রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বর্ণনা শুনলেন জাতিসংঘ মহাসচিব ও ওর্য়াল্ড ব্যাংক প্রেসিডেন্ট 

রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বর্ণনা শুনলেন জাতিসংঘ মহাসচিব ও ওর্য়াল্ড ব্যাংক প্রেসিডেন্ট 
শ.ম.গফুর,উখিয়া(কক্সবাজার) প্রতিনিধি ;; মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জীবনাচরণ দেখতে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনি গুতেরেস ও বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আসেন।সোমবার বেলা ১১টার দিকে তারা উখিয়ার রোহিঙ্গা ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পরিচিত টিভি রিলে কেন্দ্রস্থ ঘুমধুম ট্রানজিট ক্যাম্পের রাবার বাগান এলাকায় পৌঁছান। এর আগে বেলা ১০টার দিকে সৈকত পারের কলাতলীর তারকা হোটেল সায়মন বিচ রিসোর্ট থেকে তাদের গাড়ি বহর বের হয় এবং মেরিন ড্রাইভ হয়ে সড়ক পথে উখিয়ার পথে রওয়ানা হন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম।এরআগে সকালে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। তাদের সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক বৈশ্বিক সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র প্রধান ফিলিপ্পো গ্রান্ডি এবং জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল বিষয়ক নির্বাহী পরিচালক ড. নাতালিয়া খানেমসহ জাতিসংঘের অধীন বিভিন্ন সংস্থার প্রায় ডজন খানেক এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছার পর ভারি বর্ষণ শুরু হওয়ায় বিশ্বের শীর্ষ দুই প্রতিষ্ঠান প্রধান বিমান বন্দরেই কিছুক্ষণ অবস্থান নেন। এরপর তাদের নিয়ে যাওয়া হয় সৈকত পারে হোটেল সায়মনে। সেখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়।কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল জানান, জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট ইউএনএইচসিআর’র বালুখালী ট্রানজিট ক্যাম্প, কুতুপালং প্রধান রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং মহিলাদের আলাদা জায়গা পরিদর্শন করেন। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া চরম দুর্দশার কথা শুনেন তারা। এসময় রোহিঙ্গা কমিউনিটি নেতারা দাবী তুলে বলেন মিয়ানমার সরকার পূর্ণ নাগরিকত্ব প্রদান, জায়গা-জমি,ভিটে,বাড়ি ফিরিয়ে দিলে সহসাই ফিরে যাবার কথা জানান।
এছাড়াও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সহযোগিতা দেয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার ত্রাণ কেন্দ্র, চিকিৎসা সেন্টার ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখেন। পরিদর্শন শেষে কুতুপালং এক্সটেনশন ক্যাম্পের ডি-ফাইভ ব্লকে সংবাদ সম্মেলন করেন। বিকেলে তারা ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।এছাড়াও এই সংক্ষিপ্ত সফরে কক্সবাজারে বৈশ্বিক সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরেন অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং জিম ইয়ং কিম। জাতিসংঘ মহাসচিব ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট আলাদা ফ্লাইটে ঢাকা এলেও তারা বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে এক সঙ্গে অংশ নেন।সূত্র জানায়, এর আগে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর’র প্রধান থাকাকালীন ২০০৮ সালের ২৭ মে গুতেরেস কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছিলেন। জাতিসংঘ মহাসচিবের দায়িত্ব নেয়ার পর বাংলাদেশে এটাই তার প্রথম সফর। তবে বিশ্ব ব্যাংক প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম দুই বছর আগেই একবার বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন। এর আগে দুদিনের সফরে শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। আর তিনদিনের সফরে শনিবার বিকেলে ঢাকায় আসেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম।উল্লেখ্য, বিগত কয়েক দশকে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে পালিয়ে ৫ লাখের মতো রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আর গত বছরের ২৫ আগস্ট এমনই এক অভিযানের মুখে রাখাইন থেকে নতুন করে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখন প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফে অবস্থান করছে। আর জতিসংঘ মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ওই অভিযানকে শুরু থেকেই ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ বলে আসছে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকার গত বছরের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশের সঙ্গে একটি চুক্তি সই করলেও তা বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*