‘রাজশাহীতে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পরেই প্রচার শুরু করেছেন প্রার্থীরা,শহরে বিরাজ করছে এক উৎসব মুখর পরিবেশ’

‘রাজশাহীতে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পরেই প্রচার শুরু করেছেন প্রার্থীরা,শহরে বিরাজ করছে এক উৎসব মুখর পরিবেশ’

মু.তামিম সিফাতুল্লাহ(রাজশাহী সদর প্রতিনিধি) : রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক দেয়া হয়। প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে নেমে পড়েন প্রার্থীরা। নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে ভোটের প্রচার শুরু করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। আর শাহমখদুম (রঃ) মাজার জিয়ারত করে প্রচার শুরু করেন বিএনপির মনোনিত প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। রিটানিং অফিসার আমিরুল ইসলাম এর কাছে থেকে জানা যায়, প্রথমে সংরক্ষিত আসনের নারী প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক দেয়া হয়। মেয়র পদে ও এর পর সাধারণ কাউন্সিলর পদের প্রার্থীদের প্রতীক দেয়া হয়। যারা একই প্রতীক চেয়েছেন তাদের লটারির মাধ্যমে প্রতীক দেয়া হয়েছে। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে নৌকা, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ধানের শীষ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (মতিন) হাবিবুর রহমান হাবিবকে কাঁঠাল, ইসলামী আন্দোলনের সরিফুল ইসলাম হাতপাখা, স্বতন্ত্র মুরাদ মোর্শেদ হাতি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২১৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে মেয়র পদে ৫ জন, সাধারণ কাউন্সিলরে ১৬০ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৫২ জন। প্রতীক বরাদ্দের পর দলীয় প্রার্থীরা নগরীতে পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙ্গানোসহ মাইকে প্রচার শুরু করেন। বিশেষ করে দলীয় প্রার্থীদের প্রতীক নির্ধারণ থাকায় তারা আগে থেকে ছাপার কাজ সেরে রাখেন। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকেই অনেকেই প্রচারপত্র টাঙ্গানো শুরু করেন। মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী লীগের মনোনিত মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। ১৪ দফার ইশতেহারে রাজশাহীতে এক লাখ লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থার অঙ্গিকারসহ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকে গুরুত্ব দিয়ে মেগা সিটি গড়ে তুড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ সময় লিটন বলেন, রাজশাহীকে উত্তরাঞ্চলের তথা সমগ্র দেশের শান্তি ও সম্প্রীতি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতি, বেকারমুক্ত কর্মমুখরতার উজ্জীবনে উন্নত ও সমৃদ্ধ আধুনিক মহানগরী হিসেবে গড়ে তুলবো; এই আমার অঙ্গীকার। অপরদিকে, দুপুরে শাহমখদুম (রঃ) মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারে নামেন বিএনপির মনোনিত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অরজগতা সৃষ্টিকারিদের বিরুদ্ধে নগরবাসী শান্তির প্রতীক ধানের শীষে ভোট দিবে এবং বিপুল ভোটে তাকে বিজয়ী করবেন। উলেখ্য যে,রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সাধারণ ওয়ার্ড ৩০টি ও সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড ১০টি। মোট ভোট কেন্দ্র ১৩৮টি। ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। এর পুরুষ ভোটার এক লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন ও নারী ভোটার এক লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন। আগামী ৩০ জুলাই ভোট গ্রহন করা হবে। মহাজোটের মেয়র প্রার্থী : আওয়ামী লীগের নেতৃত্বধীন মহাজোটের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন গণসংযোগ করতে দেখা যায়। মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরের সাহেববাজার ও গোরহাঙ্গা এলাকায় গণসংযোগ করে নৌকায় ভোট দিয়ে তাকে মেয়র নির্বাচিত করার জন্য ভোটোদের প্রতি আনুরোধ জানান লিটন। এ সময় তিনি রাজশাহী উন্নয়নের মহাপরিকল্পনা তুলে ধরে নির্বাচনী ইশতেহার ভোটারদের হাতে দেন। দেয়া ও নৌকায় ভোট চেয়ে লিটন বলেন, ‘আমি মেয়র থাকাকালে আপনারা রাজশাহীর উন্নয়ন দেখেছেন। আমি রাজশাহীকে উত্তরাঞ্চলের তথা সমগ্র দেশের শান্তি ও সম্প্রীতি, শিক্ষা ও সাংস্কৃতি, বেকারমুক্ত কর্মমুখরতার উজ্জীবনে উন্নত ও সমৃদ্ধ আধুনিক মহানগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আপনারা নৌকায় ভোট দিয়ে আরেকবার সে সুযোগ করে দেবেন। এটা আপনাদের কাছে অনুরোধ রইলো।’ এর আগে দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে খায়রুজ্জামান লিটন তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে গুরুত্ব দিয়ে তার নির্বাচনী ইশতেহারে ১৪ দফা তুলে ধরেন। ২০ দলীয় জোটে মেয়র প্রার্থী : বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল গণসংযোগ করেছেন। মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত তিনি নগরের ৯নং ও ১২নং এলাকায় গণসংযোগ করেন। এর আগে বুলবুল আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া আল্লামা মুহাম্মদ মিয়া কাসেমী রহ: (ইসলামিয়া মাদরাসা) মাদরাসায় বড় হুজুরের সাথে সাক্ষাত করে দোয়া নেন। পরে তিনি শাহ্ মখ্দুম রুপোশ (রহ:) এর মাজার জিয়ারত করে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*