পটুয়াখালী থেকে বিলুপ্ত প্রায় ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উড়ানো

পটুয়াখালী থেকে বিলুপ্ত প্রায় ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উড়ানো

উজ্জ্বল শিকদার, স্টাফ রিপোর্টারঃ পটুয়াখালী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে ঘুড়ি উড়ানোর প্রাচীন ঐতিহ্য যা গ্রাম-বাংলার প্রতিটি মানুষের মনে মিশে ছিল একসময় ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি মত এ খেলা। রাত জেগে পুঁথির গল্প শোনা কিংবা বাইস্কোপ দেখাসহ নানা গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। মায়ে-ঝিয়ে একসাথে বসে নকশি কাঁথায় ফুল সেলাইকরা অথবা শীতলপাটি বোনা। কিশোর-কিশোরীর লুকোচুরি খেলা, পুকুরে ঝাপ দেয়া, কিংবা ভরদুপুরে না ঘুমিয়ে মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘুড়ি উড়ানো। এগুলো এখন শুধুই স্মৃতিচারণ, সবই বিলুপ্তির পথে। আগেকার দিনে গ্রামগুলোতে গ্রীস্মকাল শুরু হতে না হতেই রং বেরংয়ের ঘুড়ি আকাশ ছোয়ে যেত। ছোট্ট ছেলেটি তার বড় ভাই কিংবা বাবার কাছে বায়না ধরতো ঘুড়ি বানিয়ে দিতে হবে। কিশোর ছেলেটি মায়ের কড়া নজর এড়িয়ে ভরদুপুরে লম্বা লেজবিশিষ্ট ফনা মেলা সাপ আকৃতির সাপাহার ঘুড়িটি নিয়ে বন্ধুদের সাথে ছুটতো মাঠের দিকে। অনেক যুবক এবং মাঝ বয়সী লোককেও দেখা যেত ঘুড়ি তৈরি করে মোটা সুতা দিয়ে লাটাই গাছে বেঁধে ছেড়ে দিতেন অনেক দূরের আকাশে। ঘুড়ির সাথে বেঁধে দিতেন অন্য এক প্রকার সুতা, যেটায় বাতাস লেগে এমন একটা মধুর শব্দ হত যা ঘুড়ি আকাশে হারিয়ে গেলেও শব্দটা শোনা যেত। বিকাল থেকে সারারাত অবধি ঘুড়ি আপন গতিতে আকাশে উড়তো। ঘুড়ি, ডাহুক ঘুড়ি, ফনামেলা সাপাহার ঘুড়ি বিকালের আকাশটা সুশোভিত করে রাখতো। শিশু-কিশোরদের বিনোদনের মাধ্যমই ছিল ঘুড়ি উড়ানো, সুন্দর ঘুড়ি তৈরির প্রতিযোগিতা করা, ঘুড়িতে মাঞ্জা দিয়ে একজন আরেকজনের ঘুড়ি কেটে দেয়া ইত্যাদি। কিন্তু বর্তমানে বিজ্ঞানের চরম উৎকর্ষ এবং শহরায়নের প্রভাবে গ্রামীণ এই ঐতিহ্য বিলুপ্ত।
এখন শিশু-কিশোর থেকে সকল বয়সের ছেলে-মেয়েদের হাতে হাতে ভিডিও গেমস ডিভাইস এবং মোবাইল ফোন সহজলভ্য হওয়ায় এ সমস্ত গেমসের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছে। গেমসের নেশায় বুদ হয়ে নাওয়া-খাওয়া বন্ধ করে মোবাইলের স্ক্রিনে এক ধেয়ে দৃষ্টি
দিয়ে থাকে। তাদের আর রোদ্রে সেকেলের ঘুড়ি উড়ানোর সময় কোথায় ? ফলশ্রুতিতে অতি সহজেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে ঘুড়ি উড়ানোর প্রাচীন এই ঐতিহ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*