চট্টল বীরের ত্যাগের মূল্যায়ন শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল

চট্টল বীরের ত্যাগের মূল্যায়ন শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল
লায়ন ডাঃ বরুণ কুমার আচার্য বলাই
বার আউলিয়ার পূণ্যভূমি চট্টগ্রাম। এই চট্টগ্রামকে বীর প্রসবনী চট্টগ্রামও বলা হয়। ইতিহাসের কিংবদন্তী অনেক বীরের জন্ম এই চট্টগ্রামে। যাঁদের বীরত্বগাঁথা অমর কৃতিত্ব ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই হয়েছে। তেমনি একটি জীবন একটি ইতিহাস ও সেই ইতিহাসের স্তম্ভের নাম এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। যিনি তাঁর জীবনের ৭৪ বছরের সংগ্রাম মুখর পথচলায় ছিলেন চট্টগ্রাম নগরীর নগর পিতা ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতির দায়িত্বে। এ রাজনৈতিক নেতার জীবন ছিল নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতায় ভরপুর। সব বাধাকে জয় করে যিনি হয়েছিলেন জনমানুষের নন্দিত নেতা। পেয়েছেন চট্টল বীরের খেতাব।
বঙ্গবন্ধুর খুবই কাছের আদরের ছাত্রনেতা ছিলেন মহিউদ্দিন। কিন্তু তৎকালীন সময়ে প্রবল ক্ষমতাশীল হয়েও ক্ষমতার মোহ স্পর্শ করেনি তাঁকে। মহিউদ্দিন চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রতিবাদে ভূমিকা ও একাধিকবার কারাবরণ করেন। তখনকার সময়ে আওয়ামীলীগের ভেতরেই ষড়যন্ত্রকারীরা তৎপর হয়ে উঠেছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যা আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকাকে নগন্য করতে তাঁকে ঠেকাতে শত্র“রা উঠে পড়ে বসল। অদম্য সাহসী মহিউদ্দিন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় গিয়ে দলবল নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লেন। সব বাধা অতিক্রম করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দলের কান্ডারীর দায়িত্ব নিতে সহায়তা করলের।
ওয়ান ইলেভেনের সময় মহিউদ্দিন চৌধুরীকে রাজনীতি ছাড়তে চাপ দেওয়া হয়। তিনি নতি স্বীকার করেননি। তিনি কারাবন্দী থাকা অবস্থায় তাঁর মেয়ে টুম্পা মারা যান। এত কষ্ট পেয়েও তিনি কখনো চট্টগ্রাম ছেড়ে যাননি। চট্টগ্রামবাসীকে ভালবেসেই তিনি সারাজীবন রাজনীতি করেছেন। অনেক অবদানের স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি চট্টগ্রামবাসীদের জন্য। একান্নবইয়ের ঘূর্ণিঝড়ে দুস্থ জনতার পাশে দাঁড়িয়ে। অসহযোগ আন্দোলনে খালেদা সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে, গরীব দুঃখী শ্রমিকের অধিকারের কথা বলে চট্টগ্রামবাসীর মহিরূহে পরিণত হন মহিউদ্দিন চৌধুরী। তাঁর এই আত্মত্যাগ ও বিসর্জনের প্রতিদান হিসাবে দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ লাভ করেন তাঁরই যোগ্য উত্তরাধীকারী ছেলে মহিবুল হাসান চৌধুরী। ২০১০ সালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে বাবা মহিউদ্দিনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নেন তিনি। তখনই প্রথম রাজনীতির মাঠে সক্রিয় দেখা যায় লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্স থেকে øাতক করা এই মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে। ২০১০ সালে বাবা মহিউদ্দিন চৌধুরীর পদাঙ্ক অনুসরণ করে রাজনীতিবিদ হওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল ২০১৮ সালে ঘোষিত নগর কমিটর ৭১ সদস্যর নির্বাহী সদস্য। তিনি ঢাকা বারের আইনজীবি ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিরও সদস্য। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা উপমন্ত্রী। জাতি গঠনের প্রথম সোপান হল শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সেই জাতি ততবেশি উন্নত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শিক্ষাকে সব থেকে বেশী গুরুত্ব দিয়েছিলেন। সংবিধানে শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। শিক্ষার মাধ্যমে জাতিকে উন্নত করতে চেয়েছিলেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর শাসনামলে শিক্ষিত জাতি তৈরি করতে ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়াতে নানান পদক্ষেপ নিয়ে কাজ করছেন। এই পদক্ষেপে যুক্ত করেছেন ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এর মতো দক্ষ কান্ডারীকে। মন্ত্রী সভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী হিসেবে নওফেলকে যুক্ত করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। উন্নয়নের দূর্বার গতিতে দেশ এগিয়ে চলছে। শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পরা ঠেকাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১ কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমানে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে। অর্থনৈতিকভাবে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলেই শিক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ স্কুলের বাইরে থাকা শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা। বিশেষ করে বস্তিবাসী শিশুদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা। দরিদ্রতার কারণে ৫০ লাখেরও বেশি শিশু স্কুলের বাহিরে রয়ে গেছে। এদের বড় অংশ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ও শহরের বস্তিগুলোতে। তাঁদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত করতে বিশেষ পদক্ষেপ নিবেন মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। বিশ্বের সঙ্গে তালমিলিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুবিন্যস্ত ও আধুনিকায়ন করবেন। শিক্ষিত জাতি তৈরীর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণার বাস্তবায়নে যে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তিনি সেভাবেই এগিয়ে যাবেন। এই দায়িত্বই তিনি যথাযথ পালনের মাধ্যমে কর্মনিষ্ঠার পরিচয় দিবেন। আমাদের বীরপুত্র চট্টগ্রামের মুখ উজ্জ্বল করবেন, চট্টগ্রামবাসী সেই প্রত্যাশা রাখেন। পরিশেষে তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্থ্যতা কামনা করছি।
লেখক: প্রাবন্ধিক, মরমী গবেষক ও বহু গ্রন্থপ্রনেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*