“মানুষের জন্য কাজ করতে চাই”

“মানুষের জন্য কাজ করতে চাই”

সাক্ষাতকার দিয়েছেনঃ দেলোয়ার হোসেন শাওন-সভাপতি, গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগ

সাক্ষাতকার নিয়েছেঃ শামীম শিকদার

প্রথমে আপনার সম্পর্কে কিছু বলুন?

ব্যাক্তিগতভাবে আমি খুবই আড্ডা প্রিয় একজন মানুষ। আমি বন্ধুদের সাথে আড্ডা বাজি করতে পছন্দ করি। তাছাড়া ক্রিকেট ও দাবা আমার অনেক পছন্দের খেলা। তার পাশাপাশি সবসময়ই চাই মানুষের জন্য কিছু করতে। আর আমাদের যে মূল্যবোধের ঘাটতি সেটা প্রত্যেকটি জায়গায় পরিলক্ষিত হয়, পেশাজীবী থেকে শুরু করে সব জায়গায়। আমি মূল্যবোধকে জাগ্রত করে মানুষকে সেবার মাধ্যমেই এগিয়ে যেতে চাই।

কিভাবে ছাত্রগীলের সাথে যুক্ত হলেন?

আমি প্রত্যক্ষ ভাবে আওয়ামীলীগের হয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনে কাজ করি। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সোহেল তাজ ভাইয়ের কাপাসিয়ার একটি জনসভায় ওনার বক্তব্য শুনে আমি অনুপ্রানিত হই। তাছাড়া পরবর্তী সময়ে ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজে পড়া অবস্থায় ইতিহাস জানার মাধ্যমে জাতির পিতার উদারতা, সাহসিকতা, মানবিক গুনাবলী ও দেশ প্রেম আমাকে আলোড়িত করে। ধারাবাহিক ভাবে কলেজ থেকে মিটিং মিছিলে অংশগ্রহণ করি। সেই সূত্র ধরে ২০১৩ সালের অক্টোবরের ১৩ তারিখে গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের আহবায়ক ও ২০১৫ সালের মে তে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করি। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আপনার অনুভূতি প্রকাশ করুন। অবশ্যই অনেক ভাল লাগে। প্রতিটি স্থানে সম্মানজনক নিজেস্ব একটি অবস্থানে নিজেকে স্বার্থক মনে হয়। তৃনমূলের কর্মীদের ভালবাসা নেতৃত্বে নতুন প্রেরণার সূচনা হয়।

আপনার কোন রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা ছিল?

নিজের শক্ত একটি অবস্থান তৈরি করার আগে দল গঠন নিয়ে অনেক বাধাই ছিল। তাছাড়া ঐ সময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় থাকায় অনেকটা সংঘাতে পড়তে হয়েছিল। তরুণ প্রজন্মের কাছে রাজনীতি মানেই ক্ষমতা ও পরিচিতি। আপনার কাছে রাজনীতি কী? রাজনীতিকে একেক জন একেক রকম ভাবে মনে করে। তবে আমার কাছে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে জনগণের সেবা করাই মূখ্য উদ্দেশ্য। হয়তো এখন ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে অনান্য সিনিয়র নেতাদের তুলনায় গ্রহণযোগ্যতা কম হওয়ায় কাজ করার সুযোগ কম পাই বা অগ্রাধিকারও কম থাকে।

ছাত্ররা কেন রাজনীতি করবে? আপনি কি এর প্রয়োজনীয়তা মনে করেন?

অবশ্যই। রাজনীতির আভিধানিক অর্থ রাজার ন্যায় নীতি। অর্থাৎ প্রজার দুঃখ দুর্দশা দূর করা, ভাগ্য পরিবর্তন করা, উন্নত সেবা করাই রাজনীতির কাজ। তাছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসে, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণ অভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন ৭১ এর যুদ্ধ প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে ছাত্র লীগের অবদান ছিল। আওয়ামীলীগ যদি একটি শরীরের মাথা হয় তাহলে ছাত্রলীগ সেই শরীরের হৃদপিণ্ড। হৃদপিণ্ড যখন স্পন্দিত হবে তখন রক্ত চলাচল করবে, মাথা কাজ করবে। এছাড়াও ছাত্রদের দাবি আদায়ের জন্য ছাত্র সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমি মনে করি। আমাদের সমাজের অসঙ্গতিগুলো দূর করার জন্য ছাত্রদের ভূমিকা অপরিহার্য।

রাজনীতি থেকে সরে গেলে কর্মীদের কতটুকো গ্রহণ করবেন?

