খলিাফায়ে গাউছুল আজম মাইজভা-ারী হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ)

খলিাফায়ে গাউছুল আজম মাইজভা-ারী
হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ)

রফিক তালুকদার

মাননীয় শাহনগরী আউলিয়া প্রধান
ওলমা দফতরে আরো গৌরব তাঁহান।
লাভের বাণিজ্যতরে আসা যাওয়া মাইজভাণ্ডারে
না বুঝিয়া নিন্দা করে এখওয়ানু শয়তান।
সৈয়দ মোছাহেব উদ্দিন কাজী সাহেব তাঁর প্রেমতরণী বইতে খলিাফায়ে গাউছুল আজম মাইজভা-ারী হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ) এর শানে এভাবে গূনকীর্তন করেন। হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ) একজন মহান অলি এবং হযরত গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী(কঃ) ও হযরত বাবা ভণ্ডারীর(কঃ) কেবলা কাবার উল্লেখযোগ্য খলিফাদের মধ্যে একজন। হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ) হুজুরের পূর্ব পুরুষ গন অষ্টাদশ শতকের শুরুতে সূদুর আরবস্থান থেকে এসে ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর গ্রামে স্থায়ী বসবাস শুরু করেন। হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ) ১৮৫৫ সালে জন্মগ্রহন করেন।তার পিতার নাম মওলানা করিম উদ্দিন । হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ) শৈশব হতে অত্যান্ত মেধাবী ছিলেন।এলমে দ্বীনের সর্বোচ্চ ডিগ্রী অর্জন করার পর মাইজভণ্ডার দরবার শরীফের মহান আধ্যাত্বিক সাধক হযরত গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভণ্ডারী(কঃ),হযরত গোলামুর রহমান বাবা ভণ্ডারী(কঃ) ও হযরত আমিনুল হক ওয়াছেল মাইজভণ্ডারী(কঃ) এর সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করে মহান অলীয়ে মকামে অধিষ্ঠিত হন। তিনি মহান প্রভুর মিলন প্রত্যাশায় করেন সংসার মায়াহীন সাধনা।সাধনার উচ্চ পর্যায়ে তিনি পশ্চিম পাহাড়ের গহীন অরন্যে গমন করেন তিনি।এ সময় তিনি ধলই ও ফরহাদাবাদ ইউনিয়নে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। এ সময় হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ) হুজুরের সাথে ছিলেন খলিফায়ে মাইজভণ্ডারী হযরত আমিনুল হক ফরহাদাবাদী(রহঃ) ও হযরত মওলানা রহম আলী শাহ(রহঃ)।সেখানে তারা এ চৈতনী চামারানীর ঘরে বাস করতেন।রাতের বেলায় সারা গ্রাম ঘুরে বেড়াতেন।দিনের বেলায় ঘুমাতেন।এভাবে তারাঁ সেখানে দীর্ঘ ১৩ বছর কাটান।পরবর্তী হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ) লেলাং,সুন্দরপুর,ধুরূং,রাঙ্গামাঠিয়া,কাঞ্চননগর,গোপালঘাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ান।এ সময় তারঁ অনেক কারামত ও প্রকাশ পায়। হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ) এর অসংখ্য কারামত লোকমুখে রটিত আছে। কয়েকটি কারামত তুলে ধরা হল, একদিন ফটিকছড়ি ফাজিল মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা হযরত মওলানা আমান উল্লাহ (রহঃ) হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ) এর পিছনে যাচ্ছিলেন পথিমধ্যে হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ)হুজুর পায়খানা হাজত করেন।