শার্শার উদ্ভাবক মিজানের নতুন আবিস্কার আসছে-সাড়া ফেলবে সারা বাংলায়

শার্শার উদ্ভাবক মিজানের নতুন আবিস্কার আসছে-সাড়া ফেলবে সারা বাংলায়

মোঃ আয়ুব হোসেন পক্ষী,বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার তৃনমুল থেকে উঠে আসা মটর ম্যাকানিক উদ্ভাবক মিজান। পরিবেশের জন্য, সাধারণ মানুষের জন্য তার অনেক ভাবনা যা তাকে ঘুমাতে দেয় না। রাতের গভীর অন্ধকারে দুচোখ বুঝলেই যার তীক্ষ্ণ মস্তিস্কে ভেসে আসে নতুন কিছু করার চিন্তা ভাবনা। একে একে যার সৃষ্ট উদ্ভাবনায় তিনি বাংলার অলিতে গলিতে সাধারণ মানুষের কাছে হয়েছেন বিজ্ঞানী সেই মটর ম্যাকানিকের মনের মাঝে পরিবেশ নিয়ে জেগেছে নতুন নতুন সব চিন্তা ভাবনা। ২০১৭ তে সর্বশেষ তিনি আবিস্কার করেছেন পরিবশে বান্ধব এমনি এক যন্ত্র যা মানুষের মাঝে আবারো এক বিস্ময় হয়ে থাকবে। তার এ আবিস্কারে পরিবেশ ও ধুমপায়ীদের মাঝে এক বিশাল অন্তরঙ্গ সম্পর্ক রয়েছে বলে জানান উদ্ভাবক মিজান। কিন্তু কি এমন যন্ত্র.? সেটা সম্পর্কে জানতে চাইলে মিজান দৈনিক যশোরকে জানান, ধুমপান ও পরিবেশ সচেতনতা যন্ত্র এটি। এই যন্ত্রটি জলন্ত সিগারেটের সম্পূর্ন ধোঁয়া শোষন করে এর কুফল বর্ণনা করে দেয়। তিনি বলেন খোলা পরিবেশের মধ্যে একজন ধুমপায়ী সিগারেটের কতটা ধোঁয়া শোষন করে এবং কতটা বাহিরে ছাড়ে এবং কিভাবে তার জন্য পরিবেশের কতটা ক্ষতি হতে পারে এসকল চিন্তা ভাবনার কথা মাথায় নিয়েই তিনি এই বিস্ময় আবিস্কারটি করেছেন। ৫জনু ২০১৭ তে আন্তর্জাতিক পরিবেশ দিবসে এই বিস্ময় যন্ত্রটি উপস্থাপনের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ আবিস্কারক/শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবকের সীকৃতি লাভ করেন যার জাতীয় সম্মাননা সনদ ০৮ জুন আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার মাঠে মিজানের হাতে তুলে দেন আন্তর্জাতিক পরিবেশ অধিদপ্তরের মহা পরিচালক রইছুল আলম মন্ডল। শুধু তাই না এই পরিবেশ বান্ধব যন্ত্রটি দেখার পরে ওই মেলা থেকেই অনেক ধুমপায়ী ধুমপান ত্যাগ করে বলে জানান মিজান। উদ্ভাবক মিজানের জন্য গর্বিত শুধু শার্শা বাসী তা নয় সারা বাংলা গর্বিত তার জন্য। উদ্ভাবক মিজানের প্রথম শখ কি ? জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিবেশের সুরক্ষায় কাজ করাই আমার একমাত্র শখ। তাইতো তিনি নিজের বানানো মটর কারে গড়ে তুলেছেন ভ্রাম্যমান নার্সারী। গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে তিনি পরিবেশ বান্ধব বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কম মুল্যে বিক্রি করে বেড়ান। কখনও কখনও তিনি বিভিন্ন মানুষের কাছে বিভিন্ন