কর্ণফুলী উপজেলা, বড়উঠানে সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্্ (কঃ) এর বার্ষিক ওরশ শরীফ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্টিত

কর্ণফুলী উপজেলা, বড়উঠানে সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্্ (কঃ)
এর বার্ষিক ওরশ শরীফ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্টিত
নিজস্ব প্রতিবেদক :পবিত্র ঈদ-এ- মিলাদুন্নবী (সাঃ) ও উপমহাদেশের মাইজভান্ডার দরবার শরীফের আধ্যাত্মিক শরাফতের প্রতিষ্টাতা ও মাইজভান্ডারী তরিকার প্রবর্তক গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী মাওলানা শাহ্্ সূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্্ (কঃ) এর ১১৩ তম ওরশ শরীফ উপলক্ষে “সৈয়দা হোসনে আরা-আলম খান ফাউন্ডেশন’র” ব্যবস্থাপনায় ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোকাম্মেল হক খান আল-মাইজভান্ডারী-এর সভাপতিত্বে কর্ণফুলী উপজেলা, বড়উঠান মৌলভী বাড়ীতে আলোচনা সভা বৃহস্পতিবার রাত্রে অনুষ্টিত হয়। এতে প্রধান মেহমান হিসেবে মাইজভান্ডারী পরিষদে গাউছিয়া ওহাব মনজিলের পীরজাদা মাওলানা শাহ্ছুফি সৈয়দ ইকবাল ফজল আলহাসানী-আল-মাইজভান্ডারী, বিশেষ অতিথি পরিবর্তন চট্টগ্রাম’র সভাপতি ও সাংবাদিক মোহাম্মদ সামশুল হুদা মিন্টু উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক রেজিষ্টার প্রফেসর ডঃ মোহাম্মদ কামরুল হুদা, বিশেষ ওয়ায়েজ ছিলেন বড়উঠান মৌলভী বাড়ী ওয়াইজ বিবি জামে মসজিদের খতিব, মাওলানা মোহাম্মদ সরওয়ার আলম। বড়উঠান ইলিয়াছ খান জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবদুর রহমান, ডাকপাড়া জামে মসজিদ খতিব, মাওলানা গোলাম হোসেন, মুহিবুল্লা খান বাড়ী জামে মসজিদের খতিব, মাওলনা আবু তালেব।
হালকা জিকির সেমা মাহফিল পরিচালনা করেন মোঃ মিনহাজ উদ্দিন খান, মাইজভান্ডারী গান ও কাওয়ালি পরিবেশন করেন মোহাম্মদ হোসেন আমেরী ও সোহরাফ হোসেন খান । আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ঠ লেখক ও শিক্ষক সৈয়দ আবুল ফারাহ, পরিবর্তন চট্টগ্রাম’র সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক এহছানুল আল কুতুবী, ব্যাংক কর্মকর্তা শাফায়েত আহমদ শাকিল, হাফেজ মুহাম্মদ তনজির হোসাইন, শিক্ষার্থী জামেয়া আহম্মদীয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্্রাসা। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন, ফাউন্ডেশন’র ভাইচ-চেয়ারাম্যান মোহাম্মদ গোলাম ফারুক, ফাউন্ডেশন’র সচিব মোঃ রেজাউল হক খান, ফাউন্ডেশন’র উপদেষ্টা ও ব্যাংকার কর্মকর্তা আলহাজ্ব মোহাম্মদ জিয়াউল হক খান, দক্ষিন জেলা আওয়ামীলীগ নেতা কায়সারউজ্জামান খান ফারুক, কর্ণফুলি উপজেলার আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফাউন্ডেশন’র উপদেষ্টা মোঃ মেজবাহ উদ্দিন খান, ইউপি মেম্বার সাজ্জাদ হোসেন খান সুমন, এরশাদ উল্লাহ খান, মাওলানা নেজাম উদ্দিন খান, মোঃ মিজানুল হক খান, ইফতেখারুল হক খান, মোঃ মফিজুর রহমান চৌধুরী, আইটি বিশেষজ্ঞ সহিদুজ্জামান চৌধুরী রাশেল, ব্যাংকার এহতেশামুল হক খান, মাইমুনুল ইমলাম খান, তৌফিক আহসান বায়জীদ, সহিদুল আজম, মনিরুল আজিম, মোঃ তানবির হাসান,