পরে তিনি আমান উল্লাহ সাহেবকে পানি ঢেলে পরিস্কার করে দিতে বলেন।সাথে সাথে আমান উল্লাহ সাহেব নিজ হাত পরিস্কার করে দেওয়ার সময় জনৈক মুন্সি নামের এক ব্যক্তি বলে উঠলেন আপনি এত বড় একজন মওলানা সাহেব হয়ে একজন পাগলকে এই কি করছেন।আমান উল্লাহ সাহেব ঐ ব্যক্তিকে ইশরায় চুপ থাকতে বলেন। হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ) বলে উঠলেন মানুষ পায়খানা করলেও মরে না করলে ও মরে।আমান উল্লাহ সাহেব আপসোস করে বলে উঠলেন তোমাকে আর বাচাঁনো গেল না।বন্দুকের নল থেকে বুলেট ছুটে গেল।পরে মুন্সি নামের ঐ ব্যক্তি ঘরে গিয়ে পেটের অসুখে মারা যায়।হযরত আমিনুল হক ফরহাদাবাদী(রহঃ) এর এক মেয়ের বিয়ের দিন শাহনগরী (রহঃ) হুজুর উপস্থিত হয়ে রান্নার তত্ত্বাবধানে থাকা জৈনক কালা মিয়া মষ্টারকে গিয়ে বলেন রান্না করা মূরগি(স্থানীয় ভাষায় মোচনমান) দিতে বলেন।কালা মিয়া মষ্টার বলেন,মামা সাহেব আমি ফরহাদাবাদী(রহঃ) হুজুরের অনুমতি ছাড়া দিতে পারবনা। হযরত শাহনগরী(রহঃ) হুজুর রাগন্বিত হয়ে চলে যাচ্ছিলেন।এদিকে সাথে সাথে আগুন ধরে যায় হযরত ফরহাদাবাদী(রহঃ) হুজুর দৌড়ে আসলেন এবং বললেন এখানে কেউ এসেছেন।হযরত শাহনগরী (রহঃ)হুজুর আসার কথা বললেন।কোন দিকে গেছে জিজ্ঞেস করে হযরত ফরহাদাবাদী(রহঃ) হুজুর দৌড়ে গিয়ে শাহনগরী হুজুরের রাগ ভাঙ্গিয়ে নিয়ে আসলেন,এবং রান্না করা মূরগী দিলেন,শাহনগরী হুজুর গরম গরম রান্না করা মূরগীগুলো পিঠের উপর নিয়ে চলে গেলেন,সবাই অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন,ফরহাদাবাদী হুজুর বললেন উনি হচ্ছেন আমার আসল মেহেমান,গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর(কঃ) পক্ষে এসেছেন। সফিনগর এলাকায় কলেরা রোগে শত শত লোক মারা যাচ্ছিল।একদিন হযরত আমিনুল হক ফরহাদাবাদী(রহঃ) হুজুর এক সাথে ২২ জন কলেরা রোগী মৃতে্যুবরনকারী ব্যাক্তির জানাযা পড়িয়ে আসলে হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ)হুজুর হঠাৎ একটি ছাগল ধরে নিয়ে এসে হযরত আমিনুল হক ফরহাদাবাদী(রহঃ)হুজুরকে বলেন,মামা হালাল করে দিন।সাথে সাথে জবাই করে দিলেন। পরে ছাগলের মালিক এসে ছাগলের দাম চাইলে হযরত আমিনুল হক ফরহাদাবাদী(রহঃ)হুজুর টাকা দিলেন, হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ)হুজুর বাধাঁ দিলে ছাগলের মালিক না শোনে টাকা নিয়ে চলে গেলেন।ঘরে গিয়ে দেখতে পেলেন,তার ঘরের তিন সদস্য কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতে্যুবরন করেন।এতে তিনি তার ভুল বুঝতে পারলেন।সাথে সাথে এসে ক্ষমা চাইলেন।এবং উক্ত এলাকায় একটি মসজিদ নির্মান করে মিলাদ মাহফিল ও জিকিরে ছেমা মাহফিলের মাধ্যমে ঐ এলাকা কলেরা মুক্ত হয়। শাহনগরী হুজুরের ফজু নামের জনৈক ভক্ত মৃত্যেবরন করেন।জানাজা নামাজ পড়ার জন্য হযরত ফরহাদাবাদী(রহঃ) হুজুরকে নিয়ে যাওয়া হয়।অনেকে ঐ ব্যক্তির শরীয়তের আমল নিয়ে নানা মন্তব্য করছে এবং হযরত ফরহাদাবাদী (রহঃ)হুজুরকে জানাজা না পড়ার জন্য বলছে।