সততার প্রশ্নে কোনো আপস নয়

সততার প্রশ্নে কোনো আপস নয় – ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান

চৌধুরী

আনোয়ারা  প্রতিনিধি:: ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে পূর্ণমন্ত্রী করে যে সম্মান দিয়েছেন এটি প্রকৃতপক্ষে আনোয়ারা-কর্ণফুলীবাসী ও চট্টগ্রামবাসীর সম্মান। এই সম্মান ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কোন কাজ না করতে তিনি নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, এখন পূর্ণমন্ত্রী। বড় দায়িত্ব মানে বড় পরীক্ষা। গত ৫ বছর প্রধানমন্ত্রী সততার পরীক্ষা নিয়েছেন। আগামী ৫ বছর আরো কঠিন সময়। সুন্দর ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে তিনি সবার কাছে দোয়া চান।

গতকাল শুক্রবার কর্ণফুলী উপজেলার কেইপিজেড গেটে আনোয়ারা-কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবর্ধনায় ভূমিমন্ত্রী অন্তত ৫বার তাঁর নির্বাচনী এলাকা আনোয়ারা-কর্ণফুলীবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর সংসদ সদস্য হিসাবে বিজয় ও মন্ত্রীত্ব তিনি এলাকাবাসীর জন্য উৎসর্গ করেন।
কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে , আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ মালেক ও কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রনির সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক এম আবদুল মান্নান চৌধুরী।
বিশেষ অতিথিদের মাঝে বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শামসুল হক চৌধুরী এমপি, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আবুল কালাম চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি এডভোকেট জসীম উদ্দিন খান, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাতকানিয়া পৌর মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের, দক্ষিণ জেলা যুবলীগ সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান, দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের প্রমুখ। ইতিপূর্বে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বিমানবন্দরে সংবর্ধনা আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়া হলেও জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ
তা ফিরিয়ে দেন। শুক্রবারের সংবর্ধনা বিকাল চারটা থেকে শুরু হলেও জুমার নামাজের পর থেকে মিছিল সহকারে বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা এসে ভিড় জমান। বিকাল পৌনে ৫টার দিকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে সমাবেশস্থলে আসেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।
আসন গ্রহণের অল্প কিছুক্ষণ পরেই বক্তৃতা দিতে দাঁড়ান ভূমিমন্ত্রী। বক্তৃতার শুরুতে তিনি বলেন, আজ আমার বক্তৃতা দেওয়ার ভাষা নেই। যে সম্মান আপনারা আমাকে দিয়েছেন, সে ঋণ কোন দিন শোধ হওয়ার নয়। প্রধানমন্ত্রী আমাকে পূর্ণমন্ত্রী বানিয়ে যে সম্মান দিয়েছেন তা আনোয়ারা-কর্ণফুলীবাসী এবং পুরো চট্টগ্রামবাসীর জন্য উৎসর্গ করলাম।
এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ভোটের সেই দিনগুলোতে আপনারা যেভাবে রাত দিন ভুলে গিয়ে আমার জন্য কাজ করেছেন তার কি কোন প্রতিদান দেয়া যায় ! আপনাদের এই ঋণ, এই ভালবাসা আমি মাথায় তুলে রাখলাম।
তিনি বলেন, এর আগে প্রধানমন্ত্রী আমাকে প্রতিমন্ত্রী বানিয়েছিলেন। সেটা ছিল আমার বাবা মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর প্রতি সম্মান। কারণ দলের জন্য তাঁর যে ত্যাগ ছিল জীবদ্দশায় তাকে মন্ত্রী করতে না পেরে তাঁর ছেলেকে মন্ত্রী করে প্রধানমন্ত্রী সম্মান জানিয়েছিলেন। এরপর ৫ বছর প্রধানমন্ত্রী আমার সততার পরীক্ষা নিয়েছেন। আর কিছু করতে পারি বা না করি আমি বরাবরই সততা ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। প্রধানমন্ত্রী আরো বড় দায়িত্ব দিয়ে পুরসকৃত করেছেন। পূর্ণমন্ত্রী বানিয়েছেন। এটা আনোয়ারা-কর্ণফুলী, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও পুরো চট্টগ্রামের জন্য সম্মান।
চট্টগ্রামের মন্ত্রীরা উন্নয়নে মিলেমিশে কাজ করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে দুইজন মন্ত্রী ও একজন উপমন্ত্রী করা হয়েছে। আমাদের প্রিয় চট্টগ্রামের উন্নয়নে আমরা সবসময় এক হয়ে কাজ করব।
বড় মন্ত্রী বড় দায়িত্ব উল্লেখ করে ভূমিন্ত্রী বলেন, এখন দায়িত্ব যেমন বেড়েছে পরীক্ষাও বড় হয়েছে। আমার নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে বলব ভাবমূতি ক্ষুণ্ন হয়, সম্মান নষ্ট হয় এমন কোন কাজ করবেন না। যে সম্মান প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন সেটা ধরে রাখা আমার, আপনার, আপনাদের সকলের দায়িত্ব। সততার প্রশ্নে কোন আপোষ নেই, ছাড় নেই। আগামী ৫ বছর আরো কঠিন সময়। তাই সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে পথ চলতে হবে।
