাষীরা সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত। আটারকছড়া ইউনিয়নে আদা,কলা কচু,ও হলুদ চাষের অপার সম্বাবনা রয়েছে বলে জানান, লংগদু উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। করল্যাছড়ি বাজার সভাপতি মোঃ নুরু মিয়া পিসি জানান,বাজার সংলগ্ন বাঁশের সাঁকোটির উপর ব্রিজ নির্মাণ করা হলে সামগ্রীক দিক দিয়ে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে লংগদু উপজেলাতে।একধাপ এগিয়ে যাবে আটারকছড়া এলাকাবাসীর জীবনযাত্রা। যাতায়াতের বঞ্চনা ও ভোগান্তি থেকে রেহাই পাবে ওই এলাকার জনগণ। আটারকছড়া ইউনিয়নের করল্যাছড়ি বাজার সংলগ্ন ব্রিজটি হলে জেলা শহর খাগড়াছড়ি হয়ে রাজধানীর সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত সহজ হবে বলে মনে করেন এলাকাবসী। বিশাল জনবহুল আটারকছড়ার মানুষ আজ জিম্মি এই বাঁশের সাঁকোটির কাছে। সাঁকো দিয়ে যাতায়াতকারী লোকজন জানান,প্রতি বছরই বাঁশের সাঁকোটি পারাপাড়ের সময় ২-৩ জন যাতাযাতকারী দূর্ঘটনার স্বীকার হতে হয়। গত ২০১৬ সালে বর্তমান ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান সাঁকোটি থেকে পড়ে মারাত্মক দূর্ঘটনার স্বীকার হয়েছেন।তাই এলাকাবাসী সাঁকোটির নাম রাখেন মরণ ফাঁদ সাঁকো। এই ইউপি সদস্য জানায়,দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ অনেক সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু করল্যাছড়িবাসীর ভাগ্য উন্নয়ন হচ্ছেনা। আটারকছড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বাবু মঙ্গল কান্তি চাকমা জানান, এই ব্রিজটি নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরী এবং সময়ের দাবী। এই ব্রিজটির ব্যপারে স্থানীয় ভাবে উপজেলা পরিষদ হতে শুরু করে রাঙামাটি জেলা পরিষদ,উন্নয়নবোর্ডসহ বিভিন্ন সংস্থায় বেশ কয়েকবার আবেদন নিবেদন করার পরও আশুপদক্ষেপ বা ব্যবস্থা গ্রহনের সুফল আজ পর্যন্ত পাচ্ছিনা। তাই সরকারের কাছে আবারো দাবী দ্রুত ব্রীজটি নির্মাণের পদক্ষেপ নিলে এলাকাবাসীর ৪০ বছরের সাধনা পূরণ হবে। এবং বর্তমান সরকারের সাড়া দেশের ব্যপক উন্নয়নের সাথে অত্র এলাকার উন্নয়নের ছোয়া পড়বে।তিনি আরো জানান, বিগত দিনে এই সাঁকোটি থেকে পড়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে।এলাকাবাসীর প্রানের দাবি এই সরকারের আমলেই দ্রুত ব্রীজটি নির্মাণ করা হলে হাজারো মানুষের ভোগান্তি লাগব হবে। এবং সরকারের ভাবমূর্তি এলাকায় উজ্জ্বল হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*