সাহিত্য সম্রাজ্ঞী স্বর্ণকুমারী দেবী বাংলা সাহিত্যের এক প্রতিথযশা নারী সাহিত্যিক

সপ্তপর্ণার অালোচনায় বক্তারা
সাহিত্য সম্রাজ্ঞী স্বর্ণকুমারী দেবী বাংলা সাহিত্যের এক প্রতিথযশা নারী সাহিত্যিক
ষ্টাফ রিপোর্টার ;; সপ্তপর্ণার উদ্যোগে সাহিত্য সম্রাজ্ঞী স্বর্ণকুমারী দেবীর ৮৬তম প্রয়াণ দিবস স্মরণে স্মরণ অালোচনা,নারী সম্মাননা প্রদান,সপ্তপর্ণা স্বর্ণকুমারী দেবী ও গুরুমা চারুববালা দত্তের কবিতা সংকলেনর প্রকাশনা অনুষ্ঠান গত ৩ জুলাই সন্ধা ৬টায় অাগরতলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শিক্ষাব্রতী ড.প্রণতি মোদকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।এতে উদ্বোধক হিসেবে উপস্হিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী শ্রী রঞ্জিত কুমার দেবনাথ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন কধুরখিল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব বাবুল কান্তি দাশ।
সম্মানিত অালোচক হিসেবে উপস্হিত ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্য গবেষক ড. বিথীকা চৌধুরী,বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ড. দেবব্রত রায়।সপ্তপর্ণা সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করেন বিশিষ্ট সমাজসেবী,শ্রীমতি রাজলক্ষী চৌধুরী, ড.গীতা দেবনাথ , শ্রীমতি সুস্মিতা ধর ও শ্রীমতি নন্দিতা ভট্টাচার্যের পরিচালনায় অালোচক হিসেবে অালোচনা করেন সপ্তপর্ণা সম্পাদক কবি নিয়তি রায় বর্মন, ড. বজ্রগোপাল রায়,কবি রঞ্জিত সাহা,রীতা পাল,চট্টগ্রাম সাহিত্য পাঠচক্রের সাধারণ সম্পাদক কবি অাসিফ ইকবাল,অঙ্কিতা চক্রবর্তী,সুভ্রা চক্রবর্তী, নীলাঞ্জসা প্রমুখ।
সাহিত্যিক স্বর্ণকুমারী দেবীর কবিতা পাঠ করেন শ্রীমতি নন্দিতা রায়, স্বর্ণকুমারী স্বদেশ সংগীত পরিবেশন করেন শ্রীমতি স্বর্নিমা রায়।চারুবালা দত্তের কবিতা পাঠ করেন শ্রীমতি সংগীতা দেওয়ানজী,শ্রীমতি সুমিতা বর্ধন,শ্রীমতি শ্রেয়া ভট্টাচার্য,শ্রীমতি শিল্পী দাস। ধামাইল দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন শ্রীমতি রীতা পাল ও তার দল।
সভার শুরুতে সাহিত্য সম্রাজ্ঞী স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অতিথিবৃন্দ।মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বল করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিক্ষাব্রতি শ্রী রঞ্জিত কুমার দেবনাথ।
সভার উদ্বোধক বলেন সাহিত্যিক স্বর্ণকুমারী দেবী একজন পন্ডিত নারী সাহিত্যিক। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৫ বছরের বড় বোন স্বর্ণকুমারী দেবী পারিবারিক বিভিন্ন বাঁধা বিপত্ত স্বত্ত্বেও নিজ প্রতিভার বিকাশে নিরলস পরিশ্রম করেছেন। তিনি একজন সফল প্রথম নারী সাহিত্যিক। যার সাহিত্যে ছিল গল্প, কবিতা,উপন্যাস,উপাখ্যানসহ নানা বিষয়ে তিনি অত্যন্ত নিপুনভাবে লেখালেখি করতেন। স্বর্ণকুমারী দেবীর সাহিত্য প্রতিভা বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধিতে ভুমিকা রেখেছে।