স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় বিনামুল্যে গাছের চারা পরিবেশন করে থাকেন। সকালে উঠেই তিনি ছুটে চলেন এই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গঞ্জে হাটে বাজারে ছুটে চলেন তার উদ্ভাবনায় তৈরী মটর কার যেটাকে বলা হয় পরিবেশ বান্ধব নার্সারী। সারাদিন তিনি কম মুল্যে গাছের চারা বিক্রি এবং ফ্রিতে সেবা দিয়ে মনের বাসনা পুরণ করেন। এভাবে চলতে থাকে মিজানের সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। আর রাতে তিনি কল্পনায় ডুবে যান নতুন নতুন উদ্ভাবনার চিন্তা নিয়ে। উদ্ভাবক মিজানের বর্তমান জীবন ও তার উদ্ভাবনার বিষয় নিয়ে বলে শেষ করা যাবে না। কত কিছু তৈরী বা উদ্ভাবন করেছেন ইতোমধ্যে বাংলার সকল শ্রেণির মানুষের কাছে নতুন করে বলার অবকাশ রাখেনা। সর্বশেষ উদ্ভাবক মিজান বিষ্ময় ঘটান তার এক বিষ্ময়কর যন্ত্র আবিস্কার করে। আর তা এত পরিমান সাড়া ফেলে তাই দেখে মিজানের মস্তিস্কের উদ্ভাবন চিন্তা ভাবনা আরো বেড়ে যায়। সারা দেশে যখন পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে তখনি তিনি ভাবনায় পড়ে যান কিভাবে তা রোধ করা সম্ভব। দীর্ঘ চেষ্টার ফলে তিনি আবিস্কার করেন সেই যন্ত্রটি যার মাধ্যমে শিশু মৃত্যুর হার কমে আসবে অধিকাংশ হারে। কি এমন যন্ত্র..? জানতে চাইলে মিজান বলেন, এই যন্ত্রটি অতি ক্ষুদ্র মাদলীর মতো প্রতিটি শিশুর কোমরে এই ক্ষুদ্র যন্ত্রটি বাঁধা থাকলে ঐ শিশুটি পানির স্পর্শে গেলেই বাড়িতে থাকা এলার্ম যন্ত্রটি বেজে উঠবে এবং শিশুটির পরিবার তাকে তাতক্ষণাত ভাবে উদ্ধার করতে সক্ষম হবে। আর এই ভাবে শিশু মৃত্যু ক্রমেই কমে আসবে। এই ভাবে মিজানের দিনের পর দিন উদ্ভাবনার পাল্লা ভারী হচ্ছে। তার পরবর্তী গবেষনায় উঠে আসছে আত্মহত্যা থেকে কিভাবে বাঁচানো যায় সেই যন্ত্রটি নিয়ে। মিজান জানান, প্রতিনিয়ত দেখতে পায় আত্মহত্যার লাইন দীর্ঘ হচ্ছে আমি এমন একটি যন্ত্র আবিস্কারের চিন্তা ভাবনায় আছি যে যন্তটি সব শ্রেণির মানুষকে আত্মহত্যা থেকে প্রতিরোধ করবে। যা তৈরী ইতো মধ্যে অনেকাংশই শেষ হয়েছে এবং খুব শঘ্রিয় তা প্রকাশ করবো। আশাকরি এই আত্মহত্যা প্রতিরোধ যন্ত্রটিও সাড়া ফেরবে সারা বাংলায়। এই যন্ত্রটি ছাড়াও আরো কয়েকটি নতুন নতুন যন্ত্র আবিস্কারের কথা জানায় শার্শা উপজেলার গর্বীত কৃতি সন্তান উদ্ভাবক মিজান। যা সমাজ পরিবেশ এবং মানুষের জন্য বড় ধরনের প্রেরণা স্বরুপ। উদ্ভাবক মিজান যশোরের শার্শা উপজেলার শ্যামলাগাছী গ্রামের আক্কাচ আলী মোড়লের ছেলে। তার বিষ্ময়কর সব উদ্ভাবনায় গর্বিত শার্শাবাসী গর্বিত বাংলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*