সকলেই স্বার্থের জন্য কাজ করে। স্বার্থ উদ্ধার হলে সকল উপকারের কথা ভুলে যায়। আমার কর্মীরা যদি আমাকে গ্রহণ করে তবে আবশ্যই আমিও তাদেরকে গ্রহণ করব।

অনেকেই ছাত্রলীগ করে ছাত্রত্ব হারাচ্ছে। এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কি?

রাজনীতি মানেই শুধু নেতাদের সাথে সময় দেওয়া নয়। নিজেকে শিক্ষিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত করানোর মাধ্যমে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা প্রয়োজন। স্কুল পর্যায়ে যারা ছাত্রলীগ করছে তাদের পড়া-লেখা ঠিক রেখে নেতাদের সাথে সময় দেওয়াকে আমি অবশ্যই সমর্থক করব। তাছাড়া অভিভাবকের ভূমিকাও এখানে প্রাধান্য পায়।

রাজনীতি নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

যদি দল মনে করে আমাকে এর চেয়ে ভাল জায়গায় নিবে তাহলে আমি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। আমি বঙ্গবন্ধুর, শেখ হাসিনার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সারাজীবন রাজনীতি করতে চাই।

আপনি তো আগে খেলাধুলা করতেন; এখনো কি খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ আছে?

(হেসে দিয়ে) খেলাধুলার প্রতি আগ্রহটা এখনো আমার আগের মতোই আছে। এখনো সময় হলে মাঝে মাঝে মাঠে নেমে যাই। আর ক্রিকেট ও দাবা খেলা আমার খুব প্রিয় খেলা। সময়ের অভাবে এখন আর খেলতে পারছি না তবে খেলাধুলাকে খুব মিস করি।

মনে রাখার মতো আপনার শৈশব স্মৃতি বা মজার একটি ঘটনা বলুন।

তখন আমার চর বছর বয়স, বাড়ির কাছে স্কুল বলে নিয়মিত স্কুলে যাই। প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উঠব; বয়স কম তাই আমি পরবনা বলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উঠাতে পরিবারের কেউ রাজি নয়। অবশেষে ৫৬ জনের মধ্যে রোল ২ হয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উঠলাম। তখন চাচা স্কুলে গিয়ে বই সংগ্রহ করে দেয়।

গাজীপুরে জেলায় মাদকের ছড়াছড়ি। সেক্ষেত্রে আপনারা ছাত্রলীগ থেকে কি কোন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন?

ক্ষুদ্র পরিসরে আমরা কাজ করছি। তবে খুব দ্রুত মাদক নিয়ন্ত্রণ ফাউন্ডেশন গঠন করব। যেখানে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা মূখ্য ভূমিকা পালন করবে।

ছাত্রদের জন্য আপনার ব্যক্তিগত কোন পরিকল্পনা রয়েছে?

বীনা বেতনের শিক্ষার্থীদের পড়া লেখার সুযোগ করে দেওয়া। পড়া লেখা শেষ করে কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মে নিয়োযিত হয়ে তাদের বেতন থেকে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট একটি অংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করবে। এতে করে শিক্ষার হার বাড়বে এবং শিক্ষা বানিজ্য বন্ধ পাবে। যদিও বর্তমান সময়ে এটা সম্ভব নয়; তবে অবশ্যই এমন হলে ভাল হতো।

কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান?

শোষণ মুক্ত, দুর্নীতি মুক্ত, সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত, মাদক মুক্ত, শিক্ষা বান্ধব বাংলাদেশ দেখতে চাই। শেখ হাসিনার দরিদ্রমুক্ত ও বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নই আমার প্রত্যাশা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*