প্রধান অতিথি হিসেবে পীরজাদা মাওলানা শাহ্ছুফি সৈয়দ ইকবাল ফজল আলহাসানী বলেন- মানব জাতিকে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জ্বতের প্রেম-প্রীতিতে উদ্বুদ্ধ করে তাঁর মিলন পথে পৌছিয়ে দেওয়ার জন্য বেলায়তের দ্বার উন্মুক্ত করেন, খোলাফায়ে রাশেদীনর পর হতে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করে যুগে যুগে এই সমস্ত বেলায়েত প্রাপ্ত আউলিয়া কেরামগণই কোরআন ও হাদিসে পাকের মর্মবাণী প্রচার ও প্রতিফলন করে আসছেন এই মহান ব্যক্তি গাউছুল আজম শাহে দো আলম , রহুল আশেকীন, ছেরাজুল সালেকীন মাওলানা শাহ্্ সূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্্ প্রকাশ হযরত কেবলা (কঃ) মাইজভান্ডারী। তিনি আরো বলেন দেয়াং পাহাড়সহ সাড়া দেশের অলি আল্লাহ নিদর্শন সংরক্ষণ ও পবিত্রতা রক্ষার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান এবং মাইজভান্ডারী আধ্যাত্মিক রিসার্চ সেন্টার করার দাবীতে গনস্বাক্ষরের স্বাক্ষার করেন। তিনি উপস্থিত সকলকে ১০ মাঘ, মাইজভান্ডার দরবার শরীফে আমন্ত্রণ জানান।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার প্রফেসর ডঃ মোহাম্মদ কামরুল হুদা বলেন- জগতে শান্তি ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করার জন্য যুগে যুগে নবী-রাসুল ও আউলিয়ায়ে কেরামের আগমন ঘটেছে। ইসলাম নির্দেশিত শান্তির পথ থেকে বিচ্যুতি ও গোষ্ঠীগত আধিপত্য প্রতিষ্ঠার রেশ থেকে সমগ্র বিশ্বে আজ হানাহানি, সংঘাত, জঙ্গিবাদ বেহায়াপনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আল্লাহ পাকের মনোনীত ও নৈকট্যধন্য আউলিয়ায়ে কেরামই মানবজাতির পথ প্রদর্শক। তাঁদের স্মরণের পাশাপাশি অনুসরণের মধ্যেই রয়েছে আল্লাহ পাকের সন্তুষ্টি ও প্রিয় নবীজী (দ.) নৈকট্য। শাহ্্ সূফী সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্্ (কঃ) এর মতো মহান দ্বীনি সংস্কারক ও আধ্যাত্মিক মনীষীদের স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করে আমরা মনজিলে মকসুদে পৌঁছার পথ সুগম ও নিশ্চিত করতে পারি। তিনি যুবসমাজ বিশেষ করে ছাত্রদেরকে এ সকল মাহফিলে অংশ গ্রহণ করে দ্বীনি শিক্ষায় উজ্জ্বীবিত হয়ে সুন্দর জীবন গড়ার পরামর্শ দেন।

সৈয়দা হোসনে আরা-আলম খান ফাউন্ডেশন’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোকাম্মেল হক খান আল-মাইজভান্ডারী সভাপতির বলেন- বিশ্ব অলি শাহানশাহ্ জিয়াউল হক মাইজভান্ডারি বাণী দিয়ে শুরু করেন। হালাল খাও, নামাজ পড়ো, আল্লাহ আল্লাহ জিকির কর। সব সমস্যা মিটে যাবে। আল্লাহর ওলীগণ আমাদের আধ্যাত্মিক দিশারী। তিনি অলি আল্লাহ’র চারন ভুমি খ্যাত চট্টগ্রাম’র ঐতিহাসিক দেয়াং পাহাড়ে আউলিয়াদের নিদর্শন সংরক্ষনের ইপিজেড আনোয়ারা কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানাছেন। দেয়াং অঞ্চলে বার আউলিয়াসহ অসংখ্য আউলিয়া ইসলাম প্রচার করতে আসেন। তাঁদের অন্যতম হল হযরত বদর শাহ্ (কঃ), হযরত মওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভান্ডারী (রাঃ) (প্রকাশ বাবা ভান্ডারী ) ও হযরত বাবা ভান্ডরী কেবলার সহোদর হযরত মওলানা সৈয়দ আবদুল ওহাব মাইজভান্ডারী (রাঃ)। বর্তমানে হযরত বদর শাহ্ (কঃ) যে আস্থানা শরীফ রয়েছে তার নিকটবর্তী ৩০০ গজ উত্তরে পুরতান যে বটবৃক্ষ রয়েছে সেখানে ১৮৯৮ ইং সালে কোন এক সময় চট্টগ্রাম’র ফটিকছড়ি মাইজভান্ডার দরবার শরীফের প্রাণপুরুষ গাউছুল আজম হযরত মওলানা সৈয়দ গোলামুর রহমান মাইজভান্ডারী (রাঃ) (প্রকাশ বাবা ভান্ডারী) দীর্ঘদিন ধ্যান মগ্ন ও বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনাবলীর অন্যতম স্থান। আধ্যাত্মিক ও বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনাবলীর কারণে দূর দূরান্ত থেকে অনেক ভক্তগণ ঐ স্থানে জিয়ারতের উদ্দেশ্য আসেন। বর্তমানে এই স্থানটি কোরিয়ান ইপিজেড সংরক্ষিত এলাকা হওয়ায় ভক্তদের জিয়ারতের ক্ষেত্রে বিঘœ ও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। শান্তি প্রিয় ভক্তগণ, জনসাধারনের প্রবেশ অধিকার রক্ষার্তে ঐ পবিত্র স্থানটি সকল সম্প্রদায়ের জন্য উম্মুক্ত রাখা এবং ঐ স্থান বিভিন্ন অলৌকিক ঘটনাবলীর স্থানটি সংরক্ষণ, মসজিদ এবং মাইজভান্ডারী আধ্যাত্মিক রিসার্চ সেন্টার করার দাবী জানাচ্ছে।
সাংবাদিক মোহাম্মদ সামশুল হুদা মিন্টু বলেন- ইসলামের নামে যারা ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টি করে তারা প্রকৃত মুসলমান নয়। নবী ওলীগণের প্রদর্শিত পথই ইসলামের মূলধারা। সুন্নি মতাদর্শে বিশ্বাসী সুফিবাদী চেতনাধারাই ইসলামের সত্যিকার পথের উপর প্রতিষ্ঠিত। কোরআন খতম, মিলাদ মাহ্্ফিল, জিকির সেমা মাহ্্ফিল, সকল মানব জাতির মঙ্গল ও কল্যাণের জন্য মোনাজাত করেন ও নেয়াজ তবরুক বিতরণ মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*