রাজশাহী নগরীতে ছাত্র-পুলিশের বন্ধুত্ব!

রাজশাহী নগরীতে ছাত্র-পুলিশের বন্ধুত্ব!

আমানুল্লাহ (রাজশাহী প্রতিনিধি) : ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’ অতি পরিচিত উক্তি। তবে পুলিশ যে বিশেষভাবে ছাত্রদেরও বন্ধু হতে পারে সেটাও কিন্ত ভুল নয়। যেটা প্রমাণ করে দেখালেন বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহর নেতৃত্বাধীন একদল পুলিশ। একসময় এই পুলিশেরাও তো ছাত্র ছিল। তাহলে বন্ধু হতে সমস্যা কোথায়? রাজশাহীতে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এর দাবিতে আজ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। শনিবার সকাল ১০ টার দিকে নগরীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা পুলিশি নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করেন। নিরাপদ সড়কের দাবিতে ব্যানার,প্ল্যাকার্ড,ফেস্টুন হাতে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা । পুলিশের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিন পুলিশ যে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী নয়; শিক্ষার্থীদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু! দেখা গেল সেই দৃশ্য। একের পর এক সেলফি আর গিফট আদানপ্রদানে শিক্ষার্থী-পুলিশ যেন একই পাখির দুই ডানা মাত্র! শিক্ষার্থীরা পুলিশকে ‘ফুল’ দিলে পুলিশও দেয় ‘চকলেট ‘। এসময় পুলিশের পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেয়া হয়। বক্তব্যে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানউল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তান। তাদের সাথে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই। তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী পালন করেছে। আমরাও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রেখেছি।কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি এসময় পড়ালেখায় মনোযোগ দেয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করে শিক্ষার্থীদের চলে যাওয়ার আহবান জানান পুলিশের এই উর্ধতন কর্মকর্তা। শিক্ষার্থীরা আরও ১৫ মিনিট অবস্থান করার সময়ের আবেদন করলে ওসি অনুমিত দেন। ফলে দুপুর ১২ টার সময় শিক্ষার্থীরা কর্মসূচী শেষ করে ফিরে যায়। রাজধানী ঢাকায় শিক্ষার্থীরা পুলিশি হামলার শিকার হলেও শিক্ষানগরীতে ছাত্র-পুলিশের এমন অমায়িক ব্যবহারে বিস্মিতই হচ্ছেন অনেকে। তবে পুলিশের অ্যাকশন নয়; ভালবাসা দিয়েই শিক্ষার্থীদের মন জয় করতে হবে বলে মনে করছেন সুশীল সমাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*