সৎ ত্যাগী এবং কর্মঠ ব্যক্তিদের অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আলোচনা সভায় প্রেস কাব সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ
সৎ ত্যাগী এবং কর্মঠ ব্যক্তিদের অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে

রাজীব চক্রবর্তী ;; চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ২০ বছর অতিক্রম হলেও আহ্বায়ক কমিটির দায়িত্ব নিয়ে আমরা দুঃখ ভারাক্রান্ত। ১৯৯৮ সালের আজকের এই দিনে চট্টগ্রামের অবহেলিত, নির্যাতিত সনাতনী জনগোষ্ঠীর কল্যাণকল্পে মহান ব্রত নিয়ে দক্ষিণ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু সনাতনী নেতৃত্বের দাবিকারী কিছু স্বার্থান্বেষী কোটারী নেতৃত্ব অবসানের লক্ষ্যে মহান ব্রত নিয়ে সনাতনী সমাজকে সুখে, দু:খে বুকে আগলে রাখার প্রত্যয়ে আমরা এই পর্যন্ত বিপ্লব করেছি। আমাদের মাঝে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু চরিত্রহীন, চক্রান্তকারী, স্বার্থপর মতলববাজও ছিল। তারা সনাতনী সমাজের স্বার্থের কথা চিন্তা না করে ধান্ধাবাজি ও ধোকাবাজিতে লিপ্ত ছিল। বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু নেতা সেজে ধোকা দিয়ে ধর্নাঢ্য ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তারা ওপার বাংলায় বাড়ি-ঘরও নির্মাণ করেছে। তারাই এখন দক্ষিণ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দ-মূন্ডের মালিক দাবি করে। এমনকি আমাদের মাথা বিক্রি করে সনাতনীর প্লাটফর্মে থেকে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ব্যস্ত। সারা বছর তাদের দেখা যায় না, শুধু পূজা-পার্বনে সুসময়ের পাখির মতো তাদের দেখা যায়। তারই ফলশ্রুতিতে দক্ষিণ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আজ বেহাল দশা। এক সুশীল সমাজ বির্নিমাণে দক্ষিণ চট্টগ্রামে সনাতনী সমাজে নির্যাতন বন্ধের ও সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আজ আমরা ঐক্যবদ্ধ। যারা আমাদের এই অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করবে তাদের সামাজিকভাবে অবাঞ্চিত ঘোষনা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। চট্টগ্রাম প্রেস কাব মিলনায়তনে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভা সঞ্জয় সরকারের সঞ্চালনায় ও সন্তোষ কুমার দাশের সভাপতিত্বে বক্তারা উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম প্রেস কাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ বলেন, আমি এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আপনাদের সাথেই ছিলাম। আমার সময়ও কোন দুর্নীতিবাজকে দক্ষিণ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদে স্থান দিইনি। আমি মনে করি সৎ ত্যাগী এবং কর্মঠ ব্যক্তিদের অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে। কোনভাবেই চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের কর্র্মকান্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যাবে না। আর এব্যাপারে আমাদের সকলকে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে। দুই চার জন মিলে তাদের পছন্দসই ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করলে তা ত্যাগী ও নি:স্বার্থ সংগঠকগণ মেনে নিবেন না। দক্ষিণ জেলা পূজা পরিষদের কমিটি গঠন করতে হলে সকলের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে। আমি কখনোই চাইনা, দক্ষিণ জেলা পূজা পরিষদের কমিটি বিভাজন হউক। আমি চাই দক্ষিণ জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সবসময় ঐক্যবদ্ধ হয়ে থাকুক।
উক্ত সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, চন্দন দস্তিদার, প্রকৌশলী টি.কে সিকদার, উৎপল সেনগুপ্ত, চন্দন কুমার দে, উজ্জ্বল কুমার দে, ভি.পি প্রদীপ চৌধুরী, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, পরিমল দত্ত, উজ্জ্বল বরণ বিশ্বাস, এড. বিপ্লব আচার্য্য, হারাধন দাশ, ডা. বরুন কুমার আচার্য্য বলাই, ডা. আর. কে রুবেল, সাংবাদিক রাজীব চক্রবর্ত্তী, রনি মজকুরী, সুজন আচার্য্য, রূপন মজুমদার, এড. সুভাষ চন্দ্র তালুকদার, জুয়েল দাশ, কৃষ্ণ চক্রবর্ত্তী, সঞ্জীব মল্লিক, রূমকি সেনগুপ্তা, এড. লিটন মিত্র, সাংবাদিক প্রদীপ কুমার শীল, শিখা চৌধুরী, পলাশ দত্ত, এস.আই সজল দাশ, রাজশ্রী মজুমদার, ঝর্ণা নন্দী, এস.আই তপন কান্তি সেন, মান্না সেন প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*