ময়মনসিংহের ফুলপুরে মুক্তিযোদ্ধার বৌ-সন্তান খালের পানি খেয়ে জীবন দারন

ময়মনসিংহের ফুলপুরে মুক্তিযোদ্ধার বৌ-সন্তান খালের পানি খেয়ে জীবন দারন
মিজানুর রহমান , ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশের দেশ রক্ষক সৈনিক সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলা দোরারাবাজার উপজেলার ৭নং লক্ষীপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের দেলোয়ার নগর গ্রামের পিতা মৃত তামিজ উদ্দিনের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা (মুক্তি নং ০৫০২০১০২৬৮ তারিখঃ ১৭-০৩-২০০১খ্রীঃ) মরহুম আব্দুর রহমানের দুই বৌ এবং দু বৌ এর ৪ সন্তানদের নিয়ে মোটামুটি মুক্তির ভাতা দিয়ে ভালই সংসার চলছিল। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে স্বামী মারা যায়। এসময় ২য় বৌ মোছাঃ রিনা বেগম গর্ভবতী থাকেন। পরে রিনার একটি ছেলে হয়। ১ম বৌ মোছাঃ রুপজান বিবি ও তার বড় ছেলে আফতাব মিয়া (২০) সব সময় লেগেয় থাকত রিনা ও তার ছোট ছোট ২ মেয়ে রহিমা (৮) ও তামান্না(৬) এর সাথে বিভিন্ন ঝগড়ায় । শুধু ঝগড়ায় নই রিনার উপর বিভিন্ন নির্যাতন করত ওরা যাতে রিনা চলে আশে স্বামীর ভিঠা ছেড়ে।রিনা ও তার “মা”সহ এলাকাবাসী জানানঃ পরে নির্যাতন সইতে না পেয়ে ছোট ছেলে তাওহিদ আড়ায় বছরের ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে আশে স্বামীর ভিঠা মাটি ছেড়ে। বাপের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার ৬নং পয়ারী ইউনিয়নের পয়ারী গ্রামে চলে আশেন। তার পিতা মরহুম কদম আলী গরিব তার সম্পত্তি ছিল বাড়ি বিঠাসহ ৩-৪ কাটা। কিছুদিন রিনা ভাইয়ের সাথে থাকার পর ওয়ারিশ শুত্রে ভন্ধের মাঝে ১ থেকে দেড় শতাংশ জায়গা পাই সেখানে অনেক কষ্টে থাকার মত তৈরি করেছে একটি ঘর । কিন্তু দিতে পারছে না একটি টিউবওয়েল(কল), একটি টয়লেট। যেটা থাকার ঘরের সঙ্গে  সঙ্গে প্রয়োজন পরে। যেতে পারে না কারও বাড়ি। একবেলা যদি জুটে ডাল ভাত দুবেলা খেতে হয় চিড়া মুড়ি। খাবারের পরে দরকার পরে পানি।  আর সে পানি সংরক্ষণ  করে বাড়ির সামনের আটুসমান খাঁল বা গর্ত থেকে । যে গর্তে পুরুগ্রামের পঁচা আবর্জনা যুক্ত পানি এসে মিশে বর্ষায়। আর সেই পানি খেয়েই জীবন দারন করছে মুক্তিযোদ্ধার বৌ সন্তান।
আর যে “পানির অপর নাম জীবন”
       সে পানিয় পঁচা আবর্জনা যুক্ত”
যেখানে শিশুদের দরকার স্বাস্থ্যকর  পরিবেশ! সেখানেই রিনার পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর।
মুক্তিযোদ্ধার বৌ সন্তান আজ অসহায়। তাদের পাশে কেউ নেই। একপর্যায় রিনা কেঁদে দিয়ে বলে উঠে  আমার এই ছোট ছোট সন্তানরা যখন বলে সবাই মা কলের পানি খাই আমরা কেন এই পঁচা পানি খাই। আমাদের বাবা না একজন মুক্তিযোদ্ধা আমার বাবা না এই দেশটাকে স্বাধীন করে ছিল তুমি বল, স্বাধীনের পর মুক্ত আকাশ, মুক্ত বাতাস, মুক্ত স্বাধীন সোনার বাংলাদেশ। সব কিছুই যদি দূষিত মুক্ত হয় তাহলে কেন আমরা পঁচা আবর্জনা এক গেলেস(গ্লাস) পানি খেতে পাই না। এইসব কথা সন্তানের মুখে শুনে কষ্ট দেখে মনে হয় ৫ টাকার বিষ কিনে সবাই এক সাথে খেয়ে মরে যায়।
প্রশাসন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি মুক্তিযোদ্ধার বৌ-সন্তান খালের পানি খেয়ে অস্বাস্থ্যকর  পরিবেশে থেকে যাতে জীবন ধারন না করে তার একটি ব্যবস্থা নিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*