মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা ও পুনার্বাসন কার্যক্রম উদ্বোধন

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা ও পুনার্বাসন কার্যক্রম উদ্বোধন

মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধিঃ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ- ভিক্ষুক হবে নিরুদ্দেশ” এ শ্লোগানকে সামনে রেখে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে শনিবার (৭জুলাই) সকাল ১১ টায় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন ও জুড়ী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ভিক্ষুকদের পুনার্বাসন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। উপজেলার ৬ ইউনিয়নের ৬৪ জন ভিক্ষুকের তালিকা করে তাদের হাতে আর্থিক অনুদান তুলে দেয়া হয়। জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৬ই ডিসেম্বর সর্ব প্রথম উপজেলার পূর্বজুড়ী ইউনিয়নকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা হয়। পর্যায়ক্রমে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের নিরলস প্রচেষ্টায় দেড় বছরের মাথায় গোটা উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করা সম্ভব হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার অসীম চন্দ্র বনিকের সভাপতিত্বে ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার আলা উদ্দিনের সঞ্চালনায় পুনার্বাসন কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার-১ (জুড়ী-বড়লেখা) আসনের সংসদ সদস্য হুইপ মো.শাহাব উদ্দিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী মনি, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রঞ্জিতা শর্ম্মা, টিএন খানম কলেজ অধ্যক্ষ অরুণ চন্দ্র দাশ, পূর্বজুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান সালেহ উদ্দিন, পশ্চিম জুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শ্রীকান্ত দাশ, গোয়ালবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন লেমন, জায়ফরনগর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মাছুম ররেজা, মাহবুব আলম রওশন, সাগরনাল ইউপি চেয়ারম্যান ইমদুল হক চৌধুরী, উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মামুনুর রশিদ সাজু প্রমুখ। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্ন জবাবে হুইপ বলেন, আজ জুড়ী উপজেলাকে আমরা ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করতে পেরেছি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় থাকলে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশকে আমরা ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষণা করতে সক্ষম হব। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সময়ের ব্যবধানে আমরা জুড়ী উপজেলার ন্যায় গোটা মৌলভীবাজার জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে নিরলস কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। কথা হয় পূর্বজুড়ী ইউনিয়নের হালগরা গ্রামের ভিক্ষুক ছমিরুন নেছার সাথে, তিনি বিগত ২০ বছর থেকে উপজেলার গ্রামে গ্রামে ভিক্ষার ঝুঁলি নিয়ে ভিক্ষা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তাকে অনুদান হিসেবে ২টি ভেড়া (ছাগল) ও ৩০ কেজি চাল দেয়া হয়েছে, আরো দেয়া হবে। তিনি বলেন, এখন থেকে আমি আর কোনদিন ভিক্ষা ঝুঁলি নিয়ে বের হব না! এমনই প্রতিশ্রুতি করেছেন বলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*