সভায় প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন স্বর্ণকুমারী দেবী বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র।তিনি বলেন অাদর্শ অনুশীলনের ফলে মানবত্না বঞ্চনা,লাঞ্চনা ঈর্ষা হিংসা,লোভ মোহ,অন্যায় _ অবিচার বিদ্বেষ বিরোধ প্রচন্ড শক্তিতে জাগ্রত হয়ে উঠে। এই উন্নত অাদর্শ জন্ম লাভ করে উজ্জ্বল চৈতন্য থেকে, অার সেই শুভ্র চৈতন্যের মুর্তিঘন রুপই হচ্ছে স্বর্ণকুমারী দেবী।
অাজ অামরা যে নারী জাগরণের কথা বলি,নারী শক্তির উদ্বোধন নারী জাতির অধিকার বলে মাঠে ময়দানে,গলা ফাটিয়ে যাচ্ছি তাদের মধ্যে হয়ত অনেকেই জানিনা স্বর্ণকুমারী দেবীর নাম।যিনি অবগুন্ঠন ছেড়ে মৃদুপথে বেরিয়ে এসেছিলেন নারী মুক্তির অাশায় সাহসের সঙ্গে তাঁর লেখনীর মাঝে
স্বর্ণকুমারী দেবী জন্মগ্রহণ করেন ২৮ অাগষ্ট ১৮৫৫ সালে বিখ্যাত জোড়া সাঁকোর ঠাকুর পরিবারে। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৪ জন সন্তানের মধ্যে তিনি এক সন্তান যিনি ঠাকুর পরিবারে মহিলাদের লেখনির ধারা শুরু করেন।স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রথম সার্থক লেখিকা।স্বর্ণকুমারী দেবীর প্রথম প্রকাশিত বই ছিল দীপ নির্বান ১৮৭৬ সালের ডিসেম্বর মাসে।
বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর সকলের মধ্যে সাড়া ফেলে দেয়।জল্পনা কল্পননা শুরু হয় বইটি ও বইটির লেখক নিয়ে।তখনকার যুগে মেয়েদের সাহিত্য ছিল শুধুই হাস্যকর ও তুচ্ছতার বিষয়।তারপরেও স্বর্ণকুমারী দেবী তার অাসন প্রতিভা দ্বারা পাকাপোক্ত করে নিয়েছিলেন।
স্বর্ণকুমারী দেবীর স্বামী নদীয়া জেলার জমিদার জানকীনাথ ঘোষালের অনুপ্রেরণা ছিল সর্বক্ষণ।স্বামীর উৎসাহ অার অনুপ্রেরণায় এগিয়ে যেতে থাকলেন স্বর্ণকুমারী দেবী।দীপ নির্বানের পর অারো স্বার্থক সাহিত্য সৃষ্টিতে ছিলেন স্বর্ণকুমারী অবিছল।
বসন্ত উৎসব,ছিন্নমুকুল, বিবাহ উৎসবসহ অারো অনেক সাহিত্য কর্ম তিনি লিখেছেন। গল্প,কবিতা,গাঁধা গান,রম্য রচনা প্রবন্ধ,ভ্রমন কাহিন্রি,স্মৃতি কথা,স্কুল পাঠ্যবই, প্রহসন,বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ রচনায় ও সমান পারদর্শী ছিলেন স্বর্ণকুমারী।
স্বর্ণকুমারী দেবীর কাহাকে উপন্যাসটি বিপুল জনপ্রিয়তা পায়।কাহাকে উপন্যাসটি শুধু বাঙালী সমাজে নয় বিদেশেও জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।স্বর্ণকুমারীর উপদেশ কবিতায় মানবতার সামগ্রিক চিত্র ফুটে ওঠে সঙ্গীত,নাটক ও সাহিত্যে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ির পুরুষ সদস্যদের সৃষ্টিশীলতা স্বর্ণকুমারী দেবীকেও স্পর্শ করেছিল।
৭৭ বছরের এই জীবন সংগ্রামে নারী মুক্তির এই পথিকৃৎ পথ দেখিয়ে গিয়ে স্বর্ণকুমারী পরবর্তী প্রজন্মকে তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার পথ সুগম করে গেছেন। মহিয়সী নারী ও সার্থক লেখিকা স্বর্ণকুমারী দেবীর ৮৬তম প্রয়াণ দিবসে তাঁর প্রতি গভীর সম্মান জানাচ্ছি।সভা শেষে সকলে দাড়িয়ে এই মহিয়সী নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*