এমন সময় হাজীর হন হযরত শাহনগরী(রহঃ)হুজুর, তিনি হযরত ফরহাদাবদী(রহঃ) হুজুরকে বলেন মামা সাহেব মৃত ব্যক্তির নাম আপনার বালামে লিপিবদ্ধ করুন।হযরত ফরহাদাবাদী (রহঃ)হুজুর নীরব রইলেন,হযরত শাহনগরী(রহঃ)হুজুর আবারও জিজ্ঞেস করলেন মৃত ব্যক্তির নাম লিপিবদ্ধ হয়েছে কিনা।হযরত ফরহাদাবাদী(রহঃ)হুজুর উত্তরে বললেন লিপিবদ্ধ করা হয়েছে এবং বললেন মৃত ব্যক্তিকে একেবারে জান্নাতে পৌছেঁ দেওয়া হয়েছে।শোনার সাথে সাথে হযরত শাহনগরী(রহঃ) হুজুর চলে গেলেন।উপস্থিত লোকজন তাদেঁর কথার ভেদ বুঝতে পারলেন না।জানাজা শেষে মৃত চেহেরা দেখে সকলে আশ্চার্য হয়ে গেল।কারন মৃত ব্যক্তি চেহেরা অত্যাধিক সুন্দর হয়ে গেল।সকলে বলাবলি করতে লাগল লোকটি এমন কি আমল করেছে যে তাহার চেহেরা এত সুন্দর হয়ে গেল।হযরত ফরহাদাবাদী(রহঃ) হুজুর বললেন লোকটি শাহনগরী সাহেবের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিল।লেলাং ইউনিয়নের মেহের আলী স্ত্রীর বাড়ির জনৈক মহিলা হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ) হুযুরকে খুব ভালবাসতেন।তাই তিনি প্রতিদিন হুজুরকে ওজুর পানি দিতেন।একদিন ওজুর পানি নিয়ে যাবার সময় লালপুল নামক স্থানে কিছ দুষ্ট প্রকৃতির লোক ওই মহিলাকে উক্তত্য করতে থাকে।তখন ওই মহিলা হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রাঃ)কে স্মরন করার সাথে সাথে লোকগুলো অন্ধ হয়ে যায়।শাহাজাদা মাষ্টার ছৈয়দ মোহাম্মদ ইকবাল বলেন,শাহনগর গ্রামের করম আলী মিস্ত্রী বাড়ির আলী হোসেন নামক ব্যক্তির ঘরে হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ) অবস্থান করার সময় হঠাৎ আম খেতে চাইলেন। তারা বলল হুজুর আম কোথায় পাব এখনতো আমের সময় না।সাথে সাথে হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ) বললেন আছে আছে খুঁজে দেখ।সবাই খুঁজতে খুঁজতে অবশেষে ঘরের কোণে ঝুড়ির ভিতর আম পেলেন যা ছিল সম্পূর্ণ পাকা।সবাই অবাক হল কারন তখন ছিল অগ্রহায়ন মাস।আম খাওয়ার পর হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ) সেখান থেকে বিদায় নিলেন।
এভাবে আরো অনেক কারামত প্রকাশ পায় যা এখনো লোকমুখে শোনা যায় । হযরত মওলানা রিজুয়ান উদ্দিন শাহনগরী (রহঃ) ১৯২৩ সাল হতে ৯ মাঘ তারঁ পীর মুর্শিদ হযরত গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভণ্ডারী(কঃ) এর ওরশ শরীফ উদযাপন করতেন।পরদিন ১০ মাঘ আশেক ভক্তদেও নিয়ে মাইজভাণ্ডার শরীফ চলে আসতেন।আশেক ভক্তদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে ১৯২৮ সালে ১০ আশ্বিন ১৩৩৫ বাংলা তারিখে তিনি ৭৩ বছর বয়সে এ ধরাধাম ত্যাগ করে মহান প্রভুর সাথে মিলিত হন।হযরত কেবলা আলম(কঃ) ও হযরত রিজুয়ান উদ্দিন শাহ নগরী(রহঃ) স্মরনে প্রতি বছর ১৫ মাঘ বার্ষিক ওরশ শরীফ উদযাপন করা হয়।রিজুয়ানীয়া আলম মনজিলের সাজ্জাদানশীন মরহুম ছৈয়দ নুরুল আলম শাহ এর পুত্রগন সে দরবারের খেদমত করে যাচ্ছেন।তাঁদের সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে আশেকানে গাউছিয়া হক ভাণ্ডারী গোফালঘাটা শাখার কর্মকর্তা ও সদস্যগন ওরশ শরীফ ও উক্ত মনজিলের অনুষ্ঠাদিসমূহ পরিচালনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*