সর্বনাশা আন্ধারমানিক নদীর ভাঙ্গনের কবলে নিজামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

সর্বনাশা আন্ধারমানিক নদীর ভাঙ্গনের কবলে নিজামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

মোঃপারভেজ,পটুয়াখালী প্রতিনিধি ঃপটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার আন্ধারমানিক মোহনার পাড়ে অবস্থিত মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।প্রায় শত বছরের পুরানো স্কুলটির দু’টি ভবন দাঁড়িয়ে আছে সর্বনাশকারী আন্ধারমানিক নদীর পাড়ে। প্রায় ২০ ফুট দুরে অবস্থান করছে নদীর উওাল ঢেউ। একের পর এক ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। তার পরও থেমে নেই শিশুদের বিদ্যালয়ের পাঠদান।বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে চার জন শিক্ষকসহ প্রায় ২২৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আগে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা অনেক বেশি থাকলেও নদী ভাঙ্গনের কারনে শিক্ষার্থী কমে গেছে। স্কুলের মাঠ অনেক আগেই বিলীন হয়েছে।ভবন দুইটিও যায় যায় অবস্থায় রয়েছে। ভাঙ্গন ঠেকাতে মাটি ফেলার কাজও চলছে। তার পরও থামছেনা। এর ফলে দুই শতাধিক কেমলমতী ছাত্র ছাত্রীর পড়ালেখা দেখা দিয়েছে এখন অনিশ্চয়তা। তবে ভাঙ্গন রোধে দ্রুত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না করলে বিদ্যালয়ের ভবন দু’টি যে কোনো সময় নদীতে বিলিন হয়ে যাবে বলে মনে করেছে স্থানীয়রা।তৃতীয় শ্রেনীর শিক্ষার্থী সুরাইয়া বেগম রিমতি জানায়, জোয়ারের সময় স্কুল পানিতে ডুবে যায়। সে সময় বই খাতা নিয়ে বেঞ্চের উপরে দাড়িয়ে থাকতে হয়। পানি কমলে আমরা সবাই বাড়ি যায়। ওই গ্রামের বাসিন্দা মো.বেলায়েত খাঁন বলেন, অমাবশ্যা ও পুঁর্নিমার প্রভাবে জোয়ারের পানিতে সব ডুবে থাকে। রাস্তা মেরামত না হওয়ায় ক্রমশই দূর্ভোগ বাড়ছে।প্রধান শিক্ষক মো.শামসুল আলম ভদ্র বলেন, ওই ইউনিয়নের নিজামপুর, পুরান মহিপুর, তালতলী নিশানবাড়ীয়াসহ কয়েকটি গ্রামের ছেলে মেয়েরা এ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। চোখের সামনেই নদীতে বিলিন হয়ে গেছে বিদ্যালয়টির মাঠটি।নিজামপুর গ্রামের হাফিজ ফকির বলেন আমাদের পাশের গ্রাম সুধীরপুরের ভেরিবাধ মাটি দিয়ে র্নিমান করার সাথেই ব্লক দেয়ায় সেই ভেরিবাধ টিকেগেছে,আমাদের বাধ টিকাতে হলে মাটি দেয়ার সাথে ব্লক দিতে হবে তাহলে বাধ টিকে যাবে, কাজ শুরু করতে হবে জানুয়ারি মাসে সে সময় নদীতে ঢেউ কম থাকে।নিজামপুর গ্রামের ফরিদ ফকির বলেন বর্ষার মৌসুমে কয়েক বার ভেরি বাধে মাটি দেয়া হয়েছে, যতো বার দেয়া হয় ততো বার ঢেউয়ের আঘাতে বিদ্ধস্ত হয়েছে।বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো.রফিকুল ইসলাম বলেন,স্কুলটি রক্ষা করার জন্য কয়েকবার বিভিন্ন জায়গায় লিখিত ভাবে আবেদন করেছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বছর বেরিবাঁধ সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ ছালাম আকন বলেন, বেরিবাঁধ সংস্কারের তিন কিলোমিটারের টেন্ডার হয়েছে। ইতোমধ্যে দু’কিলোমিটারের বেশি কাজ হয়েছে। বাকি কাজ ঠিকাদারদের গাফেলতির করনে হচ্ছে না।তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়টি রক্ষার জন্য এখনই যদি পরিকল্পিত ও দীর্ঘস্থায়ী বাঁধ নির্মান ব্যবস্থা না করা হয়, তাহলে নিশ্চিত বিলিন হয়ে যাবে নিজামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। শিক্ষার হাতেখড়ি থেকে বঞ্চিত হবে নিজামপুর, পুরান মহিপুর, তালতলী নিশানবাড়ীয়াসহ কয়েকটি গ্রামের ছেলেমেয়েরা।পানি উন্নয়ন বোর্ডের কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী প্রকেীশলী মো.আবুল খায়ের জানান, নিজামপুরে বাঁধ মেরামতে তিনটি প্যাকেজে মাটির কাজ শুরু হয়ে ছিলো। কিন্তু ঠিকাদার মাটি না পাওয়ায় বাঁধ মেরামত করতে পারছে না। তবে এ বাঁধ মেরামতে করলে ভাঙ্গন কবল থেকে বিদ্যালয়টি রক্ষা পাবে। এজন্য জরুরী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*