বিগত ৫ বছর প্রতিমুহূর্তে এলাকাবাসীর পাশে ছিলেন উল্লেখ করে বলেন, ভালকাজে সবসময় আপনাদের পাশে থাকব। আনোয়ারা-কর্ণফুলীবাসী ও চট্টগ্রামবাসীর জন্য আমার দরজা আমার সবসময় খোলা। আপনারা আমার বাবার পাশে ছিলেন, আমার পাশে আছেন, আপনাদের এই ঋণ শোধ করার নয়। উন্নয়ন রাজনীতি সর্বক্ষেত্রে সবাই মিলেমিশে কাজ করে যাব।
উন্নয়ন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সততা আওয়ামী লীগ সরকারের বড় শক্তি দাবি করে ভূমিমন্ত্রী বলেন. প্রধানমন্ত্রীর সততা সারা বিশ্বের মানুষ দেখেছে। এই দেশকে আরো এগিয়ে নিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরো অন্তত ১০/১৫ বছর যেন সুস্থ শরীরে থাকেন সেজন্য আল্লাহর কাছে দোয়া চাই। বাংলার মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে কতটা ভালোবাসে, বিশ্বাস করে সেই প্রমাণ এবারের ভোটে দিয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারী দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মরহুম আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর সুযোগ্য পুত্র সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপিকে সততার পুরস্কার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ভূমি মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রীত্ব উপহার দিয়েছেন। এটা আমাদের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি ও সম্মানের। ভূমিমন্ত্রী জাবেদ বাংলাদেশের যুবসমাজের অহংকার বাংলাদেশের আইডল। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও পটিয়া আসনের এমপি শামশুল হক চৌধুরী বলেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের সর্বপ্রথম পূর্ণ মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদকে পটিয়াবাসীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। বিগত সময়ে তিনি যে সততার পরিচয় দিয়েছেন আগামীতেও সেই সততার ধারণ করে দেশের উন্নয়নে আরো বড় ভূমিকা রাখবেন। এই প্রত্যাশা করি। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমার রাজনীতির গুরু মরহুম বাবু ভাইয়ের সুযোগ্য পুত্র সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপিকে ভূমি মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ায় আনোয়ারা কর্ণফুলী তথা দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এডভোকেট জসীম উদ্দীন খান দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সততার পুরস্কার হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছেন। আপনারা এমন কিছু করবেন না যাতে মন্ত্রী বিব্রত হন। আপনাদের প্রতি অনুরোধ এমন কাজ করবেন যাতে মন্ত্রীর সম্মান বৃদ্ধি হয়। দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাতকানিয়া পৌর মেয়র মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি’র হাতধরে পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রাম উন্নয়নে আরো এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা আমাদের। দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান বলেন, ভূমি মন্ত্রী জাবেদ আমাদের গৌরব ও অহংকার। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে দক্ষিণ চট্টগ্রাম যোজন যোজন এগিয়ে যাবে। এই প্রত্যাশা সকলের। সভাপতি বক্তব্যে কর্ণফুলী উপজেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী বলেন, বিগত দশ বছরে আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারী দক্ষিণ চট্টগ্রামের মাটি মানুষের নেতা প্রয়াত আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু এমপি ও তাঁর সুযোগ্য পুত্র ভূমি মন্ত্রী আলহাজ্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি’র হাত ধরে কর্ণফুলী উপজেলা বাস্তবায়নসহ আনোয়ারা কর্ণফুলীতে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই অঞ্চলের উন্নয়নের ভার ভূমি মন্ত্রীর উপর অর্পণ করলাম। সংবর্ধনা সভায় আনোয়ারা কর্ণফুলী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ছাড়াও দক্ষিণ চট্টগ্রামের শতাধিক নেতা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। গণ সংবর্ধনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিকলীগ, ছাত্রলীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, কৃষক লীগ, ওলামা লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার পেস্টুন নিয়ে যোগদান করেন। সংবর্ধনা সভা শেষে ভূমিমন্ত্রী্ব সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এমপি গতকাল সন্ধ্যায় বটতলী হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহ:) মাজার শরীফ জেয়ারত করেন। এ সময় দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*