নাঙ্গলকোটে কৃষি জমির টপ সয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়

নাঙ্গলকোটে কৃষি জমির টপ সয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়

মো,ওমর ফারুক,নাঙ্গলকোট: কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপসয়েল) বিক্রির হিড়িক পড়েছে। কৃষকদের অভাবের সুযোগে এসব মাটি কিনে নিয়ে ইট তৈরির কাজে লাগানো হচ্ছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মাটির উপরিভাগের ১০-১৫ ইঞ্চির মধ্যে উর্বরতা শক্তি থাকে। তাই এসব মাটি খুঁড়ে বিক্রি করার ফলে তা পুনরায় ফিরে আসতে সময় লাগতে পারে কয়েক বছর । আর বারবার তা খোড়া হলে এসব ফসলি জমির উৎপাদনে ব্যঘাত হতে পারে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ও লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমি থেকে আমন ধান কাটার পরপরই ফসলি জমির মাটি বিক্রি শুরু হয়। আর এসব মাটি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়। এই উপজেলায় ৫০ টি ইটভাটা রয়েছে। -একাধিক কৃষক জানান, ইটভাটায় মাটি সরবরাহের জন্য একশ্রেণির দালাল চক্র গ্রামে গ্রামে এসে কৃষকদের মাটি বিক্রি করতে উৎসাহ দেন, স্বল্পমূল্যে উপরিভাগের মাটি কেটে কিনে নেয়। দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কথা না জেনে সহজ-সরল কৃষকেরা নগদ লাভের আশায় জমির মাটি বিক্রি করেন। কৃষক, দুলাল মিয়া, শরীফ,বেলাল হোসেন,কবির আহমেদ বলেন, আগের মতো এখন ধান উৎপাদন হয় না। ধানি জমির মাটি দিয়ে নিচু জায়গা ভরাট, রাস্তা উঁচু বা নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য কেটে নেওয়া হতো। ওই সময় অনেকে পুকুর কাটার মাটি দিয়ে এসব কাজ করতেন। এখন ইটের ভাটায় মাটির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ফসলি জমির মাটি বেচাকেনা হচ্ছে অহর অহর। আসলে তাঁরা এসব ক্ষতির বিষয়টি জানেন না বলেই মাটি বিক্রি করছেন। সুত্রে আরো জানা যায় ‘অভাবের কারনে কৃষকরা মুনাফার লোভে মাটি বিক্রি করে দিচ্ছে ইট ভাটার মালিকদের কাছে। তারা এসে জমির খেতের উপরিভাগ থেকে দুই ফুট গভীর করে মাটি কেটে নিয়েছে। ইটভাটায় ইট তৈরির জন্য প্রচুর মাটির প্রয়োজন। এ জন্য বর্তমানে মাটির চাহিদা বেড়ে গেছে। এ ছাড়া নতুন নতুন ঘরবাড়ি উঠছে। এই ঘরবাড়ি তৈরিতে মানুষ ভিটি করার জন্য মাটি ব্যবহার করছে। মাটির প্রয়োজন বেড়ে যাওয়ায় কয়েক বছর ধরে মাটির ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠছে। নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী অফিসার দাউদ হোসেন চৌধুরী বলেন,আইন বিরোধী কাজ যে করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ইট ভাটা গুলো চালিয়ে যাচ্ছে। অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা ইট ভাটা গুলো হচ্ছে , দায়েমছাতী বাজার মেসার্স এইচ ইট ভাটা , চৌগুরী মেসার্স চৌধুরী ইট ভাটা , পেরিয়া মেসার্স মিয়াজান ইট ভাটা, ছাতিয়ানী মেসার্স এমরান ইট ভাটা, ছুপুয়া মেসার্স ছানি সায়ান ইট ভাটা, শ্রীহাস্য মেসার্স নিউ আর ইট ভাটা, হাসানপুর মেসার্স সালমা ইট ভাটা, গোহারুয়া মেসার্স সুলতানা রাজিয়া ইট ভাটা, নিশ্চিন্ত পুর মেসার্স ইখয়ান ইট ভাটা, নিশ্চিন্তপুর মেসার্স সেভেন ষ্টার ইট ভাটা, পূজকরা মেসার্স মায়ের দোয়া ইট ভাটা, বদরপুর মেসার্স ইট ভাটা, বোড়রা মেসার্স কাজী ইট ভাটা, দৌলখাড় মেসার্স জরিনা ইট ভাটা, মেসার্স কালাম ইট ভাটা, কাশিপুর মেসার্স মোনায়ারা ইট ভাটা, কান্দাল মেসার্স আমির হোসেন ইট ভাটা, মেসার্স আফসারুন নেছা ইট ভাটা,অলিপুর-মনতলী সড়কে হাজারী ইট ভাটা, মৌকরা আজিজ ইট ভাটা সহআরো অনেক ভাটা রয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল রোববার নাঙ্গলকোট উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল হক জানান, কৃষি জমির টপসয়েল কাটার কারনে জমির উর্বর শক্তি কমে যাবে।এতে ফসল উৎপাদন ব্যাঘাত হবে। জমির শক্তি ফিরে আসতে সময় লাগবে ৩-৪ বছর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*